লাউ চাষের সঠিক নিয়ম
লাউ সব ধরণের মাটিতে জন্মে। সাধারণত লাউ শীতকালে চাষ করা হয়ে থাকে। লাউ লতানো উদ্ভিদ তাই সারা বছরই চারা লাগিয় চাষ করা যায়। লাউ বীজ রোপণ করার আগে খেয়াল করে দেখে নিতে হবে আপনার এলাকায় কোন লাউ, লম্বা না গোল লাউ চাহিদা বেশি? যে লাউয়ের চাহিদা বেশি সেই লাউ চাষ করতে হবে।
বীজতলা তৈরি ও বীজ বপণ
লাউ চাষের জন্য পলিব্যাগে চারা উৎপাদন করে নিলে ভালো হয়। স্বাভাবিকভাবে আলো বাতাস থাকে এমন জায়গা নির্বাচন করতে হবে। বেড ২০-২৫ সেমি উঁচু করতে হবে। বীজ বপনের জন্য ৮*১০ সেমি আকারের পলিব্যাগ দরকার। অর্ধেক মাটি ও অর্ধেক গোবর মিশিয়ে বা এক তৃতীয়াংশ কম্পেষ্ট সার মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে। বীজ গজানোর জন্য মাটির জো ঠিক রাখতে হবে।
বীজের অংকুরোদগম
লাউয়ের বীজের খোসা কিছুটা শক্ত বলে অংকুরোদগম হতে সময় লাগে। সহজে অংকুরোদগমের জন্য পরিস্কার জলে ১৫-২০ ঘন্টা ভিজিয়ে রাখতে হবে অথবা শতকরা ১% পটাশিয়াম নাইট্রেট দ্রবণে একরাত ভিজিয়ে তারপর পলিব্যাগে বীজ বপন হবে।
বীজতলায় চারার পরিচর্যা
চারা অংকুরোদগম হওয়ার পর বেডে চারার সঠিক ভাবে পরিচর্যা করতে হবে। শীতের সময় চারা গজাতে সমস্যা হয়। এজন্য শীতের সময় বীজ গজানোর আগে প্রতি দিন রাতে বেড ঢেকে রাখতে হবে। এবং দিনের বেলাতে খোলা রাখতে হবে। বেডে চারার চাহিদা অনুসারে জল দিতে হবে।চারার গায়ে জল না পড়ে সে দিকে খেয়াল রাখতে হবে। জল দেওয়ার ফলে পলিব্যাগের মাটি চাকা বাধলে সেই চাকা ভেঙে দিতে হবে।
জমি তৈরি
মাটি : জৈব পদার্থ এঁটেল দো-আঁশ ও দো-আঁশ মাটি লাউ চাষের জন্য ভাল হয়।
জলবায়ু: আমাদের দেশে লাউ চাষের জন্য উপযোগী মৌসুম হলো শীতকাল। বেশি গরমও না আবার বেশি শীতও না এমন আবহাওয়া লাউ চাষের জন্য ভাল। বীজ গজানোর পর চারার বয়স যখন ১৬-১৭ দিন হবে তখন চারা মাঠে লাগানো উত্তম
সার প্রয়োগ
যতটা পারেন গর্তে পচা গোবর, কচুরিপানা দিয়ে মাটি চাপা দিয়ে ৭দিন রাখতে হবে। প্রতি মাদায়, সার টি,এস,পি ১০০ গ্রাম, খইল ১০০ গ্রাম, পটাশ ৫০ গ্রাম, বোরন ২০ গ্রাম, জিপসাম ১০০ গ্রাম।
চারার পরিচর্যা
লাউ গাছের প্রচুর পরিমানে জল প্রয়োজন হয়। লাউ গাছের প্রয়োজনীয় জলের অভাব হলে ফল ধারণ ব্যাহত হয় এবং ফল আস্তে আস্তে ঝরে পড়ে। ভালো ফলন পাওয়ার জন্য নালার মাধ্যমে গাছের প্রয়োজন অনুসারে নিয়মিত সেচ দিতে হবে। নালায় জল দিয়ে জমিয়ে রাখলে গাছ তার প্রয়োজন মতো জল টেনে নেবে। শুষ্ক মৌসুমে লাউ গাছে ৪-৫ দিন পরপর সেচ দিতে হয়।

Post a Comment