ইয়স-এর জেরে তছনছ মন্দারমনি তাজপুর
দি নিউজ লায়ন; দীঘায় এমন দুর্যোগ শেষ কবে দেখা গিয়েছিল তা মনে করতে পারছেন না অনেক প্রবীণ মানুষও। আয়লা থেকে হুদহুদ, ফণী কিংবা গতবছরের আম্ফান প্রবল ঘূর্ণিঝড় বহুবার দেখেছে দীঘার মানুষ। কিন্তু মঙ্গলবার রাত থেকে বুধবার দুপুর পর্যন্ত সমুদ্রের যে রুদ্রমূর্তি দেখা গেল এবং যেভাবে দীঘা মন্দারমনি তাজপুর শংকরপুর উদয়পুর কার্যত তছনছ হয়ে গেল তা কল্পনার অতীত।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন একদিকে ঘূর্ণিঝড় অন্যদিকে ভরা কোটাল দুয়ে মিলে যে তান্ডব লীলা চালালো তাকে ঠেকানো সম্ভব নয় তবু আগাম সর্তকতা নিয়ে রাজ্য সরকার যেভাবে তৎপরতার সঙ্গে কয়েক লক্ষ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়েছে তাতে আরও বড় বিপর্যয় আটকানো গিয়েছে প্রাণহানি আটকানো গিয়েছে 12 ঘন্টা ধরে যে তাণ্ডব চলল তারপরেও দীঘা এবং সন্নিহিত অঞ্চলে মাত্র একটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত থেকেই দিঘায় শুরু হয়েছিল বৃষ্টি।
সমুদ্রে ঢেউয়ের উচ্চতাও বাড়ছিল। বুধবার ভোরের পর সময় যত এগিয়েছে তত বৃষ্টির তীব্রতা বেড়েছে। সেই সঙ্গে দিঘা ও নিউ দিঘায় গার্ডরেল ছাপিয়ে জল ঢুকতে শুরু করে। তার ফলে বুধবার সকালেই সমুদ্রের নোনা জলে প্রায় ডুবে যায় মূল শহর। এমনকি জলমগ্ন হয় দিঘা থানাও। দিঘার বাজার এলাকা ৫ থেকে ৬ ফুট জলের তলায় চলে গিয়েছে।পরিস্থিতি মোকাবিলায় নামানো হয় সেনা। জল ঢুকেছে মন্দারমণি, শঙ্করপুর, তাজপুর এলাকায়। প্রচুর গ্রাম জলের তলায়।
বেশিরভাগ বাসিন্দারাই গ্রাম ছেড়ে আশ্রয় নিয়েছেন ত্রাণ শিবিরে।শুধু রামনগরের সৈকত শহর গুলি নয়, ঘুর্নিঝড় ইয়াশের প্রভাবে একই পরিস্থিতি ধরা পড়েছে বাঁকিপুট,শৌলা, জুনপুট সব জায়গায়। অধিকাংশ এলাকায় জল বাঁধ টপকে গ্রামে ঢুকে পড়ছে। এর জেরে বহু এলাকায় আবার ফ্লাড সেন্টারগুলির একতলা জলের নীচে চলে গিয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুর জেলা প্রশাসন থেকে জানানো হয়েছে, সমূদ্র তীরবর্তী এলাকায় ঝড়ের ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।ক্ষয়ক্ষতি প্রচুর হয়েছে। সমুদ্রের জলোচ্ছাসের তলিয়ে মৃত্যু হয় এক মৎস্যজীবীর। মৃত মৎস্যজীবী মান্দারমনি উপকূল থানার দক্ষিন কান্দি গ্রামের কানাই গিরি (৫৫)। প্রশাসন সূত্রে খবর সরকারি নির্দেশিকা অমান্য করে মাছ ধরতে যাওয়ার ফলেই এই বিপর্যয় ঘটে।

Post a Comment