বাম আমলের দুর্নীতির জরা কাটাতে পুরনিগমে থাকা ৪২জন সিপিআইএম ক্যাডারকে ছাঁটাই
দি নিউজ লায়ন; বাম আমলের দুর্নীতির জরা কাটাতে পুরনিগমে থাকা ৪২জন সিপিআইএম ক্যাডারকে ছাঁটাই করলো শিলিগুড়ি পুরনিগমের প্রশাসক বোর্ড। জানা গিয়েছে এদের প্রত্যেকেরই চাকুরীর নির্দিষ্ট সময়সীমা পেড়িয়ে গিয়েছে। অথচ পুরনিগমের আবর্জনা নিষ্কাষন বিভাগে সাফাই কর্মীর তালিকায় জ্বলজ্বল করছে তাদের নাম। এদিকে তালিকায় নাম থাকলেও পুর দপ্তর থেকে শহরের সাফাইয়ের কাজে কোথাও দেখা মেলেনা তাদের। বাড়িতে বসেই প্রতিমাসে মাইনে গোনেন পূর্ব মেয়র অশোক বাবুর দলীয় এই পেয়াদারা।
দীর্ঘদিন যাবৎই বামেদের মিটিং মিছিলে ঝান্ডা তোলার লোকের আকাল পড়েছে। তাই সেসময় মেয়র পদে থেকে রাজনৈতিক ক্যাডারদের সুখের পায়রা বানিয়ে নিজ ভোটমুখী রাজনীতির বৈতরনী পারাপার করতে শিলিগুড়ি পুরনিগমকে সিপিআইএমের পাকাপাকি অঘোষিত পুনর্বাসন কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারে করেন অশোক বাবু। আর তার জেরে সাফাইয়ে ম্যান্ডেজ কর্মীদের তালিকা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হলেও শহরজুড়ে জমতে থাকে আবর্জনার স্তুপ। বেহাল নাগরিক পরিষেবার জেরে দমবন্ধ পরিস্থিতি তৈরি হয় শহরবাসীর।
তালিকায় ৫০০ম্যান্ডেজ কর্মীর থাকার পরও শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হয়নি বলে জানান বর্তমান আবর্জনা নিষ্কাষন বিভাগের দায়িত্বে থাকা প্রশাসক বোর্ডের সদস্য রঞ্জন সরকার। তিনি বলেন ৫০০-৬০০ম্যান্ডেজ কর্মীদের তালিকা দেওয়া হয়। অথচ সরেজমিনে বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে দেখা যায় শহরে হাতে গোনা কিছু যুবক সাফাইয়ের কাজ করেন। এরপরই সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে তালিকা চেয়ে পাঠাই।
তা দেখে চক্ষু চড়ক গাছ! সেখানে দেখা যায় চাকুরীর মেয়াদ শেষের পরও এক্সটেনসনের নামে বাড়িতে বসে মাইনে তুলছেন যারা তাদের অধিকাংশই বামেদের প্রাক্তন কাউন্সিলর নুরুল ইসলামের ৪৫ নাম্বার ওয়ার্ড ও ৪২নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন বাম কাউন্সিলর দীলিপ সিং ও ৪৬ নম্বর বাম কাউন্সিলর মুকুল সেনগুপ্তের ওয়ার্ডের বাসিন্দা। নিজেদের রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করতে দলীয় লোকেদের ঢুকিয়ে রেখেছেন তারা।এরকম ৪২জনকে চিহ্নিত করি। যাদের চাকুরীর মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে বহু বছর আগে।
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে সাফাইয়ের কাজে একদিনের জন্যও নামেনি তারা। অথচ কেউ ৭০০০,কেউ ৬০০০টাকা এমনকি ১০০০০টাকা পর্যন্ত মাসিক বেতন পাচ্ছেন বাড়িতে বসে। তার জায়গায় অস্থায়ী যুবকেরা অতিরিক্ত কাজ করছে সেখানে তাদের বেতন অনেক কম। রঞ্জনবাবু বলেন এই ৪২জনকে ছাঁটাই করে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যদি তারা চাকুরী করতে চান তাহলে বেলচা হাতে শহরের জঞ্জাল পরিষ্কারের কাজে নামতে হবে। কাজের জন্য দিতে হবে ফিটনেস টেস্ট। অন্যদিকে তার পরিবর্তে সাফাইয়ের কাজে নিযুক্ত যুবকদের সম্পূর্ণ চিকিৎসা বীমার আওতায় এনে তার কিস্তি পুরনিগমের তরফে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Post a Comment