মোবাইল চোরকে উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ, গ্রেফতার ৯ - The News Lion

মোবাইল চোরকে উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ, গ্রেফতার ৯

 


দি নিউজ লায়নঃ গণপিটুনির হাত থেকে মোবাইল চোরকে উদ্ধার করতে গিয়ে আক্রান্ত পুলিশ।ভাঙল পুলিশের গাড়ি,মাথা ফাটলো এক পুলিশ কর্মীর। ঘটনায় চাঞ্চল্য রায়গঞ্জ থানার ভাটোলে। স্থানীয় সূত্রে খবর,শনিবার রাতে ভাটোল পুলিশ ফাঁড়ির অন্তর্গত আমতলা এলাকায় ভাটোলের মোমিনটোলা এলাকার বাসিন্দা মোস্তাকিন আনসারি নামে এক যুবককে মোবাইল চোর সন্দেহে গণপুটনি দেওয়া হচ্ছে এই অভিযোগ পেয়ে ভাটোল ফাঁড়ির পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই যুবককে উদ্ধার করে।


 কিন্তু সে সময় চোরকে তাদের হাতে তুলে দিতে হবে বলে পুলিশের হাত থেকে ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাতে বাঁধা দিলে পুলিশের উপর গ্রামবাসীদের একাংশ চড়াও হয় বলে অভিযোগ। উত্তেজিত বাসিন্দারা পুলিশের গাড়িতে ভাংচুর চালানোর পাশাপাশি সেখানে উপস্থিত পুলিশ কর্মীদেরও মারধোর শুরু করেন বলে অভিযোগ। এই হামলায় গুরুতর যখম হন চঞ্চল কুমার সিংহ নামে ভাটোল ফাঁড়ির এএসআই। তার মাথা ফেটে যায়। সেইসঙ্গে আরো কয়েকজন সিভিক ভল্যান্টিয়ার ও পুলিশ কর্মীও আহত হন বলে জানা গেছে। অপরদিকে আহত পুলিশের এএসআই চঞ্চল সিংহ গুরুতর যখম অবস্থায় রায়গঞ্জ গভর্নমেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।  


এদিকে শনিবার রাতেই রায়গঞ্জ থেকে বাড়তি পুলিশ বাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি সামাল দেয়। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশের উপর হামলা চালানোর অভিযোগে মোট ৯জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ধৃতদের বিরুদ্ধে ৩৩৩,৩২৫,৩০৭,৪২৭,৪৩৫,৫০৬,৩৪আইপিসি ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে বলে পুলিশ সুত্রে জানা গিয়েছে।  রবিবার ধৃতদের রায়গঞ্জ জেলা আদালতে তোলা হয়েছে। এদের মধ্যে মুল অভিযুক্ত ফিরোজ মহম্মদ ও বিদ্যুৎ বর্মনকে হেফাজতে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ।


 অপরদিকে এই ঘটনায় যারা জড়িত তাদের উপযুক্ত আইনানুগ ব্যবস্থায় শাস্তির দাবী তুলেছেন ভাতুন গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান ইউসুফ আলি।  পুলিশকে মারধর, খুনের চেষ্টা, সরকারি কাজে বাঁধা ও সরকারি সম্পত্তি নষ্টের  অভিযোগে শনিবার গভীর রাতেই স্থানীয় মালিবাড়ি ও কাঁচনাবাড়ি এলাকা থেকে নয়জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পুলিশ সুত্রে জানা গেছে ধৃতদের নাম, বিদ্যুৎ বর্মণ, রবেন দাস, মিঠুন দাস, ফুলকুমার দাস, ফিরোজ মহম্মদ, সেলটু দাস, মোবারক হোসেন, আয়ুব আলি ও সাহিদ আফ্রিদি। রবিবার ধৃতদের রায়গঞ্জের মুখ্য বিচারবিভাগীয় আদালতে তোলা হলে বিচারক মোনালিসা মণ্ডল বিদ্যুৎ ও ফিরোজকে পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন। আয়ুব ও সাহিদ নাবালক হওয়ায় তাদের ইটাহারের দুর্গাপুরের একটি হোমে পাঠানো হয়েছে। বাকিদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ হয়েছে বলে জানা গেছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.