রসুন চাষের সঠিক পদ্ধতি
রসুনে আমিষ, প্রচুর ক্যালসিয়াম ও সামান্য ভিটামিন ‘সি’ থাকে। রসুন প্রাচীনকাল থেকেই ওষুধী গাছ হিসেবে পরিচিত। রসুন পৃথিবীর অনেক প্রাচীন গুরুত্বপূর্ণ কন্দ জাতীয় একটি ফসল। আমাদের দেশে মসলা হিসেবে রসুনের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে করোনা আবহে এর চাহিদা আরও বেড়েছে। রসুন মসলা ধরনের ফসল। তবে রসুনকে শুধু মসলাই বলা যাবে না। কারণ রসুনে অনেক ঔষধী গুণ রয়েছে। রসুন হেকিমি শাস্ত্রেও ঔষধ হিসাবে ব্যবহার হয়ে আসছে। আসুন জেনে নেই রসুন চাষ করার পদ্ধতি।
রসুনের রোপণ সময়
মধ্য অক্টোবর থেকে শেষ অক্টোবরের মধ্যে রোপণ করা উত্তম।
জলবায়ু ও মাটি
১। রসুন উষ্ণ ও আর্দ্র জলবায়ুতে ভাল জন্মে। পলি দোআঁশ মাটি অর্থাৎ জৈব পদার্থ সমৃদ্ধ ও সহজেই গুড়ো হয় এমন মাটি রসুন চাষের উপযোগী।
২। রসুনের গাছের পরিপক্কতার সময় আবহাওয়া অবশ্যই শুষ্ক থাকা দরকার। এ জন্য আমাদের দেশে কেবলমাত্রে রবি মৌসুমেই রসুনের চাষ করা উত্তম।
৩। তবে খেয়াল রাখবেন শক্ত এঁটেল মাটি রসুন চাষের অনুপযুক্ত।
বীজ বপন:
জমি ভালভাবে চাষ ও মই দিয়ে মাটি একেবারে ঝুরঝুরে করে নিতে হবে। বীজ বপনের আগে জমিতে মই দিয়ে সমান করে নিতে হবেশুকনো রসুনের বাহিরের সারির কোয়া লাগাতে হবে। ১৫ সে.মি. দূরত্বে সারি করে ১০ সে.মি. দূরে ৩-৪ সে.মি. গভীরে রসুনের কোয়া রোপন করতে হবে।সমস্ত জমি প্রায় ৭ সে.মি. পুরু খড় দিয়ে ঢেকে দিতে হবে। প্রতি হেক্টরে ৩০০-৩৫০ কেজি বীজ রসুনের প্রয়োজন হয়।
রসুনের সার প্রয়োগ
১। সারের মাত্রা মাটির উর্বরতা ভেদে সামান্য কমবেশি হতে পারে। তবে বিঘা প্রতি আদর্শ মাত্রা হতে পারে- ইউরিয়া ১৩-১৫ কেজি, এমওপি ২১-২২ কেজি, টিএসপি ১১-১২ কেজি, জিপসাম ২২-২৩ কেজি, জিংক অক্সাইড ১/২-১ কেজি এবং বরিক এসিড সর্বোচ্চ দেড় কেজি দেয়া যেতে পারে।
২। বিঘাপ্রতি ৮ থেকে ৯ কেজি ইউরিয়া এবং অন্যান্য সারের সবটুকু জমি তৈরির শেষ চাষের সময় ছিটিয়ে প্রয়োগ করতে হবে।
৩। বাকি ইউরিয়া দুই কিস্তিতে চারা গজানোর ২৫ ও ৫০ দিন পর শুধু সারি রসুনের মাঝামাঝি জায়গায় ছিটিয়ে উপরি প্রয়োগ করে মাটিতে মিশিয়ে দিতে হবে।
সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা:
মাটিতে রসের অভাব থাকলে মাঝে মাঝে সেচ দিতে হবে। প্রতিবার সেচ দেয়ার পর মাটি নিড়ানি দিয়ে কুপিয়ে ঝুরঝুরে করে দিতে হবে। আগাছা দেখা দিলে তা পরিষ্কার করতে হবে।
রসুনের পরিচর্যা
রোপনের এক মাস পরে খড়ের ঢাকনার ভিতর দিয়ে উঠিয়ে আগাছাগুলো সাবধানে তুলে ফেলতে হবে। উপরি সার প্রয়োগের পর পর হালকা সেচ দিতে হবে। অতিরিক্ত জল যাতে দাড়িয়ে থাকতে না পারে সেদিকে লক্ষ্য রাখতে হবে ও প্রয়োজনে জমির জল বের করার জন্য নালা রাখতে হবে।
রসুনের পোকামাকড় ও রোগবালাই
রসুনে পোকা মাকড় ও রোগ বালাই এর আক্রমণ খুবই কম হয়। রসুনে মাঝে মধ্যে থ্রিপস পোকার আক্রমণ দেখা যায় প্রতিকারের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। রোগের মধ্যে প্রধানত গোড়া পঁচা রোগ, পারপেল ব্লচ ও স্মাট রোগ হয়। এসব রোগ প্রতিকারের জন্য কীটনাশক ব্যবহার করতে হবে। এসকল পোকামাকড় ও রোগ দমনের জন্য প্রয়োজনে স্থানীয় কৃষিকর্মকর্তার সাথে পরামর্শ করতে হবে।
রসুন সংগ্রহ
রসুন গাছের পাতা শুকিয়ে বাদামি রং ধারণ করলে ঢলে পড়ে তখন রসুন তোলার উপযোগী হয়।রসুনের আকার বড় হলে সংগ্রহ করা উচিত। মাঠ থেকে তোলার পর ২-৩ দিন অল্প রোদে শুকিয়ে রসুন সংরক্ষণ করা যায়। রসুন চাষ করে প্রতি হেক্টরে ১০-১২ টন ফলন পাওয়া যায়।

Post a Comment