সংক্রান্তিতে ঢেঁকিতে ধান ভেঙ্গে পিঠের প্রচলন পুরাতন মালদায়
দি নিউজ লায়ন ; পুরাতন মালদার লোলাবাগ এবং বাশহাঁটি এলাকায় প্রচলিত রয়েছে ঢেঁকিতে চাল কুড়িয়ে পিঠে পুলি তৈরি। পুরাতন মালদা পুরসভার লোলাবাগ এবং বাশহাঁটি এলাকায় অধিকাংশ পরিবার আজও বংশপরম্পরায় সেই পূর্বপুরুষদের প্রথা মেনে পিঠে, পুলি তৈরির জন্য ঢেকি ব্যবহার করে চলেছেন। বৃহস্পতিবার পৌষ সংক্রান্তি। আর এই পৌষ সংক্রান্তি উপলক্ষে ঘরে ঘরে হরেক রকমের পিঠা তৈরীর প্রচলন রয়েছে।
সময়ের অভাবে আজকের দিনে অনেক মানুষ বাজারে প্যাকেটজাত পিঠে, পুলি কিনে পৌষ সংক্রান্তি পালন করেন। আবার অনেকেই মেশিনের মাধ্যমে আতপ চাল কুড়িয়ে পিঠে , পুলি তৈরি করে থাকেন। কিন্তু পুরাতন মালদার লোলাবাগ এবং বাশহাঁটি এলাকার চিত্রটা সম্পূর্ণ আলাদা। এই এলাকার সিংহভাগ পরিবার আজও পূর্বপুরুষদের প্রথা মতো ঢেঁকিতে আতপ চাল কুড়িয়ে পিঠে পুলি তৈরি করেন। এই ধরনের প্রথা মালদা জেলার আর অন্য কোথাও আছে বলে মনে হয় না। ওই দুই এলাকার অধিকাংশ বাড়ির মহিলারা প্রাচীন ঐতিহ্যকে এখনো ধরে রেখেছেন। যেখানে গ্রাম বাংলার প্রাচীন নিদর্শন উঠে এসেছে।
বুধবার পুরাতন মালদার লোলাবাগ এবং বাশহাঁটি এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, অধিকাংশ পরিবারের মহিলারা তাদের বাড়িতে পিঠে , পুলি তৈরির জন্য ঢেঁকিতে চাল কুড়াতে ব্যস্ত রয়েছেন। বিভিন্ন ধরনের খাদ্য সামগ্রী ব্যবহার করে তৈরি করা হবে দুধ পুলি , পাটিজোড়া, তিলের পিঠা, পুয়া পিঠা সহ নানান ধরনের পৌষ সংক্রান্তির খাবার। আর এই কাজ করতে ওই এলাকার প্রতিটি বাড়িতেই এখন চরম ব্যস্ততা দেখা দিয়েছে মহিলাদের মধ্যে।
লোলাবাগ এলাকার গৃহবধূ বিষ্ণুপ্রিয়া দাস, দিপালী মন্ডলদের বক্তব্য , মেশিনে চাল কুড়িয়ে পিঠা তৈরিতে কোন আনন্দ নেই। তাই বংশের পূর্ব পুরুষদের পুরনো স্মৃতিকে ধরে রাখতেই এখনো কাঠের ঢেকিতে আতপ চাল ভাঙানোর প্রচলন চলে আসছে। এই খাদ্য উপকরণ দিয়ে বাড়িতে তৈরি হবে নানান ধরনের পিঠে, পুলি। একটি পরিবারের তিন থেকে চারজন করে মহিলারা নিজেদের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন।
বাশহাঁটি এলাকার বেশ কিছু গৃহবধূদের বক্তব্য, আধুনিক যুগে কাঠের ঢেকি প্রচলন একেবারেই নেই বললেই চলে। ঢেকিতে চাল কুড়ানোর প্রচলনের প্রথা বাঙালির একটি ঐতিহ্য। তাই এই প্রথাকে আজও ধরে রেখেছে এই এলাকার অধিকাংশ বাড়ির মহিলারা। বৃহস্পতিবার পৌষ সংক্রান্তি। তাই বুধবার দিন ঢেঁকিতে চাল কুড়ানোর কাজটা শেষ করতে তৎপরতা শুরু করেছেন তারা।
এরপরই পৌষ সংক্রান্তিতে বাড়িতে তৈরি করবেন রকমারি পিঠে, পুলি ওই এলাকার বাসিন্দাদের বক্তব্য, ঢেঁকি ব্যবহারের প্রাচীন ঐতিহ্য রয়েছে। তাই সকলেই চাইছেন যেন এই প্রচলন আগামী দিনেও টিকে থাকে।

Post a Comment