আগামী পাঁচ বছরে বাংলায় যে বিকাশ ঘটবে তা ২৫ বছরের ভিত তৈরি করে দেবে, মোদি
দি নিউজ লায়নঃ আজ বিজেপি ব্রিগড। আর এই সভার প্রধান বক্তা হলেন মোদি। ‘বিশাল সমাবেশের দিকে যাচ্ছি’, কলকাতায় নেমেই এদিন টুইট করেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এদিন নির্ধারিত সময়েই কলকাতা বিমানবন্দরে পৌঁছোয় মোদীর বিমান। সেখান থেকে কপ্টারে তিনি উড়ে যান রেসকোর্সের মাঠে। সেখান থেকে তিনি পৌঁছন ব্রিগেডের সভায়।
মোদি ব্রিগেডের মাঠে পৌঁছতেই মোদী স্বাগতম স্লোগানে ঝড় তোলেন অগণিত বিজেপি নেতা-কর্মী-সমর্থক। ব্রিগেড মঞ্চে নরেন্দ্র মোদিকে উত্তরীয় পরালেন মিঠুন চক্রবর্তী। মঞ্চে তাঁকে স্বাগত জানালেন দিলীপ ঘোষ। তিনি মঞ্চে উঠে বললেন, ‘বাংলা তথা কলকাতার ভাই-বোনদের প্রণাম। রাজনৈতিক জীবনে কয়েকশ সভা করতে হয়েছে। কিন্তু এত বড় জন সমাবেশ দেখার সৌভাগ্য হয়নি’।
তিনি আরও বলেন বাংলার যা কিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সবকিছুকে ফিরিয়ে দিতে হবে। বাংলাকে সোনার বাংলা গড়তে হবে। তিনি বলেন আগামী পাঁচ বছরে বাংলায় যে বিকাশ ঘটবে তা ২৫ বছরের ভিত তৈরি করে দেবে। ২০৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা দিবসের ১০০ বছর পূর্তিতে ভারতের মধ্যে শীর্ষস্থান দখল করবে বাংলা। কলকাতাকে সিটি অব জয় থেকে সিটি অফ ফিউচার করা হবে। মোদী বলেন, ব্রিটিশরা বাংলায় দমন পীড়ন চালিয়েছিলো। কিন্ত আর কেউ বাংলার অধিকার ছিনিয়ে নিতে পারবে না।
বাংলার মানুষকে কথা দিচ্ছি, বাংলা থেকে যা কিছু ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা ফেরত দেবো। এদিন তিনি মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আক্রমণ করে বলেন, বাংলার মানুষ দিদির উপর ভরসা করেছিলেন, কিন্ত দিদি ও তাঁর সাঙ্গোপাঙ্গরা সেই বিশ্বাস ভেঙে দিয়েছেন। বাংলার মানুষের বিশ্বাসভঙ্গ করেছেন দিদি। মা বোনদের উপর অকথ্য অত্যাচার হয়েছে। বাংলার মানুষ তবুও ভেঙে পড়েননি। বরং বাংলায় পরিবর্তন এবং বাংলার উন্নয়ন চাইছেন তাঁরা। বাংলা জুড়ে আজ পরিবর্তনের ঝড় উঠেছে। বাংলার ছেলে মিঠুন চক্রবর্তী আজ বাংলায় পরিবর্তনের জন্য আমাদের সঙ্গে এসেছেন।
মোদী এদিন পশ্চিমবাংলায় বাম-কংগ্রেস জোটকে কটাক্ষ করতেও ছাড়েননি মোদী। ব্রিগেডের সভামঞ্চ থেকে বাংলায় বাম-কংগ্রেসের জোটকে তীব্র কটাক্ষ করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি বলেন, ভারতের স্বাধীনতার লড়াইকে ভিত্তি করে কংগ্রেস ক্ষমতায় এসেছিলো। তারপর কিছুদিন কাজ করার পরেই শুরু হয়ে যায় রাজনীতির খেলা। আর কংগ্রেসীদের ঠেকাতে বামপন্থীরা একসময় বলতেন, কংগ্রেসের কালো হাত ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও। আজ সেই কালো হাত কী হলো? আজ সেই কালো হাত সাদা হয়ে গেলো!
যে হাত বামপন্থীরা গুঁড়িয়ে দিতে চাইতেন আজ সেই কালো হাত ধরেই এগিয়ে যেতে চাইছেন বামেরা। আর এই বামেদের বিরুদ্ধে পরিবর্তনের শ্লোগান তুলেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মা মাটি মানুষের জন্য কাজ করবেন বলে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। কিন্ত সেই প্রতিশ্রিতি তিনি রেখেছেন কি? মোদি এদিন বাম-কংগ্রেসকে আক্রমণ করার পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসকে আক্রমণ করে বলেন, তৃণমূলের আয়ু কমে আসছে। আজ সারা দেশ শুনে নিক, বাংলায় দুর্নীতি আর নয়, তোলাবাজি আর নয়, কাটমানি আর নয়, সিন্ডিকেট আর নয়, বেকারত্ব আর নয়, হিংসা আর নয়, আতঙ্ক আর নয়, তুষ্টিকরণ আর নয়, অন্যায় আর নয়। বিজেপি বাংলায় সমস্ত অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবেই।
মোদী এদিন মমতাকে আক্রমণ করে বলেন, বাংলার মানুষ দিদি হিসাবে আপনাকে বেছে নিয়েছিলো। কিন্ত আপনি নিজেকে শুধু ভাইপোর পিশি হিসাবে সীমাবদ্ধ করে রেখেছিলেন। এদিন মোদী মমতাকে কটাক্ষ করে বলেন, কিছুদিন আগে স্কুটি চালাচ্ছিলেন দিদি। সবাই ভয় পাচ্ছিলাম, আপনি পড়ে গিয়ে আঘাত না পান। ভাগ্যিস পড়ে যাননি। নইলে যে রাজ্যে স্কুটি তৈরি হয়েছে সেই রাজ্যকেই শত্রু বানিয়ে ফেলতেন। এরপরেই মোদী মমতার প্রার্থী হওয়া নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, দিদি কিন্ত আপনি ভবানীপুরে যেতে যেতে নন্দীগ্রামের দিকে স্কুটি ঘুরে গেলো কি করে?
আমি চাই না আপনি পড়ে গিয়ে আঘাত পান। কিন্ত স্কুটি যখন নন্দীগ্রামেই গিয়ে পড়েছে, তখন আমরা আর কি করবো। মোদী এদিন মমতাকে কটাক্ষ করে আরও বলেন, আমাকে কখনও রাবণ, কখনও দৈত্য, কখনও গুন্ডা বলছেন দিদি। এতো রাগ কেন দিদি? আপনার দল এবং আপনার সরকারের পাঁকেই আজ বাংলায় পদ্ম ফুটছে। গণতন্ত্রের নামে বাংলায় লুঠতন্ত্রকে প্রশ্রয় দিয়েছেন, জাতি ধর্মের নামে বিভেদের রাজনীতি করেছেন, তাই আজ বাংলায় পদ্ম ফুটছে। আমি দিদিকে অনেকদিন ধরে চিনি। বামপন্থীদের বিরুদ্ধে লড়া দিদি এমন ছিলেন না, কিন্ত আজ দিদির রিমোর্ট কন্ট্রোল অন্যের হাতে।

Post a Comment