মাটির নিচে পাতাল ঘর বানিয়ে মাদক তৈরীর কারখানা
দি নিউজ লায়ন ; বাইরে থেকে বোঝার কোন উপায় নেই,আর পাঁচটা সাধারণ বাড়ির মতই দেখতে। তবে তাতে আর শেষ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। রীতিমতো পাড়াগাঁয়ের গৃহবধূ স্বামীর জেলে থাকাকালীন সীমান্তে পুরো মাদক নেটওয়ার্কের দায়ভার একার কাঁধে তুলে নিয়ে ফিল্মি কায়দায় মাটির নিচে পাতালঘর বানিয়ে দিনের পর দিন কোটি কোটি টাকার হিরোইন তৈরীর কারখানা বানিয়ে কাজ চালিয়ে আসছিল মুর্শিদাবাদের ভারত বাংলাদেশ সীমান্তবর্তী রঘুনাথগঞ্জ এলাকায়।
আর সেই তথ্যই স্পেশাল টাস্কফোর্স থেকে শুরু করে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের কাছে পৌঁছাতেই। নড়েচড়ে বসে তারা। পুরো ফাঁদ পেতে প্রায় ২ কোটি টাকার উন্নত মানের মাদক হেরোইন ও হেরোইন তৈরীর কাঁচামাল সহ গ্রেফতার করা হল দুই কারবারি কে। যদিও মূল পান্ডা সখিনা বিবি পলাতক।শুক্রবার এই ঘটনায় ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়ায় রঘুনাথগঞ্জ এলাকায়।
জানা যায়, সীমান্তে মাদক নেটওয়ার্ক এর অন্যতম মাথা লালগোলার মন্টু শেখ সম্প্রতি বছরখানেক ধরে জেলে গ্রেপ্তার থাকার পরেই তার স্ত্রী সখিনা বিবি এই কারবারের হাল ধরে। ক্রমশ ভারত-বাংলা সীমান্তে মাদক কারবারের কুইন হিসেবে পরিচিত হয় সে। কিন্তু তারপরও তার কারবার বন্ধ করা যায়নি। কারাগারে বসেই স্বামী মন্টুর নির্দেশে স্ত্রী এলাকাজুড়ে মাদক কারবারের নেটওয়ার্ক চালিয়ে যাচ্ছিল। সেইমতো সখিনা তার সঙ্গীদের মাধ্যমে রঘুনাথগঞ্জের গণকরে একটি পাতালঘর বানিয়ে। সেখানেই তৈরি করা হয়েছিল আস্ত মাদক কারখানা।
মাটির নীচে বসেই হেরোইন, ব্রাউন সুগার তৈরির কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল তার সিন্ডিকেট। তার রঘুনাথগঞ্জের কারখানায় তৈরি হওয়া উন্নতমানের মাদক রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলে যেত। ভিনরাজ্যেও তার ক্রেতা রয়েছে। এই অবৈধ কারবারের খবর পেয়ে এসটিএফ ও জঙ্গিপুর পুলিস যৌথভাবে ওই মাদক কারবারির ডেরায় হানা দেয়।
টানা তল্লাশি অভিযান চালিয়ে একের পর এক উন্নত মানের মাদকের প্যাকেট থেকে শুরু করে কাঁচামাল বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা উদ্ধার করে পুলিশ। সব মিলিয়ে নগদ ১২লক্ষ টাকা সহ ডেরা থেকে প্রায় ২ কোটি টাকার মাদক উদ্ধার হয়েছে। তোফাজুল হক ও আনারুল ইসলাম নামে দুই কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে। তারা মূলত মাদক তৈরির কাজ করত।
বাড়ি থেকে ৯১০গ্রাম ব্রাউন সুগার উদ্ধার হয়েছে। ২৫০ গ্রাম হালকা ধূসর রংয়ের কেমিক্যাল, ৩০প্যাকেট সোডিয়াম কার্বনেট এসজি উদ্ধার হয়েছে। ৩০টি প্যাকেটে মোট ১৫০কেজি সোডিয়াম কার্বনেট এসজি ছিল। এছাড়া ১৭প্যাকেট অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড উদ্ধার হয়েছে। প্রতি প্যাকেটে পাঁচ কেজি অ্যামোনিয়াম ক্লোরাইড ছিল। এছাড়া আরও বেশকিছু রাসায়নিক পাওয়া গিয়েছে। এদিন শুক্রবার ধৃতদের কড়া নজরদারির মধ্যে ১৪ দিনের পুলিশ হেফাজতের বহরমপুর এনডিপিএস আদালতে তোলা হয়।

Post a Comment