বাড়ি থেকে একব্যাক্তির রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধার - The News Lion

বাড়ি থেকে একব্যাক্তির রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধার

 


দি নিউজ লায়নঃ     বাড়ি থেকে একব্যাক্তির রহস্যজনক মৃতদেহ উদ্ধার হলো। মৃতের নাম জীবন কানাই সেনগুপ্ত (৭৫)। মৃত ব্যাক্তির বাড়ি পূর্ব বর্ধমানের রায়না থানার রায়না পোস্ট অফিস পাড়ায়। খবর পেয়েই এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান সহ রায়না থানার পুলিশ কর্তারা  মৃতের বাড়িতে যান। প্রাথমিক ভাবে প্রৌঢ়কে খুন করা হয়েছে বলেই পুলিশের অনুমান।  মৃতদেহ উদ্ধারের পাশাপাশি পুলিশ এই খুনের ঘটনার তদন্তে নেমেছে। খুনিদের খোঁজে পুলিশ জোরদার অভিযানে নেমেছে।  


রায়নার পোস্ট অফিস পাড়ার বাড়িতেই থাকতেন জীবন কানাই সেনগুপ্ত। তিনি দুর্গাপুর স্টিল প্ল্যাণ্টের (ডিএসপি ) অবসর প্রাপ্ত কর্মী। উঁচু পাঁচিল ঘেরা দোতলা বাড়ির একতলার ঘরে থাকতেন জীবন কানাই বাবু ও তাঁর অসুস্থ স্ত্রী মঞ্জুদেবী। শারীরিক অসুস্থতার জন্য মঞ্জুদেবী বহু আগেই হাঁটা চলার শক্তি হারিয়েছেন। তাঁদের দুই মেয়ের বিয়েও অনেকদিন আগে হয়েছে । বাড়ির অন্য ঘরে জীবন কানাই বাবুর বিধবা বৌদি সুতপা দেবী থাকেন। সুতপা দেবীর কথায় এদিন সন্ধ্যা ৭ টা নাগাদ অস্বাভাবিক একটা অওয়াজ শোনার পর তিনি তাঁর দেওরের ঘরে যান।  তখনই দেখেন ঘরে খাটের পাশে রক্তাত অবস্থায় পড়ে রয়েছে তাঁর দেওর, জীবন কানাইয়ের রক্তাত নিথর দেহ। শারীরিক অসুস্থতার কারণে ওঠা বসার শক্তি হারিয়ে ফেলা তাঁর জা, মঞ্জু তখনও  মশারি টাঙানো বিছানাতেই শুয়ে ছিল। সুতপাদেবী বলেন, এমন ঘটনা দেখেই  তিনি চিৎকার চেঁচামেচি শুরু করলে প্রতিবেশীরা তাঁদের বাড়িতে ছুটে আসেন। তারা নিজের চোখে সব কিছু দেখে রায়না থানায় খবর দেয়। মৃতের দুই প্রতিবেশী অনুপ দাঁ ও সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় বলেন, জীবন কানাই বাবুর বৌদির চিৎকার শুনে তাঁরা  বাড়িতে যান। 


জীবন কানাই বাবুর ঘরে ঢুকেই তাঁরা চমকে ওঠেন। দেখতে পান  ঘরের মেঝেতে রক্তাত অবস্থায় পড়ে রয়েছে জীবন কানাই বাবুর রক্তাত দেহ। সেই দেহের পাশেই পড়েছিল একটি শাবল। মৃতদেহের পাশেই মাশারি টাঙানো  খাটের  বিছানায় শুয়ে ছিলেন রোগভোগে পঙ্গু হয়ে যাওয়া জীবন কানাই বাবুর বৃদ্ধা স্ত্রী। খবর পেয়ে পুলিশ এসে মৃতদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যায়। অনুপ দাঁ জানান, জীবন কানাই বাবু অতীব ভদ্র সজ্জন ব্যক্তি ছিলেন। এলাকার কারুর সঙ্গে তাঁর কোনও বিবাদ অশান্তি ছিল না। অনুপ বাবু আরও জানান, এদিন বেলায় রায়নার শ্যামসুন্দরের স্টেট ব্যাঙ্কে টাকা তুলতে  গিয়ে ছিলেন বলে পরিবারের সদস্যদের কাছে তাঁরা জানতে পেরেছেন। সেই টাকা হাতাতে এসে বাধা পেয়েই দুস্কৃতিরা জীবন কানাই বাবুকে প্রাণে মেরে দিয়ে পালিয়ে দিয়ে গেল কিনা সেই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে প্রতিবেশীদের মধ্যে। 


এসডিপিও আমিনুল ইসলাম খান সাংবাদিকদের জানিয়েছে, প্রাথমিক ভাবে এটি একটি খুনের ঘটনা বলেই মনে করা হচ্ছে। নিহত বৃদ্ধের মাথায় আঘাতের ক্ষত রয়েছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ জানতে মৃত ব্যক্তির দেহ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট হাতে আসার পরেই মৃত্যুর কারণ পরিস্কার হয়ে যাবে। ঘটনাস্থল থেকে নানা নমুনা সংগ্রহ কারা হয়েছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.