ভাজপা ভোট লুঠ করতে এলে মা,বোনেরা থাপ্পড় দেবেন, মমতা - The News Lion

ভাজপা ভোট লুঠ করতে এলে মা,বোনেরা থাপ্পড় দেবেন, মমতা

 


দি নিউজ লায়নঃ      “বিজেপি মানে বিসর্জন, তৃণমূল মানে উন্নয়ন। এমনভাবে খেলতে হবে যাতে কোনওদিন আর বিজেপি খেলতে না পারে। এই ভোটটা নিছক ভোট নয়। এই বিজেপি নিছক বিজেপি নয়। এটা দস্যুর দল, অত্যাচারীর দল।” - নির্বাচনী লড়াইয়ে ঝাঁপিয়ে পড়তে কর্মী, সমর্থকদের নির্দেশ মমতার।


শুক্রবার পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় পর পর তিনটি জনসভা করেন মমতা। প্রথমে এগরাতে তরুন কুমার মাইতি  এবং পরে পটাশপুরে উত্তম বারিকের সমর্থনে জনসভা করেন তিনি। এই দুই কেন্দ্রে আগামী ২৭ মার্চ প্রথম দফার নির্বাচনে ভোট গ্রহন হবে । তৃতীয় জনসভা করেন মেচেদাতে।তমলুক কেন্দ্রের প্রার্থী ডঃ সৌমেন মহাপাত্রের সমর্থনে এই সভা হয় । 


প্রত‍্যেক সভা থেকে ভাজপাকে তীব্র আক্রমনের সাথে সাথে পূর্ব মেদিনীপুরে অধিকারী পরিবারের একচ্ছত্র আধিপত্য নিয়েও খোঁচা দেন মমতা। অধিকারীদের কারোর নাম না করে এদিন  আক্রমণ করে বলেন, “কেউ যদি মনে করে গদ্দারি করবে, আমি অনেক ভালোবাসা দিয়েছি। এবার আর এক ইঞ্চি জমি ছাড়বো না। বিজেপিকে একটি ভোট ও দেবেন না। সিপিএমকে ভোট দেবেন না। ওরা বিজেপিতে যাচ্ছে। সিপিএম, কংগ্রেস, বিজেপি হচ্ছে জগাই,মাধাই, গদাই।" 


মমতা বলেন, “আমি আমার পায়ের অনেক যন্ত্রণা নিয়ে এসেছি, কারণ বিজেপি আসলে আপনাদের যন্ত্রনা আরও বাড়বে। বিজেপি ওপরে বলে হরি হরি, আর ভিতরে ভিতরে মানুষ মারছে। আমি বলি বাংলা ওদের জায়গা নয়। এগরা এগরায় থাকবে, নন্দীগ্রাম নন্দীগ্রামে থাকবে, পটাশপুর পটাশপুরে থাকবে। আমি চাইনা কোনও দাঙ্গা হোক। এনপিআর নিয়ে আমি আন্দোলন করেছিলাম। আমিই একমাত্র রাজ্য, যেখানে এনপিআর করতে দিইনি। 


অটো চালক, শিক্ষক, কৃষক সবাই হলেন বাংলার অহংকার। আপনারাই থাকবেন। বহিরাগত গুন্ডা আমরা চাই না। মীরজাফর আমরা চাই না।”এগরা এবং পটাশপুরে জনসভায়  মমতা স্থানীয় তৃণমূল কর্মী ও জনগণকে ভোট বাক্স পাহারা দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন । ভোটকর্মীদের উদ্দেশ মমতার বার্তা, ‘‘ইভিএম মেশিন খারাপ হলে খবর নিন। বদলানো হল কি না দেখুন। কেন্দ্রীয় বাহিনীদের কথা শুনবেন না। ভোটবাক্স নিজেদরকেই পাহারা দিতে হবে।এগরা ও পটাশপুরের সভা গুলিতে  দলত্যাগী তৃণমূলীদের প্রতি মমতার আক্রমণ ছিলো বেশী । 


মমতা বলেন, ”কয়েকটা গদ্দার ছিল। তারা বিজেপিতে গিয়ে ছড়ি ঘোরাচ্ছে। দুর্যোধন, দুঃশাসন, মীরজাফরদের দরকার নেই। বিজেপিকে দরকার নেই। আমরা মোদির মুখও দেখতে চাই না। বিজেপিকে একটাও ভোট নয়।” শুভেন্দু অধিকারীর নাম না করেই তিনি বলেন, ‘‘ওরা গদ্দার ছিল গদ্দারি করেছে। তলে তলে যোগাযোগ রেখেছে বিজেপির সঙ্গে। বুঝতে পারিনি।’’তিনি তিনটি সভাতেই তাঁর সংক্ষিপ্ত ভাষণে তৃণমূলের নির্বাচনী ইস্তেহারের সারাংশ তুলে ধরেন।


মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বেশ কয়েকটি প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন। রাজ্যে শিক্ষকদের শূন্যপদের সংখ্যা দ্বিগুণ করা হবে বলে ঘোষণা করেছেন তিনি। রাজ্যের বেকারত্ব ঘোচাতে, শিক্ষিতদের কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে ফের ক্ষমতায় এলে শিক্ষক নিয়োগে আরও জোর দেওয়া হবে। আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন "এবার বিজেপি বাইরের গুন্ডাদের নিয়ে এসে ভোট লুঠ করতে চাইবে। মা,বোনেরা গুন্ডারা আসলে ঠাসিয়ে থাপ্পড় দিয়ে দেবেন। হাতা, খুন্তি নিয়ে বাধা দেবেন। ওরা অনেক মিথ্যা কথা বলবে, বিশ্বাস করবেন না।”

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.