গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে তোলা চাওয়ার অভিযোগ ব্লক তৃণমূল সভাপতির - The News Lion

গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে তোলা চাওয়ার অভিযোগ ব্লক তৃণমূল সভাপতির

 


দি নিউজ লায়ন;  গ্রাম পঞ্চায়েত থেকে তোলা চাইছেন ব্লক তৃণমূল সভাপতি। তোলা না দেওয়ায়  সভাপতির বাধায় এলাকার উন্নয়নমূলক কাজ আটকে রয়েছে। আবাস যোজনা সহ বিভিন্ন প্রকল্পে গ্রাম পঞ্চায়েত সদস্যরা কাটমানি চাইছেন বলে একাধিক অভিযোগ রয়েছে। কিন্তু এবার ব্লক তৃণমূল সভাপতির বিরুদ্ধে তোলা চাওয়ার অভিযোগ তুলে গ্রাম পঞ্চায়েতের সামনে বিক্ষোভ দেখালেন গ্রাম পঞ্চায়েতের তৃণমূল সদস্যরা। 


মালদহের হরিশ্চন্দ্রপুর-২ ব্লকের দৌলতনগর গ্রাম পঞ্চায়েতে সোমবার ওই ঘটনাকে ঘিরে তৃণমূলের অন্দরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। প্রায় ঘন্টা দুয়েক ধরে পঞ্চায়েতের সামনে দলের সদস্য ও কর্মীদের একাংশের বিক্ষোভে উত্তেজনা ছড়ায়। দাবিমতো তোলা না দেওয়ায় প্রধানকে নানাভাবে হেনস্থা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। দলের সদস্যদের একাংশ দলেরই ব্লক সভাপতির বিরুদ্ধে কাটমানি চাওয়ার অভিযোগ তুলে তাকে অপসারণের দাবিতে সরব হওয়ায় চরম অস্বস্তিতে পড়েছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। যদিও সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন ব্লক তৃমমূল সভাপতি। 


দৌলতনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের সদস্যদের একাংশের অভিযোগ, বিভিন্ন কাজের জন্য প্রধান সদস্যদের কাছে কমিশন চাইছেন ব্লক তৃণমূল সভাপতি হজরত আলি। কিন্তু তোলা না দেওয়ায় প্রভাব খাটিয়ে তিনি কাজ করতে দিচ্ছেন না। ব্লকে ৯টি গ্রাম পঞ্চায়েত রয়েছে। প্রায় সব পঞ্চায়েত থেকেই তিনি কাটমানি নিচ্ছেন, এমন অভিযোগও উঠেছে। কিন্তু দৌলতনগর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান বা সদস্যরা কাটমানি না দেওয়ায় তিনি নানা ভাবে তাদের হেনস্থা করছেন, প্রধানকে সরানোর চক্রান্ত করছেন বলে অভিযোগ। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে এদিন পঞ্চয়েত বন্ধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন সদস্যরা।


পঞ্চায়েত সদস্য তথা পঞ্চায়েত দলনেতা ষষ্ঠী দেব দাস বলেন,"আমাদের ব্লক সভাপতি বারবার বিভিন্ন কাজের জন্য আমাদের কাছে টাকা চান।আমাদের এবং আমাদের প্রধান কে হেনস্থা করেন।আমরা এখানে সৎ ভাবে পঞ্চায়েত চালাচ্ছি।যেটা উনি মেনে নিতে পারছেন না।তাই রাতের অন্ধকারে মোটা টাকার বিনিময়ে কারোর সঙ্গে আলোচনা না করে অঞ্চল সভাপতি কে পরিবর্তন ।আমরা দলকে সমস্ত অভিযোগ জানিয়েছি।"


প্রাক্তন অঞ্চল সভাপতি তথা বর্তমান অঞ্চলের চেয়ারম্যান আসলাম শেখ বলেন,"উনি আমার কাছে বিভিন্ন সময়ে টাকা চাইতেন।আমি পাত্তা দিতাম না, বলতেন টাকা না দিলে পদ থেকে সরিয়ে দেবেন।ফোনে টাকা নেওয়ার জন্য অন্য দল থেকে আসা দুর্নীতিবাজ নেতৃত্বদের পদে বসিয়েছেন।এই ব্লক সভাপতি কে না সরালে দল বাঁচবে না।এর জন্য জেলা পর্যন্ত গিয়ে বিক্ষোভ দেখাতে হলে আমরা দেখাবো।"


হরিশ্চন্দ্রপুর ২ব্লক সভাপতি মহম্মদ হজরত আলী বলেন,"পঞ্চায়েতের কাজ সম্বন্ধে পঞ্চায়েতে প্রধান এবং সদস্যরা বলতে পারবে।সেই নিয়ে আমি মাথা কেন ঘামাবো।বরং সদস্যরা বেশিরভাগ কেন পঞ্চায়েত প্রধানের বিরুদ্ধে চলে গেছে সেটা প্রধান বলুক।কোথাও কোনো টাকা নিই নি।সমস্ত অভিযোগ ভিত্তিহীন।যাদের স্বার্থে আঘাত লেগেছে তারাই হয়তো অভিযোগ করছে।আমি কেমন কাজ করছি সেটা দল দেখছে।"


এদিকে এই প্রসঙ্গে মালদা জেলা তৃণমূলের সাধারণ সম্পাদক বুলবুল খান বলেন,"ঘটনাটি শুনলাম।এলাকায় গিয়ে অবশ্যই খতিয়ে দেখব।কিন্তু সংবাদ মাধ্যমের দ্বারা দলের সকলকে এটাই বলব কোনরকম সমস্যা হলে আগে সেটা নিজেদের মধ্যে বসে মিটিয়ে নেওয়া উচিত।দলের একটা নিয়ম নীতি আছে।সেটা মেনে চলা উচিত।"


কিছুদিন আগেই তৃতীয়বারের জন্য বাংলায় ক্ষমতায় এসেছে তৃণমূল কংগ্রেস।প্রথমবারের জন্য হরিশ্চন্দ্রপুর বিধানসভায় ফুটেছে ঘাসফুল।কিন্তু তারপরেও থামছে না দলের মধ্যে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব ।যা স্বাভাবিকভাবে শাসক দলের পক্ষে যথেষ্ট অস্বস্তির বিষয় হবে এমনটাই মত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.