ভোটগণনার কাজে যুক্ত কর্মীদের কোভিডের র‍্যাপিড টেস্টের নামে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার ছবি হাওড়া - The News Lion

ভোটগণনার কাজে যুক্ত কর্মীদের কোভিডের র‍্যাপিড টেস্টের নামে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার ছবি হাওড়া

 


দি নিউজ লায়ন; ভোটগণনার কাজে যুক্ত কর্মীদের কোভিডের র‍্যাপিড টেস্টের নামে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলার ছবি হাওড়ায়। মানা হলো না সামাজিক দূরত্ব বিধি। হাতাহাতি, এমনকি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠল।করোনার নেগেটিভ রিপোর্ট ছাড়া এবার ঢোকা যাবে না ভোটগণনা কেন্দ্রে। অথবা থাকতে হবে কোভিড ভ্যাকসিন নেওয়া ২টি ডোজের শংসাপত্র। এই মর্মে হাওড়াতেও নির্দেশ জারি হওয়ার পর শুক্রবার হাওড়ার সদরের বিধানসভা কেন্দ্রগুলির জন্য কোভিডের র‍্যাপিড টেস্টের আয়োজন করা হয় হাওড়ার শৈলেন মান্না স্টেডিয়ামে। প্রথম দিকে এই প্রক্রিয়া ঠিকঠাক শুরু হলেও বেলা গড়াতেই ভীড়ের চাপে সেখানে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। 


 হাতাহাতি থেকে শুরু করে অব্যবস্থার ছবি ধরা পড়ে। হাওড়া সদরের ভোট গণনার সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের এদিন কোভিড র‍্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্টের আয়োজন করা হয়। এদিন সকাল থেকেই করোনা টেস্টের জন্য হাওড়া সদরের ৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটগণনার কাজে যুক্ত কর্মীরা সেখানে আসেন। পরিস্থিতি এতটাই খারাপ ছিল যে সেখানে সামাজিক দূরত্ব বিধি কার্যত শিকেয় ওঠে। কোভিড র‍্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্টের সময় সোস্যাল ডিসট্যান্স মানা হচ্ছেনা বলে অভিযোগ ওঠে। চূড়ান্ত অব্যবস্থার ছবি ভিড়ে ঠাসাঠাসি ছবি ধরা পড়ে। এমনকি বিশৃঙ্খলা থেকে হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন অনেকে। চূড়ান্ত অব্যবস্থা এবং দেরি হওয়া প্রভৃতির অভিযোগ তুলে ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটনাও ঘটে শৈলেন মান্না স্টেডিয়ামে। 


এদিন সকালে হাওড়ার শৈলেন মান্না স্টেডিয়ামে নির্বাচনের গণনার কাজে যুক্তদের কোভিড পরীক্ষার ব্যবস্থা করে জেলা প্রশাসন। এদিনই রিপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থাও ছিল। এই খবর পাওয়ার পর হাওড়া শহরের বালি, উত্তর হাওড়া, মধ্য হাওড়া, শিবপুর, দক্ষিণ হাওড়া, ডোমজুড়, সাঁকরাইল এবং পাঁচলা এই ৮টি বিধানসভা কেন্দ্রের নির্বাচনে গণনার কাজে যুক্ত কর্মীরা আসেন করোনা র‍্যাপিড অ্যান্টিবডি টেস্ট করাতে। সকাল থেকেই তারা পরীক্ষার জন্য ভিড় করেন। পরীক্ষার জন্য ঘন্টার পর ঘন্টা চড়া রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন তারা। ধীর গতিতে কাজ চলায় তারা চিৎকার চেঁচামেচি জুড়ে দেন। উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে পুলিশকে হস্তক্ষেপ করতে হয়। পুলিশি হস্তক্ষেপে পরে পরিস্থিতি সাময়িকভাবে স্বাভাবিক হয়। এরই মধ্যে সেই পরীক্ষার কাজ চলার সময়ে হঠাৎই উত্তেজনা ছড়ায় সেখানে আগত ভোটকর্মীদের মধ্যে।


 দফায় দফায় হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়েন তাঁরা। পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।উল্লেখ্য, কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ ছাড়া এবার কাউকেই গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে নির্দেশ জারি হয়। জানানো হয় এবার প্রার্থী, তাঁর এজেন্ট প্রতিনিধি, পুলিশ, ভোট গণনার কাজে যুক্ত সরকারি কর্মচারী, এমনকি সাংবাদিক ও চিত্র সাংবাদিকদেরও কোভিড রিপোর্ট নেগেটিভ থাকলে তবেই ভোট গণনা কেন্দ্রে প্রবেশ করতে পারবেন। এই বিষয়ে প্রসেনজিৎ দাস জানান, এখানে চূড়ান্ত বিশৃঙ্খলা। এদিন সব দলের গণনা কর্মীরা  এসেছিলেন। এখানে জলের ব্যবস্থা নেই, ডাক্তার নেই, উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ কেউই নেই। যারা স্বাস্থ্যকর্মী তাদের শরীর খারাপ হয়ে গিয়েছিল। হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। সকাল থেকে সব  ছেলেমেয়েরা না খেয়ে রয়েছে। হঠাৎ সিদ্ধান্ত নেয় সকলকে নেগেটিভ সার্টিফিকেট দেওয়া হবে। জেলা স্বাস্থ্য দপ্তর চূড়ান্ত ব্যর্থ।  নির্বাচন কমিশন ঠিক ব্যবস্থা নিয়েছে। কিন্তু স্বাস্থ্য দপ্তরের ব্যর্থতায় করোনা আরও বেশি ছড়াবে। 



এদিন সরোজ দাস নামের আরেক ভোটকর্মী বলেন,  সকালে এসে দেখি চূড়ান্ত অব্যবস্থা। বিশাল লাইনে একজনের গায়ের উপর আরেকজন দাঁড়িয়ে। সকালে লাইনে ঢোকা নিয়ে মারপিট হয়। একুশটা ফর্ম দেওয়ার পর তা  দেওয়া বন্ধ করে হয়ে যায়।  যিনি নমুনা  পরীক্ষা করছিলেন তিনি নিজেই অসুস্থ হয়ে পরেন। কিট যেখানে-সেখানে পড়ে আছে। যেকোনো মানুষের করোনা ছড়িয়ে পড়বে। 

করোনা টেস্ট করতে আসা অসিত মান্না জানান, এটা পরীক্ষা হল না ছেলে খেলা হলো বোঝা গেলো না। সরকারি অফিসার নেই কেউই নেই। ভিড়ের মধ্যে কে পজিটিভ কে নেগেটিভ কিছুই বোঝা যাচ্ছে না। একই লাইনে সকলে দাঁড়িয়ে রয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.