সব রাজনৈতিক দলের কাছেই হিংসা বন্ধ করার আবেদন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের - The News Lion

সব রাজনৈতিক দলের কাছেই হিংসা বন্ধ করার আবেদন মমতা বন্দোপাধ্যায়ের

 


দি নিউজ লায়ন; শপথ নেওয়ার পরেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপাধ্যায় সব রাজনৈতিক দলের কাছেই  হিংসা বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন।সেই প্রেক্ষাপটে রাজনৈতিক হিংসার ঘটনায় অনেকটা লাগাম পরলেও এখনও পুরোপুরি বন্ধ হয় নি।দেগঙ্গা এবং জেলা সদর বারাসত থেকেও রাজনৈতিক হিংসার খবর এসেছে।    বৃহস্পতিবার রাতে আই এস এফ এবং তৃণমূলের সংঘর্ষের ঘটনায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল দেগঙ্গা থানার চাপাতলা পঞ্চায়েত এলাকায়।আই এস এফের কর্মীদের হাতে আক্রান্ত হয়েছেন তৃণমূলের পঞ্চায়েত সদস্যা সহ চার তৃণমূল কর্মী। স্থানীয় সুত্রে জানা গেছে চাপাতলা পঞ্চায়েতের পারুলিয়া গ্রামের ১৬৫ নম্বর বুথে এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের থেকে বেশি ভোট পেয়েছিল আই এস এফ।


 ফলে ভোটের পর থেকেই পারুলিয়া গ্রামে একটা চাপা উত্তেজনা ছিল।অভিযোগ ভোটের পরেই আই এস এফ করার অপরাধে  স্থানীয় কয়েকজন সবজি বিক্রেতার ব্যাবসা বন্ধ করে দেয় তৃনমূলের লোকজন। এই নিয়ে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর কয়েক জন আই এস এফের কর্মী পঞ্চায়েত সদস্যার বাড়ি যান বিষয়টি নিয়ে সালিশি করতে।এই নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে বচসা থেকেই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। তৃণমূলের  অভিযোগ বৃহস্পতিবার রাতে ১০,১২ জন আই এস এফের কর্মী সমর্থকরা চড়াও হয় পঞ্চায়েত সদস্যা মনিরা সুলতানার বাড়ি। তাকে মারধর করা হয়। বাশ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে আই এস এফের কর্মীরা। মনিরাকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আক্রান্ত হম তার স্বামী সহ চার জন তৃণমূল কর্মী।স্থানীয় লোকজন ছুটে এলে চম্পট দেয় আই এস এফের কর্মীরা। আহতদের নিয়ে আসা হয়েছে দেগঙ্গার বিশ্বনাথপুর স্বাস্থ্যকেন্দ্রে।   


চাপাতলা পঞ্চায়েত প্রধান হুমায়ুন রেজা চৌধুরি বলেন ভোটের আগে থেকেই আই এস এফের কর্মীরা পারুলিয়া গ্রামে সন্ত্রাস চালাচ্ছে।১৬৫ নম্বর বুথে জয়ী হওয়ার পরেই তারা পঞ্চায়েত সদস্যার বাড়িতে হামলা চালায়।মারধর করে।সবজির ব্যাবসা বন্ধের অভিযোগ অবশ্য পঞ্চায়েত প্রধান অস্বীকার করেছেন।তৃণমূলের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার রাতেই সি এস এফের ২০ জনের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বারাসত মহকুমার আই এস এফের সম্পাদক মৌলানা কুতুব উদ্দিন ফাতেহি বলেন তৃণমূলের কর্মীরা স্থানীয় কয়েকজনের সবজির বেচাকেনা বন্ধ করে দিয়েছে।গ্রামবাসীরা মিলে প্রতিবাদ করাতেই ঘটনার সুত্রপাত ঘটে।   দেগঙ্গা থানার পুলিশ জানিয়েছে চাপাতলার পাতুলিয়া গ্রামের ঘটনায় দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ঘটনার উপর নজর রাখছে পুলিশ।   


 অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার রাতেই বারাসত পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের কানাপুকুর এলাকায়  অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদের কর্মী উৎপল রায়ের বাড়িতে হামলার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের বিরুদ্ধে। ভাঙচুর  করা হয়েছে তার বাড়িঘর। ঘরের আসবাবপত্র সহ অন্যান্য জিনিস সব তছনছ করা হয়েছে।  উৎপল বাড়িতে ছিলেন না।কিন্তু তাতেও রেহাই মেলেনি তার পরিবারের লোকজন।অভিযোগ উৎপলের বাবা,মা এবং দাদাকে মারধর করেছে তৃণমূল আশ্রিত দুস্কৃতিরা।এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়ায় কানাপুকুর এলাকায়।বারাসত থানায় লিখিয় অভিযোগও হয়েছে।উত্তেজনা থাকায় কানাপুকুর এলাকায় পুলিশ মোতাশেন করা হয়েছে।  


 এই বিষয়ে এ বি ভি পির জেলার সহ সভাপতি উৎপল রায় বলেন ভোটের পর রাজ্যজুড়ে অরাজক পরিবেশ তৈরী করেছে তৃণমূল। হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পায় নি আমার বাবা,মা এবং দাদাও।তাদের প্রাননাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে।    বারাসত পুরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বিদায়ী কাউন্সিলার  চম্পক দাস বলেন ভাঙচুরের ঘটনা অনভিপ্রেত।দুই, একজন এই ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে।কিন্তু তৃণমূল শান্তির পক্ষেই।পুলিশকে বলেছি দলমত নিরবিশেষে ব্যাবস্থা নিতে।   বারাসত থানার পুলিশ সুত্রে জানা গেছে হামলাকারীদের চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.