এবার নির্বাচন কমিশনের ম্যাসকটে স্থান পেল বিশ্ব বিখ্যাত জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের একশৃঙ্গ গন্ডার
দি নিউজ লায়নঃ বিশ্ব বিখ্যাত জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের একশৃঙ্গ গন্ডার এবার নির্বাচন কমিশনের ম্যাসকটে স্থান পেল। আলিপুরদুয়ার জেলায় নির্বাচন কমিশনের যাবতীয় প্রচারে একশৃঙ্গ গন্ডার এর আদলে তৈরি এই ম্যাসকট ব্যবহার করা হবে। শুক্রবার আলিপুরদুয়ার জেলা প্রশাসনিক ভবন ডুয়ার্স কন্যার সামনে জলদাপাড়ার বিখ্যাত একশৃঙ্গ গন্ডার এর আদলে তৈরি এই ম্যাসকট এর উদ্বোধন করেন আলিপুরদুয়ার জেলা নির্বাচনী আধিকারিক সুরেন্দ্র কুমার মীনা।
এদিন ম্যাসকট উদ্বোধনের পর এই ম্যাসকট এর সামনে ভোটারদের সেলফি তোলার হিড়িক পড়ে যায়। ম্যাসকট উদ্বোধনের পর এদিন জেলাশাসক সুরেন্দ্রকুমার মীনা বলেন, " আমাদের জেলা জলদাপাড়া ন্যাশনাল পার্ক এর জন্য গর্ববোধ করে। একশৃঙ্গ গন্ডার এর কারণেই জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান পৃথিবীতে বিখ্যাত। সেই কারনে এই ম্যাসকট তৈরিতে আমরা জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের একশৃঙ্গ গন্ডার এর আদল ব্যবহার করেছি। নির্বাচন সংক্রান্ত যাবতীয় প্রচার এই ম্যাসকট ব্যবহার করা হবে।
এই ম্যাসকট এর মাধ্যমে আমরা আমাদের বন জঙ্গল ঘেরা জেলা ও তার বিশেষ পরিবেশ, বন্যপ্রানকে প্রচারের আলোয় নিয়ে আসার চেষ্টা চালিয়েছে মাত্র। এই ম্যাসকট ইতিমধ্যেই দারুণ সাড়া ফেলে দিয়েছে।" জানা গিয়েছে একশৃঙ্গ গণ্ডারের আবাসস্থল হিসেবে পৃথিবী বিখ্যাত জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান। বনদফতর সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুসারে, ১৯৭৬ সাল থেকে জলদাপাড়া অভয়ারণ্য হিসেবে পরিগণিত হয়। ২০১২ সালে জলদাপাড়ার জাতীয় উদ্যানের তকমা পায়। ১৯৮৫ সালে এখানে গণ্ডারের সংখ্যা ছিল মাত্র ১৪টি। সেই সময় থেকেই গণ্ডারকে রক্ষা করার জন্য নিবির সংরক্ষণের উপরে জোর দেওয়া হয়। দীর্ঘদিন ধরে এ কাজ চলে।
মোট ২১৬.৫৩ বর্গ কিমি জুড়ে জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যান গড়ে উঠেছে। এর আশপাশে রয়েছে ২৫ হাজার পরিবার। সেই হিসেবে প্রায় একলক্ষ মানুষ এর আশাপাশে বসবাস করে। অরণ্যের মধ্যে রয়েছে ১২টি বনবস্তি। ফলে মানুষ ও পশুর সংঘাত হওয়া এখানে স্বাভাবিক। এবার ফের জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের এক শৃঙ্গ গন্ডার নির্বাচন কমিশনের ম্যাসকটে স্থান পাওয়ায় খুশি বন কর্তারা। জলদাপাড়া জাতীয় উদ্যানের ডি এফ ও দীপক এম বলেন, " এটা খুব ভাল খবর। এর ফলে জলদাপাড়ার এক শৃঙ্গ গন্ডার ও তার সংরক্ষন নিয়ে মানুষ আরও সচেতন হবেন।"

Post a Comment