বজ্রপাতে এক শিশুসহ মৃত ৪, আহত ২
দি নিউজ লায়ন; বজ্রপাতে এক শিশুসহ মৃত ৪, আহত ২ । রবিবার বেলা তিনটার সময় বজ্রপাতের ঘটনাটি ঘটে ঝাড়গ্রাম জেলার জামবনি ব্লকের লালবাঁধ অঞ্চলের মুড়াকাটি ও কিশোরীপুর এলাকায়। ওই ঘটনায় দুই জনের মৃত্যু হয়েছে, আহত হয়েছে এক মহিলা। মৃত দুইজনের মধ্যে একজন হলেন জামবনি থানার লালবাঁধ অঞ্চলের মুড়াকাটি গ্রামের সুনীল মাহাতো, তার বয়স ৩৬ বছর, মৃত অপরজন হলেন মদন রানা, তার বয়স ৪০ বছর, তার বাড়ি জামবনি থানার লালবাঁধ অঞ্চলের কিশোরী পুর গ্রামে।
আহত মহিলার নাম প্রতিমা মাহাতো তার বয়স ৪০ বছর, তার বাড়ি জামবনি থানার মুড়াকাটি গ্রামে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায় যে যখন রবিবার মাঠে বীজতলার জন্য তারা কাজ করছিল তখনই মাঠে বাজ পড়ে।যার ফলে সুনীল মাহাতো ও মদন রানা বাজ পড়ে মাঠেই মারা যায়। প্রতিমা মাহাতো নামে এক মহিলা আহত হয়।তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে চিল্কিগড় গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় । এরপর তাকে ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করা হয়েছে । তার অবস্থা সঙ্কটজনক।
বাজ পড়ে দুজনের মৃত্যু ও একজন আহত হওয়ার ঘটনায় ওই এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। জামবনি থানার পুলিশ দুটি মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঝাড়গ্রাম সুপার স্পেসালিটি হাসপাতালের মর্গে পাঠায় । অপর দিকে রবিবার বিকেলে ও সন্ধ্যায় সময় পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়্গপুর গ্রামীণ ব্লকের দুটি এলাকায় বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে এক শিশু সহ ২ জনের। সেই সঙ্গে আহত হয়েছে এক জন।
এদিন বিকেলে বৃষ্টির সময় খড়গপুর লোকাল থানার গোকুলপুরের পূর্ব আম্বা গ্রামে শেখ সাইফুল (৯) গাছের তলায় খেলছিল । এসময় বাজ পড়লে ঘটনাস্থলে সে মারা যায় । গুরুতর আহত হয়েছে ওপর এক শিশু। এছাড়া ও ওই এলাকায় থাকা একটি গরুর ও মৃত্যু হয়েছে।
অপর ঘটনাটি ঘটেছে খড়গপুর লোকাল থানার খুদামা গ্রামে সন্ধ্যার সময় । মাঠে থাকা ছাগল নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন মন্টু মাহাতো (১৯) । এসময় বাজ পড়লে তাঁর মৃত্যু হয়। বজ্রপাতে আহত শিশুটিকে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার অবস্থা সংকটজনক। খড়গপুর লোকাল থানার পুলিশ বজ্রপাতে মৃত শিশুসহ 2 জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালের মর্গে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।
তবে ওই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ওইএলাকায় ও তাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে।খড়গপুর গ্রামীন এর বিধায়ক দিনেন রায় বজ্রপাতে মৃত দুই পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানায় এবং তাদের পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেন। যার ফলে রবিবার ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুর জেলায় এক শিশুসহ চারজন বজ্রপাতে মারা গিয়েছেন এবং আহত হয়েছে দুইজন। যার ফলে দুই জেলা জুড়ে শোকের ছায়া নেমে আসে। অন্যদিকে, পূর্ব বর্ধমানে দুর্যোগে নিহত ২। দেওয়াল চাপা পড়ে এবং বজ্রাঘাতে দু'জনের মৃত্যু হয় বলে জানা গিয়েছে।
প্রথম ঘটনাটি ঘটে কাটোয়ার শ্রীখণ্ড গ্রামে।পুলিশ জানায় মৃতার নাম রঞ্জনা মণ্ডল(২১)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে বছর দেড়েক আগে মঙ্গলকোটের নিগনের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ মণ্ডলের সঙ্গে রঞ্জনার বিয়ে হয়। দিনদশেক আগে তিনি শ্রীখন্ডে বাপেরবাড়ি আসেন। মৃতার বাবা রাজকুমার মণ্ডল জানান শনিবার বিকেলের দিকে বৃষ্টি শুরু হলে তার মেয়ে উঠান থেকে কাপড় তুলতে যিন।
তখন বাড়ির মাটির পাঁচিল ভেঙে পড়ে।চাপা পড়েন রঞ্জনা। উদ্ধার করে কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকরা মৃত বলে ঘোষণা করেন। অন্যদিকে, কেতুগ্ৰামে বজ্রপাতে মৃত্যু হয়েছে এক কৃষকের। মৃতের নাম নিমাইচন্দ্র মণ্ডল(৫৮)। স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে শনিবার বিকেলে ওই কৃষক মাঠে গিয়েছিলেন। বৃষ্টি শুরু হতেই বাড়ি ফিরছিলেন। তখন বজ্রপাতে মৃত্যু হয় তার। দুটি ঘটনাতেই মৃতদের রবিবার ময়নাতদন্ত করানো হয়।

Post a Comment