শাড়ির ধরণ বুঝে ব্লাউজ নির্বাচনের করুন
১। একরঙা শাড়ির ক্ষেত্রে ব্লাউজের রঙের বিপরীতে যেকোনো শাড়িই মানানসই হবে। রাতের অনুষ্ঠানে গর্জিয়াস শাড়ির সঙ্গেও এই ব্লাউজ ব্যবহার হতে পারে। আবার দিনের দাওয়াতে আরামদায়ক ছিমছাম শাড়িকেও বাড়তি আভিজাত্য জোগাবে।
২। জর্জেট, সিল্ক, মসলিনের মতো স্বচ্ছ শাড়ির সঙ্গে ব্লাউজ নিয়ে ভাবনাটা একটু বেশিই থাকে। এ ক্ষেত্রে বেছে নিন মখমলের ব্লাউজ।
৩। মখমখ ফ্রেবিকসে এমনিতেই বেশ গর্জিয়াস লুক পাওয়া যায়। আরেকটু জমকালো চাইলে গলায় এমব্রয়ডারি নকশা হতে পারে। পেছনে বোতাম দিলে ব্যবহারে আরাম পাওয়া যাবে। পার্ল বা স্টোনের অর্নামেন্টাল বোতাম ব্যবহার করতে পারেন।
৪। একটু গাঢ় রঙের স্লিভলেস মখমল ব্লাউজ যেকোনো প্রিন্টেড শাড়ির সঙ্গে অনায়াসে মানিয়ে যাবে।
৫। ফ্যাশন ডিজাইনারের মতে , ‘সংগ্রহে একটা কাতান ব্লাউজ থাকলে শাড়ি-ব্লাউজ মানানসইয়ের চিন্তা করতে হবে না। বিশেষত দাওয়াত বা পার্টি সাজে বেনারসি বা কাতান তো বটেই; হাফসিল্ক, জামদানি, শিফন, পিওর সিল্ক এমনকি তাঁতের শাড়িতেও কাতান ব্লাউজ তুলনাহীন। এক রঙের বা প্লেইন পাড়ের শাড়ির সঙ্গে এ ব্লাউজ দারুণ ফুটবে।
৬। নকশাদার ছাড়াও দু-একটা একরঙা ব্লাউজ দরকার হয়। বিশেষ কোনো উপলক্ষ না থাকলে যেকোনো শাড়ির সঙ্গে মানিয়ে যায় এসব ব্লাউজ। সে ক্ষেত্রে সুতির গতানুগতিক কাটের ব্লাউজের বদলে ভাবুন ভিন্ন কিছু।
৭। একরঙা জর্জেট ফেব্রিকস নিতে পারেন। গলা ও হাতায় কোল্ড শোল্ডার কাট আর ফ্রিলের ডিজাইন রাখুন। গলার কাছে ফ্রিলের নিচে কয়েকটা কুঁচি দিলে বেশ একটা ব্যতিক্রমী লুক আসবে।
৮। গলার ক্ষেত্রেও খুব আঁটসাঁট না হয়ে বড় কাটের গলা হলে ভালো। গলার কাটে ভিন্নতা আনতে মেট্রো, ওভাল বা পানপাতা শেপ হতে পারে। পেছনে বোতাম ও গলায় ফিতের সঙ্গে মানানসই স্টোন বা পার্লের নকশাদার টারসেল ব্লাউজে জমকালো লুক আনবে।
৯। প্রত্যেকের ব্লাউজের সংগ্রহে একটা সোনালি শেডের ব্লাউজ থাকা উচিত। এ ক্ষেত্রে উজ্জ্বল গোল্ডেন না হয়ে একটু হালকা গোল্ডেন বা বিস্কিট গোল্ডেন রঙের ফেব্রিকস নির্বাচন করুন।
১০। ব্লাউজটা সব ধরনের উপলক্ষ মাথায় রেখে ডিজাইন করতে হবে। হাতায় ও গলায় ছিমছাম, মার্জিত অথচ অভিজাত নকশার জারদৌসি নকশা থাকতে পারে। ব্লাউজের পেছনের অংশের পুরোটাজুড়ে নকশা রাখুন।
১১। শাড়ি হাল্কা হলে আর ব্লাউজে বাড়তি জৌলুস যোগ করতে চাইলে গ্লাস ওয়ার্ক বা স্টোন রাখুন নকশায়। গলায় বোট কাট হতে পারে। কনুই অবধি হাফস্লিভের চল কখনোই পুরনো হয় না। ডিজাইন ও কাটিংয়ের সমীকরণ ঠিক থাকলে এই ব্লাউজটি সব সময় পরার উপযোগী হবে।
১২। তাঁতের শাড়ি ভালোবাসলে একটা সুতি চেক বা স্ট্রাইপের প্যাটার্ন ব্লাউজ বেশ কাজে দেবে। দৈনন্দিন যেকোনো উপলক্ষ থেকে শুরু করে দাওয়াত বা পার্টিতেও তাঁতের শাড়িতে গ্রহণযোগ্য করতে পারে এই ব্লাউজ।
১৩। চাইলে শিবুরি ডাই, টাইডাই ফেব্রিকসও বাছাই করতে পারেন। কাটিং প্যাটার্ন অবশ্যই ট্রেন্ডি হতে হবে। একটু ভিন্ন ধাঁচের স্লিভ, নিচের অংশে র্যাফেল অর্থাত্ ঢেউ খেলানো বায়াস কাট, হল্টারনেক বা হাইনেক বেশ ট্রেন্ডি লুক দেবে।
১৪। ফ্যাশনে হ্যান্ডপেইন্ট শাড়ি এখন হটট্রেন্ড। সিল্ক বা মসলিনে হাতে আঁকা শাড়ির ব্লাউজে একটু চুজি হতেই হয়। সে ক্ষেত্রে এমন একটি গর্জিয়াস ব্লাউজ বানাতে হবে, যেন পেইন্ট ছাড়া অন্য শাড়িতেও মানিয়ে যায়।
১৫। এমব্রয়ডারি বা কারচুপি বা জারদৌসির ফুলেল নকশা রাখুন ডিজাইনে। শাড়ির পাড়ে ফ্রিল নকশা থাকলে ব্লাউজের বর্ডারেও ফ্রিলের নকশা রাখতে পারেন। শাড়িতে ফ্রিল না থাকলেও ব্লাউজের ফ্রিলের নকশা বেমানান লাগবে না।
১৬। এখন তো শাড়ির সঙ্গে রং না মিলিয়ে বিপরীত রঙের ব্লাউজ পরার চল। সেক্ষেত্রে নজর দিন ব্লাউজের কাপড় ও নকশায়।

Post a Comment