মুর্শিদাবাদে ঘন কুয়াশার বলি ৫, আহত একাধিক
দি নিউজ লায়ন ; মুর্শিদাবাদ।তীব্র ঘন কুয়াশায় দিনভর মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন জায়গা জুড়ে ভয়াবহ পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো এক এক করে ৫ জনের। আহত হয় একাধিক। এই ঘটনায় গোটা জেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।প্রথম ঘটনাটি ঘটে সাগরদিঘি এলাকায়। সেখানে মর্মান্তিক বাইক দুর্ঘটনায় একই পরিবারের তিন যুবকের মৃত্যু হয়। একটি বাইকে চেপে ফেরার পথে রাস্তার পাশে পাকা দেওয়ালে ধাক্কা মারেন তাঁরা।
দেওয়াল ভেঙে চাপা পড়ে যান। মৃতদের নাম সীতারাম মণ্ডল(৩০), শঙ্কর মণ্ডল(২১) ও অপূর্ব মণ্ডল(২৪)। বাড়ি স্থানীয় কান্তনগরে। পুলিস দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। প্রাথমিকভাবে অনুমান করা হচ্ছে ঘন কুয়াশায় দৃশ্যমানতা কমে যাওয়ায় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে তাঁরা দেওয়ালে ধাক্কা মারায় দেওয়াল ভেঙে চাপা পড়ে যান। পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, একই পরিবারের তিন যুবক কাবিলপুর থেকে কবিগান শুনতে বাইকে করে যাচ্ছিল পাশের গ্রামে পথে মোড় এলাকার রাস্তার পাশেই একটি দেওয়ালে সজোরে ধাক্কা মারে বাইকটি। দেওয়ালটি ভেঙে পড়ে।
তিনজনই দেওয়াল চাপা পড়েন। শীতের কারণে দুর্ঘটনার সময় স্থানীয় বাসিন্দারা টের পাননি। এদিকে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের লোকজন তাঁদের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করেন। তিনজনেরই ফোন বেজে যায়। একটু বেলা বাড়তেই স্থানীয় লোকজন দেখতে পান তিনজনই দেওয়ায় চাপা পড়ে রয়েছে। স্থানীয় লোকজন তাঁদের উদ্ধার করে সাগরদিঘি হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত বলে ঘোষণা করেন।
পরিবারের এক সদস্য পল্টু মণ্ডল বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে গিয়ে ওদের সকলকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। তারা সকলেই মুম্বইয়ে রাজমিস্ত্রির শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। কয়েকদিন আগেই তাঁরা বাড়ি ফিরেছেন। তাঁদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমেছে"। পাশাপাশি দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে বহরমপুরের এলাকায়। ঐ পথ দুর্ঘটনায় দু’জনের মৃত্যু হয়েছে। একজন গুরুতর জখম হয়েছেন। মৃতদের নাম উত্তম হালদার(৫৪) এবং মইদুল ইসলাম শেখ(৩৫)। তাঁদের বাড়ি হরিহরপাড়া থানা এলাকায়।
তাঁরা একটি অটো ভাড়া করে বহরমপুর থেকে ডাক্তার দেখিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। সেইসময় বহরমপুর-হরিহরপাড়া জাতীয় সড়কের উপর কাঁটাবাগানের কাছে একটি ট্রাক পিছনের দিক থেকে এসে ধাক্কা মারে। ঘটনাস্থলেই ওই দু’জন মারা যান। একজনকে গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে মুর্শিদাবাদ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে কলকাতায় রেফার করা হয়েছে।

Post a Comment