বহিরাগত কিছু গুন্ডা, তারা মনে করছে টাকা দিয়ে আর ফাইভ স্টার বাবুদের গাড়ি চালিয়ে মিথ্যা কথা বলবে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়
দি নিউজ লায়নঃ বহিরাগত কিছু গুন্ডা, তারা মনে করছে টাকা দিয়ে আর ফাইভ স্টার বাবুদের গাড়ি চালিয়ে মিথ্যা কথা বলবে। গরিবদের স্টার বাড়ি গিয়ে ভাত খাওয়ার ছবি তুলছে। ওটা ভাত খাওয়া নয় ছবি তোলা। কালনার জনসভায় এমনই বক্তব্য বলেন তৃনমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি রথযাত্রা এবং বাংলা সফরে এসে কখনও কৃষক আবার কখনও মতুয়া পরিবারে বিজেপি নেতৃত্বের মধ্যাহ্নভোজ ইস্যুতেও আরও একবার তোপ দাগলেন তৃনমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
তিনি বলেন, “সব বহিরাগত। একটা গাড়ি নিয়ে এসেছে। গাড়ি তো নয়, ওর মধ্যে হোটেল। এরপর একটা বাড়িতে গিয়ে খাবে। ফাইভ স্টার হোটেল থেকে খাবার এনে খাচ্ছে, আর বলছে, ছবি তুলুন। আপনারা পুকুরের জল খাবেন, টিউবওয়েলের জল খাবেন, আর ওরা হিমালয়ান ওয়াটার খাবে। যা ছিল বাম, তাই হয়েছে শ্যাম। তাদের নেইকো কোনও দাম।” এদিন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কালনার জনসভায় বলেন, “ভোটের সময় অনেকেই এসে অনেক প্রতিশ্রুতি দেবে। টাকা দেবে। দিলে টাকা নিয়ে নেবেন। কিন্তু ভোটটা দেবেন তৃণমূলে। কারণ ওই টাকা ওদের নয়। আপনার-আমার মতো সাধারণ মানুষের টাকা। টাকা দিলে টাকা নেবেন। খেয়ে নেবেন। আর ভোট বাক্সে গিয়ে উলটে দেবেন। ত্রিপুরায় গিয়ে দেখে আসুন। ওখানে বাঙালিরা ভোট দেওয়ার পর কাঁদছে। অসমে দেখুন এনআরসি’র নামে কীভাবে অত্যাচার হচ্ছে।”
দলবদল নিয়ে কটাক্ষ করে বলেন, “দুষ্টু গরুর থেকে শূন্য গোয়াল ভাল। কী মা- বোনেরা কি তাই তো? কয়েকটা দুষ্টু গরু হাম্বা হাম্বা ডাকতে ডাকতে ইধার ওধার করে বেড়াচ্ছে' নিজেদের দুনীতি চাপা দেওয়ার জন্য' তারা গেছে। ভাল হয়েছে। পাপ বিদায় হয়েছে।“ বিজেপির বিরুদ্ধে আরও একবার টাকা দিয়ে ভোট কেনার অভিযোগ তুলেছেন তিনি। তাঁর কথায়, “ভোটের সময় অনেকেই এসে অনেক প্রতিশ্রুতি দেবে। টাকা দেবে। দিলে টাকা নিয়ে নেবেন। কিন্তু ভোটটা দেবেন তৃণমূল। কারণ ওই টাকা ওদের নয়। আপনার-আমার মতো সাধারণ মানুষের টাকা। টাকা দিলে টাকা নেবেন। খেয়ে নেবেন। আর ভোট বাক্সে গিয়ে উলটে দেবেন।“ কালনার জনসভায় কড়া ভাষাতে দলত্যাগীদের সমালোচনা করেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, " যারা তৃণমূলে থেকে তৃণমূলের খারাপ করে তাদের দলে থাকার প্রয়োজন নেই।
তৃণমূল কংগ্রেস তারাই করবে যারা মানুষের কাজ করবে।একটা দুটো গোরু কোথা চলে গেল, তাতে তৃণমূল কংগ্রেসের কিছু যায় আসে না।" এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন," মা ছেলেকে খাইয়ে দাইয়ে লালনপালন করবে, তারপর মা যখন অসুস্থ হয়ে পড়বে বা মায়ের যখন খাদ্যের প্রয়োজন পড়বে তখন তুমি মাকে বিট্রে করে পালিয়ে যাবে, এই সন্তান কুসন্তান।" কালনার বৈদ্যপুর রামকৃষ্ণ বিদ্যাপীঠের মাঠের সভামঞ্চ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তৃনমূলের যদি কেউ অন্যায় করে আমি দুটো কান মূলে দেবো বলবো তুমি এই অন্যায়টা কেন করছো।“
উন্নয়নের কথা তুলে ধরে বলেন, কালনা থেকে নবদ্বীপ শান্তিপুর যাওয়ার জন্য ১১০০ কোটি টাকা দিয়ে ব্রীজ তৈরি করছি। এই ব্রীজ তৈরি হয়ে গেলে কয়েক মিনিটে ই কালনা থেকে শান্তিপুর, নবদ্বীপ চলে যাবেন।নবদ্বীপ হেরিটেজ শহর করে দেওয়ার জন্য ৭০০ একর জনি দেয়েছি। আগামীদিনে মন্দির নগরী কালনাকেও হেরিটেজ শহর করে দেবো। কেন্দ্রিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়ান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কথায়, “বলেছিল ১৫ লক্ষ টাকা দেবে, দিয়েছে? পেয়েছেন? এ বারও আসবে। অনেক প্রতিশ্রুতি দেবে। কিন্তু সে সবে কান দেবেন না।”

Post a Comment