ভুয়ো ম্যাজিস্ট্রেটকে খোলা ছুট দিয়ে রেখেছিল বিহার পুলিশ
দি নিউজ লায়ন; ভুয়ো ম্যাজিস্ট্রেটকে খোলা ছুট দিয়ে রেখেছিল বিহার পুলিশ। বিহার পুলিশের খাতায় ধৃত সমীর দুবের নামে পরপর পাঁচটি জালিয়াতির মামলা রুজু থাকার পরও বহাল তবিয়তিতেই কিষানগঞ্জ আদালতে আইনজীবির কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যক্তি। বুধবার শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের হাতেই কিষানগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার হন কিশান্গঞ্জ আদালতের ভুয়ো এডিসন্যাল সেশন জর্জ ও অকশন অফিসার ও তার সাকরেদ ফায়েক আলম।
তার বিরুদ্ধে বিহারের পুলিশের পাঁচটি জালিয়াতির মামলা রুজু রয়েছে। যার মধ্যে কিষানগঞ্জ থানা রয়েছে তিনটি জালিয়াতির মামলা। এরপরও কিশানগঞ্জে নামি আইনজীবী হিসেবের ওকালতির পাশাপাশি প্রতারণা চক্র দিব্য চালিয়ে যাচ্ছিলেন ব্যক্তি। একাধিক প্রতারণা চক্র বিস্তার লাভ করার পরও তার বিরুদ্ধে সেরকম কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বিহার পুলিশ প্রশাসন। আর এই সুযোগেই শিলিগুড়িতে জালিয়াতির শাখা বিস্তার করতে সক্ষম হয় অভিযুক্ত। বুধবার শিলিগুড়ি মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট এই তদন্তকারী আধিকারিকদের টিম কিষানগঞ্জে পৌঁছে তার বাড়িতে হানা দেয়। প্রতারিত তিন ব্যবসায়ীকে এদিন দেখা করতে বলে ওই সমীর দুবে। এক ব্যবসায়ীর জায়গায় গোয়েন্দা বিভাগের তদন্তকারী আধিকারিক ব্যবসায়ির কর্মী ছদ্মবেশে পুরো অভিযান চালায়। কিশানগঞ্জ আদালতের পেছন থেকেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এদিকে শিলিগুড়ি ব্যবসায়ি মুকেশ সিংহলের বাড়িতেও একাধিকবার যাতায়াত করেছিলেন তিনি। জানা গিয়েছে এক বছর যাবৎ সেবকরোডের ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার পরিচয়। ব্যবসায়ির দোকানে ভুয়ো বিচারপতির পরিচয় দিয়েই শিলিগুড়ি থেকে ভাড়া গাড়ি নিয়ে আসতেন তিনি। কেনাকাটা করতেন মালপত্র। শিলিগুড়িতে একাধিক ভাড়া গাড়িকে এই কাজে ব্যবহার করা হয়েছিল। নিরাপত্তারক্ষী ও পিএ রাখতেন সঙ্গে। গত মে মাসে ম্যাজিস্ট্রেট পরিচয় দেওয়া ওই ব্যক্তি জালিয়াতির খপ্পরে পড়েন।পুলিশের বাজেয়াপ্ত গাড়ি অকশনের কম মূল্যে বৈধ নথিপত্র সহ পাইয়ে দেওয়ার কথা বলেন।
৫০০০টন গম বাজেয়াপ্ত করা এমন খবর দিয়েও ব্যবসায়ির সামনে ফাঁদ পাতেন তিনি। গাড়ি ও গম পরপর ফেলা দুই ফাঁদে জড়িয়ে পড়েন শিলিগুড়ি তিন বন্ধু ব্যবসায়ী। এরপরই দুই ব্যবসায়ী দুটি গাড়ি ও এক জন গম বাবদ মোট ৯১লক্ষ টাকা তুলে দেন ভুয়ো বিচারপতির হাতে। তার সপক্ষে জাল সরকারি শিল ছাপ্পা যুক্ত রশিদ, ট্রেজারি চালান ও নথি ব্যবসায়ীদের দেয় ওই ভুয়া বিচারপতি।
তারপর থেকে বেপাত্তা হওয়ায় ব্যবসায়ীরা অনলাইনে তার জালিয়াতির পাল্লায় পড়েছেন তা বুঝতে পারেন। কারন কিশানগঞ্জ আদালতের বিচারপতিদের তালিকায় ইন্টারনেটে তারা নাম না থাকায় সন্দেহ হয় তাদের। বৃহস্পতিবার ভুয়ো বিচারপতি সমীর দুবে ও তার সহকারী ফায়েক আলমকে জলপাইগুড়ি আদালতে পেশ করে ১৪দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দেয়।

Post a Comment