পুত্রবধূ ও নাতনিকে পাচারকারীদের হাতে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ - The News Lion

পুত্রবধূ ও নাতনিকে পাচারকারীদের হাতে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ




দি নিউজ লায়ন ;   দাবিমতো টাকা না দেওয়ায় পুত্রবধূ ও নাতনিকে পাচারকারীদের হাতে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে পুলিশ সুপারের দ্বারস্থ হলেন মেয়ের পরিবার। ঘটনাটি ঘটেছে কালিয়াচক থানার জালুয়াবাথাল এলাকায়। 


এই ঘটনায় শ্বশুরবাড়ির চারজনের বিরুদ্ধে নারীপাচার এবং মেয়ে ও নাতনির প্রতি অত্যাচারের অভিযোগ জানিয়ে বুধবার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছেন নিখোঁজ ওই মহিলার পরিবার‌। পাশাপাশি এই ঘটনায় কালিয়াচক থানার একাংশ পুলিশের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেছেন ওই গৃহবধূর পরিবার।  অভিযোগ পাওয়ার পর পুরো বিষয়টি তদন্ত করে দেখার আশ্বাস দিয়েছেন মালদার পুলিশ সুপার অলোক রাজোরিয়া।


পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, গত দশ মাস ধরে নিখোঁজ রয়েছেন ওই গৃহবধূ এবং তার একমাত্র কন্যা সন্তান।  নিখোঁজ ওই গৃহবধূর নাম তানজুরা বিবি (২৪) এবং তার পাঁচ বছরের মেয়ে আসিফা খাতুন।  তানজুরার বাবার বাড়ি ইংরেজবাজার থানার মহদিপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের খিরকি এলাকায়। গত সাত বছর আগে তানজুরার সঙ্গে বিয়ে হয় কালিয়াচক থানার জালুয়াবাথাল এলাকার বাসিন্দা আসিফ শেকের সঙ্গে। 


বিয়ের পর থেকে পনের দাবীতে ওই গৃহবধূর ওপর অত্যাচার চালাচ্ছিল শ্বশুরবাড়ির লোকেরা বলে অভিযোগ।  এরপর চলতি বছর ৬ মার্চ ওই গৃহবধূ তানজুরা বিবি এবং তার কন্যা সন্তান রহস্যজনকভাবে উধাও হয়ে যায়।  এব্যাপারে ৮ মার্চ কালিয়াচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তানজুরা বিবির মা আজকেরা বিবি। 


বুধবার মালদা আদালতের এক আইনজীবীকে সঙ্গে নিয়ে মালদার পুলিশ সুপারের কাছে মেয়ে ও নাতনিকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ তুলে শ্বশুরবাড়ির বিরুদ্ধে লিখিত নালিশ জানিয়েছেন আজকেরা বিবি। তিনি বলেন, বিয়ের কয়েক মাস পর থেকেই জামাই সহ শ্বশুর বাড়ির লোকেরা মেয়ের উপর অত্যাচার চালাচ্ছিল। মাঝে মেয়ে এবং নাতনিকে আমরা বাড়ি নিয়ে চলে এসেছিলাম। 


এরপর গত ৬ মার্চ মেয়ে শ্বশুর বাড়ি চলে যায়। আর তারপরেই জানতে পারি শ্বশুর বাড়ি থেকে মেয়ে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে। পরে কালিয়াচক থানায় লিখিত অভিযোগ জানানো হয়। কিন্তু সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ কোনো সহযোগিতা করছে না। আজকেরা বিবির আরও অভিযোগ, একমাস আগে একটি অচেনা নম্বর থেকে আমার মেয়ে ফোন করে বলেছিল সে খুব বিপদে আছে।


 এরপরে ফোন কেটে যায়। পরে সেই নম্বরটি দিয়ে পুনরায় পুলিশে অভিযোগ জানানো হয়। তদন্ত করে পুলিশ জানতে পারে ওই ফোন নম্বরটি উত্তরপ্রদেশের কোন এক এলাকার। তাই আমাদের সন্দেহ মেয়ে ও নাতনিকে পাচারকারীদের হাতে বিক্রি করে দিয়েছে জামাইসহ শ্বশুর বাড়ির লোকেরা। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.