আধুনিক ভারতের মীরজাফর বলে শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করলেন ছত্রধর মাহাতো - The News Lion

আধুনিক ভারতের মীরজাফর বলে শুভেন্দু অধিকারীকে কটাক্ষ করলেন ছত্রধর মাহাতো




দি নিউজ লায়ন ; শনিবার মেদিনীপুর  কলেজ মাঠে বিজেপির সর্বভারতীয় প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ এর হাত থেকে বিজেপির পতাকা নিয়ে  তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে রাজ্যের প্রাক্তন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিজেপি দলে যোগদান করেন। তাই তাকে তীব্র ভাষায় শনিবার আক্রমণ করলেন তৃণমূলের রাজ্য সম্পাদক ছত্রধর মাহাতো। 


শনিবার ঝাড়গ্রাম জেলার ঝাড়গ্রাম ব্লকের শিরশি গ্রামে বঙ্গধ্বনি কর্মসূচিতে তিনি যোগ দেন। তিনি ওই গ্রামে গিয়ে মানুষের সাথে কথা বলেন। গ্রামবাসীদের অভাব-অভিযোগের কথা মন দিয়ে শোনেন।তিনি  গ্রামবাসীদের হাতে রাজ্য সরকারের উন্নয়নমূলক কাজের খতিয়ান তুলে ধরে রিপোর্ট কার্ড তুলে দেন। তিনি বিভিন্ন বাড়িতে গিয়ে কখনো শালপাতার থালা তৈরির কাজ করেন, কখনও তিনি খামারে গিয়ে ধান ঝাড়ার কাজও করেন। 


এরপর তিনি গ্রামে গ্রামে গিয়ে জনসংযোগের কাজ করেন। যেখানে প্রচুর মানুষের সমাগম হয়। সেই সময় তিনি বলেন শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়েছে কি কারণে তা তিনি প্রকাশ্যে বলেননি। তিনি শুধু তৃণমূলকে তোলাবাজ  বলে আখ্যা দিয়েছেন ।তিনি বলেন উনার মত বড় তোলাবাজ আর কেউ ছিলনা। উনি হলেন আধুনিক ভারতের মীরজাফর। সারদা, নারোদার হাত থেকে বাঁচার জন্য উনি তৃণমূল ছেড়েছেন। যদি উনি তৃণমূল না ছাড়তেন তাহলে জেলে যেতেন।


এনআইএ সহ কেন্দ্রীয় সংস্থা গুলি ওকে জেলে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় তদবির শুরু করে দিয়েছিল।উনি জননেতা বলে প্রচার করেন, জননেতা হতে গেলে তার মধ্যে অনেক কিছুই থাকে। উনি তৃণমূল কংগ্রেস এ যোগদান করার পর বিধায়ক হয়েছেন, সাংসদ হয়েছেন, তিনটা দপ্তরের মন্ত্রী হয়েছিলেন বিভিন্ন সংস্থার চেয়ারম্যান ছিলেন। উনার সাহস যদি থাকে বিদ্যাসাগর ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদ কেন এখনও ছাড়েনি।   


কেশপুর থেকে ওই ব্যাংকের প্রতিনিধি হিসেবে জয়লাভ করেছিলেন। উনি ভেবেছিলেন একাই উনি চালাক মানুষ। ওনার সঙ্গে যারা আছে যারা ওনার সঙ্গে গিয়েছেন তাদের অস্তিত্ব বলে কিছুই নেই। উনি দল ভাঙার খেলায় মেতে উঠেছিলেন,তৃণমূলের সংগঠনকে মজবুত করতেনয়।  তৃণমূল কে ধ্বংস করার জন্য তৃণমূলে যোগ দিয়েছিলেন। জঙ্গলমহলের কটা মানুষের উনি উপকার করেছেন। উনি বলেছেন নেতাই গ্রামের মানুষ উনার সাথে আছে।নেতাই গ্রামের মানুষ কার সাথে আছে আগামী ৭ ই জানুয়ারি তার প্রমাণ হবে ।নেতাইএর রক্ত ব্যর্থ হবে না। 


এই আধুনিক ভারতের মীরজাফরদের তারা উপযুক্ত জবাব দেবে। কারণ নেতাই গ্রাম আমাদের কাছে শহীদের গ্রাম। শহীদের গ্রাম কোনদিন স্বৈরাচারী অত্যাচারীদের জায়গা দেয়নি।  যাদের উত্তরসূরিরা সেই সময় স্বাধীনতা সংগ্রামের আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী দেশ ব্রিটিশ পুলিশের হাতে ধরিয়ে দিয়েছিল তাদের কাছ থেকে বেশি কথা মানুষ শুনবে না। 


তিনি শুভেন্দু অধিকারীকে এক হাত নিয়ে বলেন জঙ্গলমহলে আসুন রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা হবে।  জনগণ আপনার পাশে নেই জনগণ মমতার পাশে আছে। আগামী দিনে মমতার পাশে থাকবে ।স্বৈরাচারী বিজেপিকে মানুষ যেমন প্রত্যাখ্যান করবে তেমনি আপনার মত আধুনিক ভারতের মীরজাফরকে পশ্চিম মেদিনীপুর , পূর্বমেদিনীপুর ও ঝাড়গ্রাম জেলার মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।


আপনি জননেতা কিসের ,জননেতা কি মানুষকে ধোঁকা দেয় যে  মানুষের জীবন নিয়ে ছিনিমিনি করে , যে একটি সংগঠনকে তছনছ করার খেলায় মেতে উঠেছিল যে সাম্প্রদায়িক শক্তি বিজেপির হাতকে শক্তিশালী করার জন্য আগে থেকে যোগাযোগ রেখেছিল। আপনার মতো জননেতাকে জঙ্গলমহলের মানুষ আস্তাকুড়ে ছুঁড়ে ফেলে দেবে ।তাই তিনি বলেন জঙ্গলমহলের মানুষ এখনো শান্ত রয়েছে। জঙ্গলমহলের মানুষ শান্তি উন্নয়ন চায়। যে শান্তি ও উন্নয়নের জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।তিনি জঙ্গলমহলের মানুষের কাছে শান্তি উন্নয়ণ পৌঁছে দিয়েছে। তিনি সর্বস্তরের মানুষকে শান্তি ও উন্নয়ন অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.