৫ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর স্মৃতিতে দীপাবলি ও কালী পূজোতে নিষ্প্রদীপ বেলডাঙ্গা, গ্রামজুড়ে কেবল হাহাকার
দীপাবলি থেকে কালীপুজো নিষ্প্রদীপ বেলডাঙার হাজরাপাড়া। কেবলই বিরাজ করছে হাহাকার।দশমীর দিন এই গ্রামে নৌকা বাইচের মধ্যে দিয়ে নদীতে দুর্গা প্রতিমা বিসর্জনের জলে ডুবে সলিল সমাধি হয়েছিল এলাকার ৫ যুবকের। সেই দুঃস্বপ্ন বই নিয়ে গিয়ে দীপাবলীর প্রশ্নের মধ্যে দিয়ে গ্রামজুড়ে কেবল বিষাদের সুর। ওই পাঁচ যুবকের মর্মান্তিক মৃত্যুর স্মৃতিতে এলাকার সমস্ত বাড়িতে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন থেকে শুরু করে মোমবাতি জ্বালানোর সবকিছু বন্ধ রাখা হয়।কেবলমাত্র প্রথা মেনে হাজরাপাড়া এলাকায় কালীপুজো হলেও তা কেবল মাত্র নামকাওয়াস্তে।
ঘরের ছেলেদের হারিয়ে এখনও শোকে মূহ্যমান এই সমস্ত এলাকা। সেই আনন্দ, হুল্লোড় সবকিছুই উধাও হয়ে গিয়েছে। কোনওরকমে মায়ের পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। প্রসঙ্গত, দশমীর দিন দুর্গা প্রতিমা বিসর্জন দিতে গিয়ে বেলডাঙায় বিলে নৌকাডুবিতে তরতাজা পাঁচ যুবকের মৃত্যু হয়। নিপ্পন হাজরা বন্দ্যোপাধ্যায়, সুখেন্দু দে, পিঙ্কন পাল, অরিন্দম বন্দ্যোপাধ্যায় ও সোমনাথ হাজরা জলে তলিয়ে গিয়েছিলেন। বহু খোঁজাখুঁজির পর তাঁদের দেহ উদ্ধার হয়েছিল। কিন্তু সেই দেহে প্রাণ ছিল না। তারপর থেকেই এলাকায় উৎসবের আমেজ হারিয়ে গিয়েছে।
হাজরাপাড়ার বাসিন্দা বিকাশ হাজরা বলেন, কালীপুজো করার প্রাচীন রীতি রয়েছে। সেই কারণেই মায়ের পুজোর আয়োজন করা হয়েছে। কিন্তু কোনও আনন্দ নেই। ছোট আকারে রীতি মেনে পুজো করা হচ্ছে"। অন্যান্য বছর পুজোর পরে মা কালীকে এলাকার বিভিন্ন জায়গায় ঘোরানো হয়। কাছারিপাড়া, আশ্রমতলা পর্যন্ত মাকে নিয়ে যাওয়া হয়। এবছর পুজো শেষে সরাসরি পুকুরঘাটে বিসর্জন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

Post a Comment