আদি নব্য বিজেপি দ্বন্দ্বে রণক্ষেত্র দলীয় সম্মেলন
দি নিউজ লায়ন ; আদি বনাম নব্য বিজেপি সংঘর্ষ কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিল আসানসোলে বিজেপির কর্মী সম্মেলন। তৃণমূল থেকে আসা নেতাকর্মীদের পদ দিয়ে দেওয়া হচ্ছে। অথচ দলে দাম পাচ্ছেন না পুরনো কর্মীরা। আর এই অভিযোগে ধুন্ধুমার কাণ্ড ঘটলো বিজেপির সম্মেলনে। বিজেপির সর্বভারতীয় সম্পাদক অরবিন্দ মেনন এবং আসানসোলের সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়র সামনেই বিজেপির দুইপক্ষ বাদানুবাদ, হাতাহাতিতে জড়িয়ে পড়ল।
ঘটনায় ক্ষুব্ধ অরবিন্দ মেনন কারোর সঙ্গে কথা না বলেই গাড়িতে চেপে রওনা দিলেন কলকাতার উদ্দেশ্যে। বৃহস্পতিবার দলীয় কার্যালয়ে কুলটি এবং বারাবনি ব্লকের নেতৃত্ব এবং কর্মীদের নিয়ে সম্মেলনের আয়োজন করেছিল বিজেপি। এই সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের সর্বভারতীয় সভাপতি অরবিন্দ মেনন, সাংসদ বাবুল সুপ্রিয় সহ অন্যান্য দলীয় নেতারা। সম্মেলন শুরু হতেই সাংবাদিকদের সম্মেলন কক্ষ থেকে বের করে দেওয়া হয়।
এরপর তীব্র বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়ে বিজেপির দুইপক্ষ। একসময় দেখা যায় সম্মেলন কক্ষ থেকে বেরিয়ে আসছে শয়ে শয়ে মানুষ। ভিতরে চলছে চিল চিৎকার। মহিলা কর্মীরা ভয়ে পালাতে শুরু করেন। অনেকে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তারা জানান, ভেতরে মারামারি হচ্ছে। টেবিল চেয়ার ছোড়াছুড়ি হচ্ছে। সাংবাদিকরা ভেতরে ঢোকার চেষ্টা করলে তাদেরকে বাধা দেওয়া হয়। এমনকি ছবি তুলতে গেলে মোবাইল ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দেওয়া হয়।
শেষ পর্যন্ত প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ সম্মেলনকক্ষ ছেড়ে বেরিয়ে চলে যায়। সভা কার্যত পন্ড হয়ে যায়। যদিও বাইরে বেরিয়ে এসে বাবুল সুপ্রিয় জানান সভা ভালোভাবেই হয়েছে। নিজেদের পরিবারের লোকেরা কথা বললে, দাবি জানালে একটু চিৎকার চেঁচামেচি হয়। এমন কিছু হয়নি।"সর্বভারতীয় সম্পাদক অরবিন্দ মেননকে প্রশ্ন করতে গেলে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে কারো প্রশ্নের জবাব না দিয়ে গাড়িতে চেপে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দেন।
জেলা সভাপতি লক্ষ্মন ঘোড়ূই জানান, তৃণমূল থেকে যারা এসেছে তাদেরও যেমন দায়িত্ব দিতে হবে তেমনি পুরনো কর্মীদেরও দায়িত্ব নিতে হবে। এই দাবি ছিলম তাই একটু বাদানুবাদ হয়েছে। আমরা দুই পক্ষকে নিয়ে চলতে চাই।

Post a Comment