অপমান সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী প্রেমিক
দি নিউজ লায়নঃ আমবাগানে আপত্তিকর অবস্থায় অল্প বয়সী প্রেমিক যুগলকে দেখতে পেয়ে জোর করে ধরে নিয়ে যায় মাতব্বরেরা । গ্রামে বসে সালিশি সভা। সেই সালিশি সভার মধ্যেই জোর করে বিয়ে দেওয়া হয় প্রেমিকের সঙ্গে নাবালিকা প্রেমিকার। এরপর তাদেরকে নিয়ে যাওয়া হয় অভিভাবকদের কাছে। করা হয় চরম অপমান । আর সেই অপমান সহ্য করতে না পেরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মঘাতী হলো প্রেমিক। বিষয়টি জানতে পেরে অসুস্থ হয়ে পড়েন নাবালিকা ওই স্কুলছাত্রী।
চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটেছে মানিকচক থানার মুনকুট বাঁধ এলাকায়। রবিবার রাতে সালিশি সভায় জোর করে বিয়ে দেওয়ার ঘটনার পরই সোমবার সকালে ওই প্রেমিকের ঝুলন্ত দেহ তার শোবার ঘর থেকে উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে বিষয়টি নিয়ে গ্রামের কয়েকজন মাতব্বরদের বিরুদ্ধে মানিকচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মৃতের পরিবার। ঘটনার পর থেকেই সালিশি সভায় উপস্থিত মাতব্বরদের দল গা-ঢাকা দিয়েছে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ।
তাদের খোঁজ শুরু করেছে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃতের নাম মানিক মন্ডল (২০)। সে গ্রামের এক মাধ্যমিক পরীক্ষার্থী ছাত্রীর সাথে প্রণয়ঘটিত সম্পর্কে জড়িয়ে ছিলেন।রবিবার সন্ধ্যায় গ্রামের এক বাগানে অন্তরঙ্গ অবস্থায় গ্রামের একদল মাতব্বর তাদের দেখে ফেলে। এরপর গ্রামের মাতব্বরেরা ওই প্রেমিক যুগলকে নিয়ে এলাকায় সালিশি সভায় বসাই। সালিশির নিদান অনুযায়ী জোরপূর্বক স্থানীয় এক মন্দিরে তাদের বিয়েও দিয়ে দেওয়া হয়। এরপর মানিক মন্ডলের বাড়িতে এই যুগলদের তুলে দিয়ে আসে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, মানিকচক গ্রাম পঞ্চায়েতের এক সদস্যের নেতৃত্বে রবিবার রাতে গ্রামে সালিশি সভা হয়েছিল। পুলিশ মৃত মানিক মন্ডলের দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত জন্য মালদা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছে। মানিকচক থানার পুলিশ জানিয়েছে , মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য মালদা মেডিক্যিলে পাঠিয়ে ঘটনার তদন্ত শুরু করা হয়েছে।

Post a Comment