ইয়াশ' মোকাবিলায় তৎপর দক্ষিণ 24 পরগনা জেলা প্রশাসন
দি নিউজ লায়ন; অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় 'ইয়াশ' মোকাবিলায় তৎপর দক্ষিণ 24 পরগনা জেলা প্রশাসন। সোমবার দক্ষিণ 24 পরগনার বিশেষ করে সুন্দরবন লাগোয়া বিভিন্ন প্রত্যন্ত অঞ্চলে পরিদর্শনে যান জেলা প্রশাসনের আধিকারিকরা। জলপথে লঞ্চের পাশাপাশি হেলিকপ্টারে নজরদারি চালান তারা। দক্ষিণ 24 পরগনা জেলা প্রশাসন সূত্রে খবর, আমফানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সুন্দরবনের বিভিন্ন দ্বীপ এবং প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলোর উপর বেশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। মূলত দুটি ভাগে প্রস্তুতি সাড়া হচ্ছে।
প্রথমত, দ্বীপ অঞ্চলে যারা বসবাস করেন বা ক্যানিং বাসন্তী গোসাবা সুন্দরবনের একেবারে প্রত্যন্ত অঞ্চলের যারা বাসিন্দা তাদের দ্রুত সেখান থেকে সরিয়ে দিয়ে এসে বিভিন্ন রেসকিউ সেন্টারে নিয়ে যাওয়া এবং দ্বিতীয়ত সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে যে সমস্ত নদী এবং সমুদ্র বাঁধ রয়েছে সেগুলিকে আরও শক্তিশালী এবং মজবুত করা। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে বেশ কয়েকটি নদীর বাঁধ শক্তপোক্ত হলেও কিছু কিছু নদীবাঁধ রয়েছে যেগুলো এখনও কংক্রিটের করে তোলা যায়নি সেই সমস্ত নদীগুলোকে দ্রুত যতটা সম্ভব মজবুত করার চেষ্টা করা হচ্ছে যাতে বাঁধ ভেঙে নদী বা সমুদ্রের জল গ্রামে নাটকে সে ক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা এর পাশাপাশি গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে বিদ্যুৎ টেলিফোনের মত বিষয়গুলিকে। আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস দিয়েছে তাদের ঝড়ের গতি দক্ষিণ 24 পরগনায় প্রতি ঘণ্টায় 100 কিলোমিটার এর কাছাকাছি হতে পারে ফলে এটা নিশ্চিত যে টেলিফোনের কটি বিদ্যুতের খুঁটি উপরে পড়ার মতো ঘটনা ঘটবে এই পরিস্থিতি হলে যাতে দ্রুত সামাল দেওয়া যায় তার জন্য প্রচুর বিদ্যুতের খুঁটি মজুদ করে রাখা হয়েছে টেলিফোন নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা সচল থাকে তার জন্য পর্যাপ্ত ব্যবস্থা করা হয়েছে এর পাশাপাশি সড়কপথে বা গ্রামের মধ্যে গাছ ভেঙে পড়লে সে গুলোকে যাতে দ্রুত সরানো যায় তার জন্য বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে এ ক্ষেত্রে জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলার দল এবং ব্লক স্তরের যে সমস্ত উদ্ধারকারী দল রয়েছে তাদেরকে তৈরি রাখা হয়েছে। এদিন ক্যানিং-২ বিডিও প্রনব কুমার রায় এবং ক্যানিং পূর্ব কেন্দ্রের বিধায়ক সওকাত মোল্লা হ্যান্ড মাইকে সর্তকতা করছেন এই ব্লকের করতোয়া নদীর পাড়ে।এমনকি মৎস্যজীবীরা যাতে পাড়ে চলে আসে এবং নদীতে না যায় সে বিষয়ে সতর্ক করেন মাইকিং করে।ক্যানিং এক নম্বর ব্লকে ৩৫ টি রেসকিউ সেন্টার খোলা হয়েছে।সেই সেন্টার গুলিতে প্রায় কয়েক হাজার মানুষজন কে রাখা হয়েছে।ইতিমধ্যে ক্যানিং-১ ও ২,বাসন্তী,গোসাবা ব্লক সহ বিভিন্ন ব্লক গুলিতে বিপর্যয় মোকাবিলা টিম পৌঁছে গিয়েছে এবং সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে।গোটা সুন্দরবন জুড়ে পায় ৩ লক্ষ মানুষজন কে সরিয়ে আনার কাজ চলছে দ্রত গতিতে।ফলে প্রতিটি ব্লকে ব্লকে চলছে নদীর পাড় থেকে সরিয়ে এনে রেসকিউ সেন্টারে এবং বহুমুখী ঘূর্ণিঝড় আশ্রয় কেন্দ্রে রাখা হচ্ছে।যে সমস্ত মানুষজনের ঘরবাড়ির অবস্থা খারাপ তাদের কেউ সরিয়ে আনা হচ্ছে এই সমস্ত সেন্টার গুলিতে।এদিকে যে সমস্ত নদী বাঁধের অবস্থা খারাপ সেখানেই জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ সংস্কার করা হচ্ছে।ফলে ঘূর্ণিঝড় ইয়াসের মোকাবিলা প্রস্তুতি তুঙ্গে প্রশাসনের।

Post a Comment