আমি জেলে থাকতে রাজি বিজেপির ঘরে থাকতে রাজি নই, বললেন মুখ্যমন্ত্রী - The News Lion

আমি জেলে থাকতে রাজি বিজেপির ঘরে থাকতে রাজি নই, বললেন মুখ্যমন্ত্রী




দি নিউজ লায়ন ; সোমবার হুগলি জেলার পুড়শুড়ার সেকেন্দারপুর বাসষ্ট্যান্ড সংলগ্ন মাঠে তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। ওই জনসভায় বক্তব্য রাখেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী সহ তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ। মুখ্যমন্ত্রী তার ভাষণে বলেন বন্যা রোধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ।আগে মানুষ বন্যার সময় খানাকুলে আসতে পারত না। আগে এলাকায় রাস্তাঘাট কিছুই ছিলনা। রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করা হয়েছে। বুথ কর্মীরা দলের সম্পদ।


গাছ থেকে পড়ে কেউ নেতা হয়না। নেতা তৈরি হয় কাজের মাধ্যমে। তান্ডব হিংসা করা ছাড়া বিজেপির কোন কাজ নেই। আমি জেলে থাকতে রাজি, কিন্তু বিজেপির ঘরে থাকতে রাজি নই। তিনি আরো বলেন যে বিজেপির কাছে মাথানত করার আগে আমি আমার নিজের গলা কেটে ফেলবো। তিনি বলেন বিজেপির লোকেরা নোংরামি শুরু করেছে। ফেক ভিডিও দেখাচ্ছে, মানুষকে মিথ্যা কথা বলছে। 


আপনারা ফেক ভিডিও দেখবেন না। বিজেপির মিথ্যা কথায় ভুলবেন না। মানুষের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজন খাদ্য-স্বাস্থ্য বাসস্থান ও শিক্ষা।রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর বাংলার মানুষের জন্য খাদ্য-স্বাস্থ্য, বাসস্থান ও শিক্ষার ব্যবস্থা করা হয়েছে। দুয়ারে সরকার প্রকল্পে ১০ লক্ষ কাস্ট সার্টিফিকেট করে দেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তিনি বলেন স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্প কার্ড যদি কোথাও রিফিউজ করে তাহলে থানায় গিয়ে অভিযোগ করবেন। ওই কার্ড থাকলে পাঁচ লক্ষ টাকার ট্রিটমেন্ট পাওয়া যাবে।রাজ্যের প্রতিটি মানুষ স্বাস্থ্য সাথী কার্ড পাবে।


 বিনা পয়সার শস্য বীমার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আগে বিনা পয়সায় শস্য বীমা পাওয়া যেত না। যে সমস্ত কৃষক  ১৮  থেকে ৬০বছরের মধ্যে মারা যাচ্ছে তাদের দু'লক্ষ টাকা করে দেওয়া হচ্ছে। কন্যাশ্রীর ফলে সব মেয়েরা মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে।তিনি খানাকুল হাসপাতালের বেড সংখ্যা ৬০ থেকে বাড়িয়ে ১০০ বেড করা হবে বলে ঘোষণা করেন।ওই এলাকার কলেজে কর্মী নিয়োগ এর ব্যাপারটি শিক্ষা দপ্তর কে জানাবেন বলে জানান। বিজেপির মত আমি মিথ্যা কথা বলছি না। বিজেপি বলেছিল সবার একাউন্টে ১৫ লক্ষ টাকা দেবে, কিন্তু দেয়নি।


আমরা সকলকে স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের আওতায় আনবো বলেছিলাম আমরা এনেছি। আমরা ছিলাম আমরাই থাকবো। বিজেপি দেশটাকে বিক্রি করে দিচ্ছে। শিক্ষা সংস্কৃতিকে ধ্বংস করছে ।বাংলায়৪০ শতাংশ দারিদ্র্য কমেছে। বাংলায় বেকার সমস্যার সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে ।বাংলা হ্যাংলা নয়, বাংলা কারো কাছে মাথা নত করেনি, বাংলার সংস্কৃতি শিক্ষা সম্পূর্ণ আলাদা। তাকে নিয়ে আমি নোংরা রাজনীতি করতে দেবো না। তিনি তাঁর ভাষণে বলেন এরাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর কি কি উন্নয়ন মূলক কাজ করেছেন তা তিনি  বিস্তারিতভাবে তার ভাষণে তুলে ধরেন।


 তিনি বলেন  হুগলি থেকে উত্তরবঙ্গ যাওয়ার রাস্তায় তৈরীর কাজ চলছে। সেচ প্রকল্পের কাজ হচ্ছে। এই এলাকার মানুষকে আর বন্যার কবলে পড়তে হবে না। তিনি বলেন আপনারা বিজেপির মিথ্যা ভাঁওতাবাজিতে ভুলবেন না ওদের উপযুক্ত জবাব দেবেন।বামেরা ৩৪  বছর ক্ষমতায় থেকে ও কিছুই করেনি,এখন তারা বড় বড় কথা বলছেন।তাই বিজেপির পাশাপাশি বামেদের ও তিনি সমালোচনা করেন।ওই সভায় সব চেয়ে বেশি মায়েদের উপস্থিতি দেখে খুশি মমতা।আকাশ মেঘলা থাকা সত্বেও মানুষের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। 


মুখ্যমন্ত্রী সহ ওই সভায় বক্তব্য রাখেন রাজ্যের মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম, সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় ,সুজাতা খাঁ মন্ডল, হুগলি জেলা তৃণমূল কংগ্রেস সভাপতি দিলীপ যাদব  সহ আরো অনেকে।হুগলি জেলায় তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়কের মধ্যে কেবলমাত্র প্রবীর ঘোষাল ওই সভায় আসেননি। দলের সমালোচনা করলেও সিঙ্গুরের মাস্টারমশাই প্রবীণ বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য মুখ্যমন্ত্রীর সভায় উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও তৃণমূল কংগ্রেসের অন্যান্য নেতৃবৃন্দ সামিল হয়েছিলেন ওই সভায়। মুখ্যমন্ত্রী বলেন আমি মানুষের পাশে ছিলাম আগামী দিনে থাকব এবং মানুষের উন্নয়নে আমি কাজ করে যাব।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.