যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের সাইবার হামলা
দি নিউজ লায়ন; যুক্তরাষ্ট্রের সাইবার হামলা। প্রায় ২০০ ব্যাবসাপ্রতিষ্ঠানে এই সাইবার হামলা চালানো হয়। সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘হান্ট্রেস ল্যাবস’ এ হামলার কথা জানিয়েছে। ফ্লোরিডাভিত্তিক তথ্যপ্রযুক্তি কোম্পানি ‘ক্যাসেয়া’য় হামলা চালানোর পর তাদের সফটওয়্যার ব্যবহারকারী কোম্পানিগুলোতেও হামলা হয়েছে। এমনটাই সূত্রের খবর। শুক্রবার দুপুরে হ্যাকিংয়ের বিষয়টি নজরে আসে, যখন গোটা যুক্তরাষ্ট্র শনিবার স্বাধীনতা দিবসের ছুটির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে।
এর পরদিন রোববার সাপ্তাহিক ছুটি। নিজেদের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত বিবৃতিতে ক্যাসেয়া জানিয়েছে, তারা এই হামলা খতিয়ে দেখছে। দশটিরও বেশি দেশে ১০ হাজারেরও বেশি কোম্পানি ক্যাসেয়ার সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ রয়েছে। তবে, ক্যাসেয়া আক্রান্ত কোম্পানির সংখ্যা জানায়নি। অল্পসংখ্যক কোম্পানি আক্রান্ত হয়েছে বলে উল্লেখ করেছে আইটি কোম্পানিটি। করপোরেট সার্ভার, ডেস্কটপ ও নেটওয়ার্ক ডিভাইসগুলো পরিচালনাকারী অ্যাপ্লিকেশনগুলোর একটিতে হামলা হয়েছে।
তবে হান্ট্রেস ল্যাবস বলছে, এই সংখ্যা প্রায় দুইশ এবং তা বাড়ছে। হান্ট্রেস ল্যাবস বলছে, তাদের বিশ্বাস, রাশিয়া-সংশ্লিষ্ট র্যানসামওয়্যার গ্যাং ‘আরইভিল’ এই হামলায় জড়িত রয়েছে। হান্ট্রেস ল্যাবসের জ্যেষ্ঠ নিরাপত্তা গবেষক জন হ্যামন্ড বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে ইমেইলে বলেছেন, ‘এটি একটি বড় ধরনের হামলা এবং সরবরাহ ব্যবস্থায় ভয়াবহ হামলা।’ যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সংস্থা ইউএস সাইবারসিকিউরিটি অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার এজেন্সি হামলার বিষয়টি তদন্ত করছে বলে এক বিবৃতিতে জানিয়েছে। আরইভিল সোডিনোকিবি নামেও পরিচিত এই ‘আরইভিল’ বিশ্বের সবচেয়ে ধনী সাইবার-অপরাধী গ্রুপ।
গত মে মাসে বিশ্বের সবচেয়ে বড় মাংস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান জেবিএসের কার্যক্রম অচল করে দেওয়া সাইবার হামলায় এই আরইভিলকে দায়ী করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। এ ছাড়াও ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের প্রায় দুই ডজন সরকারি প্রতিষ্ঠানে একযোগে হামলার পেছনেও এই আরইভিল জড়িত ছিল। তথ্য চুরির পর বিনিময়ে দাবি করা অর্থ না পরিশোধ করা হলে তারা তাদের ওয়েবসাইটে চুরি করা নথি প্রকাশ করে দেয়। তারা এর নাম দিয়েছে ‘হ্যাপি ব্লগ’।

Post a Comment