ভর করেছে ভূতে! নববধূর অস্বাভাবিক আচরণে অশরীরী আতঙ্ক গোটা গ্রামে
দি নিউজ লায়নঃ সদ্য বিবাহিতা এক গৃহবধূর অস্বাভাবিক আচরণকে কেন্দ্র করে ভূতের আতঙ্কে গোটা গ্রাম। গত প্রায় একমাস ধরে ইটাহার থানার পালইবাড়ি গ্রামের কালীতলাপাড়া এলাকায় প্রতিদিন নানা ধরনের অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে চলেছে বলে দাবী গ্রামবাসীদের। ওই গৃহবধূকে ঘিরে এলাকার বাসিন্দাদের একাংশের মধ্যে ভূতের উপদ্রবের গুজবকে কেন্দ্র করে এখনও তীব্র আতঙ্ক রয়েছে।
বিহারের কাটিহার থানা এলাকার বাসিন্দা কল্পনার প্রায় একমাস আগে বিয়ে হয় কালীতলাপাড়ার বাসিন্দা পেশায় মোটরবাইক মেরামত কর্মী সুব্রত দাসের সঙ্গে। বিয়ের পর থেকেই কল্পনা শ্বশুরবাড়িতে অস্বাভাবিক আচরণ করছেন বলে অভিযোগ। কোনো অদৃশ্য শক্তি তার উপর প্রতিনিয়ত নানাভাবে আক্রমণ চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। কল্পনা এদিন বলেন, “বিয়ে হয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসার কয়েকদিন পর থেকেই আমার মাথা সহ শরীরের বিভিন্ন জায়গায় আঘাত করছে। খাওয়ার সময়ে ভাতের থালা ও জলের গ্লাস অদৃশ্য অবস্থায় কেউ টেনে নিয়ে ফেলে দিচ্ছে। কে বা কারা এসব করছে বলতে পারব না।” শুধু তাইই নয়, ওই গৃহবধূ একাকি ঘরে থাকলেই আচমকাই থালা বাসন বা কোনো জিনিস তার শরীরে আঘাত করে বলে তার অভিযোগ।
ওই এলাকার বাসিন্দা নির্মল দাস বলেন, “যা কিছু থাকে উড়ে এসে ওর গায়ে পড়ে। কোনো অদৃশ্য শক্তি ওর সাথে।এসব করছে। এটা ভুতের কারবারই হবে। গত প্রায় একমাস ধরে ভূতের উপদ্রবের আতঙ্কে রয়েছি। সন্ধ্যার পর এলাকার অনেকেই বাড়ি থেকে বার হওয়ার সাহস পাচ্ছেন না।” এদিকে রাতে কেউ বাড়ির বাইরে না বেড়োলেও সকাল হতেই এলাকার বাসিন্দারা ওই গৃহবধূর বাড়িতে ভিড় জমান। এদিকে কল্পনার শাশুড়ী মালতি দাস কল্পনাকে স্থানীয় এক কবিরাজের কাছে নিয়ে গিয়ে ঝাড়ফুকও করান বলে স্থানীয় সূত্রের খবর।
এদিন তার শাশুড়ী মালতি দাসও তার বৌমা ভুতের কবলে বলে দাবী করেছেন। যদিও ভূতের উপদ্রবের বিষয়টি মানতে চাননি পশ্চিমবঙ্গ বিঞ্জানমঞ্চের সদস্যরা। মঞ্চের উত্তর দিনাজপুর জেলার সহ সম্পাদক গৌতম সিনহা বলেন, “ভূত বলে কিছু নেই। সবটাই কুসংস্কার। ওই গৃহবধূ মানসিক কোনও সমস্যায় ভুগছেন বলে মনে হচ্ছে। অথবা তাঁর অস্বাভাবিক আচরণের পিছনে অন্য কোনও কারণও থাকতে পারে। মঞ্চের তরফে খুব শীঘ্রই ওই এলাকায় গিয়ে ওই গৃহবধূ, তাঁর পরিবারের লোকজন ও বাসিন্দাদের ভূত নিয়ে কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সচেতন করা হবে।”

Post a Comment