ভুলতে পারি সবার নাম, ভুলব নাকো নন্দীগ্রাম, মমতা
দি নিউজ লায়নঃ আমি বহিরাগত! তাহলে বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী হওয়া উচিত ছিল না আমার। যারা হিন্দু-মুসলমান করছেন শুনে রাখুন আমিও হিন্দু ঘরের মেয়ে। আমার সঙ্গে হিন্দু কার্ড খেলতে যাবেন না। নন্দীগ্রামের বটতলায় দলীয় কর্মীসভা থেকে নাম না করে সরাসরি ভাজপাকে তুলোধনা করলেন তৃণমূল নেত্রী মমতা।
এরপরেই সেখানে হাজির ১০ হাজারেরও বেশী কর্মীদের সরাসরি মমতা বলেন, আপনারা যদি মনে করেন, আমার এখানে দাঁড়ানো উচিত নয়, বলে দিন। কাল মনোনয়ন আছে, জমা দেব না। চলে যাব। আর যদি ঘরের মেয়ে মনে করেন, তাহলে মনোনয়ন জমা দিয়ে যাব। তবে মমতা তাঁর কথা শেষ করার আগেই দু' হাত তুলে জনসমুদ্র বলে,' আপনি দাঁড়াবেন।'
শুক্রবার কলকাতায় রাজ্যের ২৯৪ আসনের মধ্যে ২৯১ আসনে দলীয় প্রার্থীদের নাম ঘোষনা করেন তৃণমূল নেত্রী ।পূর্বের ঘোষনা মত নন্দীগ্রাম আসন থেকেই তিনি বিধানসভা নির্বাচনে লড়ার কথা ঘোষনা করেন ।তার পর থেকেই শুভেন্দু অধিকারী সহ ভাজপা নেতারা মমতাকে বহিরাগত প্রার্থী বলে প্রচার শুরু করেন । ভাজপার সেই অপপ্রচারের যোগ্য জবাব দিলেন মমতা। ভাজপা নেতাদের মমতার প্রশ্ন,আমি বাইরের লোক হয়ে গেলাম! যাঁরা গুজরাত থেকে আসছেন, রাজস্থান থেকে আসছেন, তাঁরা বাংলার লোক হয়ে গেলেন? আমাকে বহিরাগত বলছেন !তিনি বলেন, ভুলতে পারি সবার নাম, ভুলব নাকো নন্দীগ্রাম। নন্দীগ্রামই সম্প্রীতি শিখিয়েছে।আমার সঙ্গে ধর্ম নিয়ে নামবেন? ধর্ম নিয়ে খেলবেন? খেলা হবে?
মমতা আরো বলেন, নন্দীগ্রামের বাসিন্দারাই গুন্ডাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেছিলেন। নন্দীগ্রামের মানুষের কথা তুলে ধরতে দিল্লি, মুম্বই গিয়েছি। আপনাদের মনে আছে, ১৪ মার্চ গুলি চলেছিল। আমার অপারেশন হয়েছিল। বেরোতে বারণ করেছিলেন ডাক্তাররা। তা-ও বেরিয়ে চলে এসেছিলাম। আমার গাড়িতে সে দিন পেট্রোল বোমা মেরেছিল। সে দিন কেউ ছিল না। আমি কিন্তু রাস্তায় বসেছিলাম। নন্দীগ্রামে যাবই বলে দিয়েছিলাম। রাজ্যপাল গোপাল গাঁধী ফোনে বলেছিলেন, আপনাকে মেরে ফেলার চেষ্টা হচ্ছে।স্কুটারে চড়ে নন্দীগ্রাম চলে এসেছিলাম। তা বুঝেই উঠতে পারেনি সিপিএম। তমলুক থেকে চণ্ডীপুর চলে এসেছিলাম, যেখানে এবার সোহম দাঁড়িয়েছে। সেখানেও গাড়ি আটকে দিল। কুমন্তব্য করা হচ্ছিল। তার পর ঠেলে ঠেলে নন্দীগ্রামে এসেছিলাম। তার পর কী ভাবে মারধর করা হয়, লাঠিচার্জ করা হয়, আপনারা দেখেছেন। সেখান থেকেই বাংলা জুড়ে নন্দীগ্রাম আন্দোলন করলাম।আর আমাকে বলছে বহিরাগত!
ভাজপার অপপ্রচারকে ভোঁতা করতে তাঁর কেন্দ্র বদল নিয়ে ওঠা প্রশ্নের উত্তর দিয়ে বলেছেন নন্দীগ্রামে কেন দাঁড়ালাম। ঘরের কেন্দ্র ছিল ভবানীপুর। কিছুই করতে হত না। মনে রাখবেন, যে দিন শেষ এসেছিলাম। তখন এখানে আসনটা খালি ছিল। পদত্যাগ চলে গিয়েছিল। তখন বলেছিলাম, নন্দীগ্রামে দাঁড়ালে কেমন হবে। দেখতে চাইলাম আপনারা কী বলেন। আপনারা বললেন ভাল হবে। আপনাদের সেই ভালবাসা, উন্মাদনা দেখে বুঝেছিলাম এটাই আমার নন্দীগ্রামের দু’চোখ।আমার ভবানীপুর গিয়ে দেখে আসবেন। আগামী দিনে নন্দীগ্রামকে মডেল নন্দীগ্রাম করে তুলব। নন্দীগ্রামে কোনও ঘরে বেকার থাকবে না। শিক্ষায় কেউ পিছিয়ে থাকবে না। শহিদদের স্মরণ করে এ বারের ইস্তেহারে বিশ্ব বিদ্যালয় রাখছি ।
উন্নয়ন নিয়েও বিজেপিকে তীব্র আক্রমন করে বলেছেন এখানে হাসপাতাল কে গড়েছে, রাঙাহাট কে তৈরি করেছে, স্বর্ণময়ী কলেজ করেছি, শহিদ বেদী, কিশান মাণ্ডি, ৭০০ কোটি টাকার জলপ্রকল্পের কাজ চলছে। তা ছাড়াও হলদিয়ার সঙ্গে নন্দীগ্রামকে ব্রিজ তৈরি করে জুড়ে দেব।বলেছেন নানা রকম চক্রান্ত চলছে, চলবে। পা দেবেন না। দু’ঘরের বাড়ি ভাড়া নিয়েছি। আগামী এক বছরে ২ মাস অন্তর নন্দীগ্রাম আসব। আমি নিজে পরে একটা কুঁড়েঘর বানাব নন্দীগ্রামে। মনে রাখবেন, কথা দিলে কথা রাখি আমি। আমি ভাঁওতা দিয়ে, পকেটে টাকা গুঁজে দিয়ে রাজনীতি করি না। সেই সাথে আগামী দিনে তাঁর কর্মসূচীর কথা তুলে ধরে বলেন আগামী কাল আপনাদের ভালবাসা আশীর্বাদ নিয়ে মনোনয়ন দিতে যাব। তার পর আবার ফিরে আসব নন্দীগ্রামে। ১১ তারিখে শিব চতুর্দশী, পুজো দিয়ে যাব। ওই দিনই আবার ইস্তেহার প্রকাশ হবে। সারা পৃথিবীতে একটাই নাম থাকবে নন্দীগ্রাম।

Post a Comment