মেদিনীপুরে রাত ৯টার পর বন্ধ দোকানপাট, করোনা রোধে সক্রিয় পুলিশ
দি নিউজ লায়ন ; দেরিতে হলেও হুঁশ ফিরল। অনেক রাত পর্যন্ত দল বেঁধে বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডা চায়ের ঠেকে বা অন্যত্র। আর কিন্তু চলবে না। আপনি ভুলে যেতে পারেন ২০২০ সালের আতঙ্ক। পুলিশ কিন্তু ভোলেনি। করোনা পরিস্থিতিতে এবার পুলিশ কিন্তু সক্রিয় হচ্ছে। রাতে অকারণ আড্ডা দিলেই সোজা হাজির পুলিশ। এমনটাই ঘটছে মেদিনীপুর শহরে।করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতা কারও অজানা নয়। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ ভয়ঙ্কর রূপ নিয়েছে দেশজুড়ে। এমন সময়েই এ রাজ্যে নির্বাচন। ফলে সভা সমাবেশ চলছেই।
পরে হলেও কিছু রাজনৈতিক দল তা থেকে কিছুটা বিরত রেখেছেন নিজেদের। আর সভা সমাবেশের ভিড়ে স্বাস্থ্যবিধি শিকেয় বলে অভিযোগ। ফলে রাজ্যেও ছড়াচ্ছে করোনা। এই পরিস্থিতিতে নিজেরা সচেতন না হলে উপায় থাকে না। তাই পুলিশ আপাতত রাতটুকু অন্তত নিরাপদ করতে নেমেছে। পুলিশ জানিয়েছে, রাত ৯ টা থেকে সমস্ত দোকানাট বন্ধ করে দিতে। কোনও জায়গায় আড্ডা বা জমায়েত চলবে না।
পুলিশের এক আধিকারিক জানান, প্রথমে সবাইকে বোঝানো হচ্ছে। মানুষ নিশ্চয় বুঝবেন করোনার ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি। এরপরেও না বুঝলে তখন বাধ্যতামূলক পদক্ষেপ করতে হবে।পুলিশ জানিয়েছে, অকারণে আড্ডা মেদিনীপুর শহরে সবদিনের। কিন্তু আগে সকলেই তা উপভোগ করতেন। কিন্তু করোনা পরবর্তী সময়ে সেটাই যে মৃত্যু ফাঁদ। এটা আগে বুঝেছিলেন। কিন্তু প্রথম করোনা আতঙ্ক কাটিয়ে সবাই ভুলেছেন। দ্বিতীয় ঢেউ যে আরও মারাত্মক তা ভুলে গিয়েছেন। তাই সতর্কতা নিতেই এই ব্যবস্থা।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪২৬ জন এবং মারা গিয়েছেন ৩৮ জন বলে স্বাস্থ্য দফতরের প্রকাশিত বুলেটিনে জানানো হয়েছে। আগের দিন রাজ্যে করোনা আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছিলেন ২৮ জন।
সোমবার যে বুলেটিন প্রকাশ করা হয়েছে তাতে দেখা গিয়েছে যে গত ২৪ ঘণ্টায় মারা গিয়েছেন ৩৮ জন। এদের মধ্যে ১২ জনই কলকাতা এলাকার।আগেও দেখা গিয়েছে, করোনার ভয়ঙ্কর সময়ে পুলিশই মানুষকে খাবার দেওয়া থেকে ওষুধ দেওয়া – সব করেছে। এবার যাতে সেই সমস্যা না হয়, তাই আগে থেকেই পদক্ষেপ শুরু করেছে সকলে। শহরবাসী অবশ্য পুলিশকে সাধুবাদই দিচ্ছে।

Post a Comment