পুলিশ সেজে এক ব্যাবসায়ির বাড়িতে তল্লাসি ও হুমকির অভিযোগে গ্রেফতার ৪
দি নিউজ লায়ন; শরীরে পুলিশের পোশাক আর কোমরে খেলনা বন্দুক নিয়ে এক ব্যাবসায়ির বাড়িতে তল্লাসি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগে চারজনকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ভারত ভুটান সীমান্তের জয়গাতে এই ঘটনায় ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে। শুক্রবার রাতেই চারজনকে গ্রেফতার করে জয়গা থানার পুলিশ। শনিবার তাদের আলিপুরদুয়ার আদালতে তুলে পুলিশি হেফাজতের আবেদন করা হয়েছে।
জয়গা থানার ওসি অভিষেক ভট্টাচার্য্য বলেন, " আমরা চারজনকেই গ্রেফতার করেছি। এই চারজনের মধ্যে একজন পুরনো খুনের মামলার আসামি। ধৃতরা যে খেলনা বন্দুক ব্যাবহার করেছিল তাও উদ্ধার করা হয়েছে। ধৃতদের আদালতে তুলে পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হয়েছে। " জানা গিয়েছে ধৃতরা কাগজের ওপর টাইপ করা একটি নকল ওয়ারেন্ট নিয়ে গিয়ে জয়গার দেওকোটাটোল এলাকায় এক ব্যাবসায়ির বাড়িতে তল্লাসি চালাতে যায়।
জানা গিয়েছে গত ২৯ মে ওই ঘটনাটি ঘটে। জয়ঁগা এলাকার ব্যবসায়ী ধর্ম কুমার গুপ্তার ঘরে চারজন দুষ্কৃতী ঢুকে নিজেদের পুলিশ বলে পরিচয় দেয় এবং ব্যবসায়ীকে দুষ্কৃতিরা বলে তাঁর বিরুদ্ধে এ্যরেস্ট ওয়ারেন্ট আছে। তার ঘর সার্চ করে পরবর্তীতে ওই ব্যবসায়ীর কাছে তিন লক্ষ টাকাও দাবী করে দুষ্কৃতিরা। প্রথম দিনই ব্যবসায়ী ধর্ম কুমার গুপ্তার সন্দেহ হয়। সেদিন ব্যাবসায়ির কাজে টাকা না থাকায় খালি হাতেই ফিরতে হয় দুষ্কৃতিদের।
পরে সন্দেহ হওয়ায় ওই ব্যাবসায়ি লিখিতভাবে জয়ঁগা থানায় বিষয়টি জানান। সেদিন থেকেই পুলিশ ওই দুষ্কৃতিদের খোঁজে তল্লাশি চালাতে থাকে। কিন্তু শুক্রবার ওই ব্যবসায়ীকে ফোনে প্রাণ মেরে ফেলার হুমকি দেয় দুষ্কৃতিরা।শুক্রবার রাতেই ওই ব্যবসায়ী জয়ঁগা থানায় ফের অভিযোগ করেন। আর ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে ফোন নম্বর ট্র্যাক করে সহজেই হদিশ মেলে দুষ্কৃতিদের।এরপরই তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
জানা গিয়েছে গ্রেফতার দুষ্কৃতিদের নাম কিরণ শর্মা, সুভাষ লামা, শুভম বিশ্বকর্মা, মিগমা দোরজি গুরুঙ। প্রত্যেকেই জয়গা ও তার আশ পাশ এলাকার বাসিন্দা। জয়গার ব্যাবসায়ি ধর্ম কুমার গুপ্তা বলেন, " প্রথম দিনই দুষ্কৃতিদের হাবে ভাবে আমার সন্দেহ হয়েছিল। আমি ঘটনাটি পুলিশকে জানাই। পরে আবার টেলিফোনে আমাকে প্রানে মেরে ফেলার হুমকি দেওয়ায় আমি দুষ্ক্রতিদের মতলব সম্পর্কে নিশ্চিত হই। পুলিশে অভিযোগ জানাই। পুলিশ অত্যন্ত দ্রুততার সাথে ব্যাবস্থা নিয়েছে।"

Post a Comment