দিল্লিতে শ্রমিক ছাঁটাইয়ের বিরুদ্ধে আন্দোলন করবে তৃণমূল
দি নিউজ লায়ন; কেন্দ্রীয় সরকারের অধীনস্থ বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করা এরাজ্যের ছাঁটাই হওয়া প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিকদের সমর্থনে দিল্লিতে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করা হবে। শনিবার দুপুরে এক সাংবাদিক বৈঠকে একথা জানিয়েছেন রাজ্য তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য তথা তৃণমূল পরিচালিত অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অফ ওয়ার্কাস্ ইউনিয়নের সর্বভারতীয় সম্পাদক সুনীল সরকার। এমনকি এখনও পর্যন্ত কেন্দ্রের অধীনে থাকা বিভিন্ন সংস্থায় কাজ করে যেসব শ্রমিকেরা পারিশ্রমিক পায় নি, তাদেরকেও এই আন্দোলনে সামিল করা হবে । পাশাপাশি দেশের আরো যেসব কেন্দ্রীয় সংস্থার অধীনস্থ এরকম শ্রমিকেরা রয়েছেন তাদেরকেও দিল্লির এই আন্দোলনে সামিল করার চিন্তা ভাবনা করছে তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন।
এদিন বৈষ্ণবনগর থানার আঠারো মাইল এলাকার নিজস্ব কার্যালয় একটি সাংবাদিক বৈঠক করেন তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য তথা অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অফ ওয়ার্কাস ইউনিয়নের সম্পাদক সুনীল সরকার । সেখানে মোদি সরকারের বিরুদ্ধে শ্রমিকদের ছাঁটাইয়ের প্রতিবাদ করেন সুনীলবাবু। তিনি বলেন, এখনো পর্যন্ত কেন্দ্রের অধীনস্থ যেসব সংস্থা কাজ করেও টাকা পায় নি, সেই সব সংস্থারও সমর্থন নেওয়া হবে দিল্লির আন্দোলনে। ইতিমধ্যে এব্যাপারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে জানানো হয়েছে। দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রীর সবুজ সংকত পেলেই দিল্লিতে আন্দোলন সংঘটিত করার ডাক দেওয়া হবে।
এদিন সাংবাদিক বৈঠকে রাজ্য তৃণমূলের কোর কমিটির সদস্য তথা অল ইন্ডিয়া ফেডারেশন অফ ওয়ার্কার্স ইউনিয়নের সম্পাদক সুনীল সরকার বলেন, কেন্দ্রে মোদি সরকার ক্ষমতায় আসার পর এরাজ্যে ৮০ হাজার শ্রমিকের মধ্যে ৩০ হাজার শ্রমিক ছাঁটাই করা হয়েছে। এইসব শ্রমিকেরা কেন্দ্রের বিভিন্ন সংস্থার অধীনে কাজ করতেন। করোনা সংক্রমনের মধ্যে এবং লকডাউন পরিস্থিতিতে কাজ হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন এরাজ্যের প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিক । নতুন করে তাদের কাজের ব্যবস্থার দাবি আমরা তুলেছি। কিন্তু এখনও পর্যন্ত কেন্দ্র সরকার এব্যাপারে প্রয়োজনীয় কোনো উদ্যোগ নেয় নি। তাই এবারে আন্দোলনের পথই বেছে নেওয়া হয়েছে। যেখানে ছাঁটাই হওয়া ৩০ হাজার শ্রমিক ও তাদের পরিবারকে সামিল করা হবে। পাশাপাশি কেন্দ্রের অধীনস্থ সংস্থা যে সব সংস্থা এখনো তাদের বকেয়া টাকা পায় নি, সেসব সংস্থাকেও এই আন্দোলনে সামিল করার চিন্তা-ভাবনা করা হচ্ছে।
তৃণমূলের রাজ্যের কোর কমিটির সদস্য সুনীল সরকার আরো বলেন, মুকুল রায় এবং তার ছেলে শুভ্রাংশু রায় বিজেপি ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করেছেন। এরকমভাবে আরো বিজেপি বিজেপির ৩০ জন বিধায়ক এবং ৬০ জন সাংসদ তৃণমূলের সাথে যোগাযোগ রাখছে বলে আমাদের কাছে খবর রয়েছে। যদিও সবটাই দলনেত্রীর উপর নির্ভর করছে। কিন্তু এরই মধ্যে এ রাজ্যের শ্রমিকদের নিয়ে যে বঞ্চনা শুরু করেছে মোদি সরকার, সেটা কোনভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। কেন্দ্রীয় সংস্থার অধীনস্থ শ্রমিকেরা এখন অসহায়তার মধ্যে আছে।
দলনেত্রীর কাছে বিষয়টি জানানোর পর ওইসব শ্রমিকদের বিকল্প কাজের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। কিন্তু সংগঠনের পক্ষ থেকে আমরা থেমে থাকবো না । অনার্য্য ভাবে এত বিপুল পরিমাণ শ্রমিককে ছাঁটাই করার বিরুদ্ধে আন্দোলন ছাড়া আর কোনো পথ নেই। আসলে বিজেপি সরকার চাইছে শ্রমিক বলে আর কিছু থাকবে না । তাই খেটে খাওয়া শ্রমিকদের ছাঁটাই করা হচ্ছে । দিল্লিতে আন্দোলন সংগঠিত করার ব্যাপারে এখন শুধু দলনেত্রী তথা মুখ্যমন্ত্রী সবুজ সংকেত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছি আমরা।

Post a Comment