প্রেমিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেছে বাবা-মা, আত্মঘাতী নাবালিকা
প্রেমিকের সঙ্গে দেখে ফেলেছিলেন বাবা-মা । নির্দেশ দিয়েছিলেন দ্রুত বাড়ি ফেরার। আর তাতেই ভয় পেয়ে এক বান্ধবীর ফ্ল্যাটের ছাদ থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করল এক নাবালিকা। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির চন্দননগরে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ঘটনার সূত্রপাত শনিবার। ওই দিন নাবালিকা তার বাড়িতে জানায় এক বান্ধবীর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে যাচ্ছে সে। রাতে খেয়ে বাড়ি ফিরবে। যদিও জন্মদিন ছিল তার প্রেমিকের। নাবালিকার বান্ধবীদের দাবি, প্রেমিকের বাড়িতে জন্মদিনের পার্টি করে রাতে আরো এক বান্ধবী এবং প্রেমিকের সঙ্গে চন্দননগরে ঘুরতে বেরোয় সে।
এই সময়ই তাকে প্রেমিকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেন তার বাবা-মা। দ্রুত বাড়ি ফেরার নির্দেশ দেন তারা। এতেই ঘাবড়ে যায় ওই নাবালিকা। গম্ভীর হয়ে যায় সে। প্রেমিক এবং অন্য বান্ধবীকে জানায় তাকে দ্রুত বাড়ি ফিরতে হবে তা না হলে বাড়িতে সমস্যা হবে। যদিও বাড়ি ফেরেনি সে। একটি টোটো ধরে চন্দনগর হসপিটাল মোড়ে নামে সে। সেখানে তার এক বান্ধবীর ফ্ল্যাট রয়েছে। যদিও বান্ধবীর ফ্ল্যাটে না গিয়ে সোজা ওই ফ্ল্যাটের চার তলার ছাদে চলে যায় এবং সেখান থেকে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করে। ভারী কিছু পড়ার শব্দ পেয়ে ফ্ল্যাটের বাইরে বেরিয়ে আবাসিকরা দেখেন রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে ওই নাবালিকা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসে চন্দননগর থানার পুলিশ। দেহ উদ্ধার করে হুগলির ইমামবাড়া হাসপাতালে পাঠানো হয়। গোটা ঘটনায় কার্যত স্তম্ভিত নিহত নাবালিকার পরিবার। কিভাবে এই ঘটনা ঘটল তা তারা ভেবে পাচ্ছেন না। গোটা ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত দাবি করেছেন তারা।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, আপাতত দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।তদন্ত রিপোর্টে মৃত্যুর কারণ পরিষ্কার হবে তারপরই তদন্ত প্রক্রিয়া এগোবে। আপাতত একটি অস্বাভাবিক মৃত্যুর মামলা রুজু করা হয়েছে। তবে প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান বাড়িতে বাবা মা বকুনি দিতে পারে এই ভয়েই আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারে ওই নাবালিকা। তবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে তার প্রেমিক এবং অন্য বান্ধবীদের ভূমিকা। বিশেষ করে যে বান্ধবীর ফ্ল্যাটের ছাদে গিয়ে সে আত্মঘাতী হয় বলে জানা যাচ্ছে সেই বান্ধবীর ভূমিকাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আদৌ সে ফ্ল্যাটে গিয়ে ছিল কিনা তাও খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা। সব মিলিয়ে গোটা ঘটনায় কার্যত চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে চন্দননগর এলাকায়। এত সামান্য কারণে কিভাবে কেউ আত্মহত্যা করতে পারে তা ভেবে পাচ্ছেননা এলাকার বাসিন্দারা।

Post a Comment