আধুনিক পদ্ধতিতে কমলা-চাষ
দি নিউজ লায়ন;
চারা উৎপাদন
বীজ থেকে সরাসরি চারা তৈরী করা যায়। চোখ কলম ও পার্শ্বকলমের মাধ্যমেও কলম তৈরী করা যায়। ১০ থেকে ১২ মাস বয়সের কমলার চারা বাডিং ও গ্রাফটিংয়ের জন্য আদিজোড় হিসাবে ব্যবহার করা সবচেয়ে ভালো। রোপণের জন্য সোজা ও ভাল বৃদ্ধি সম্পন্ন্ তরতাজা চারা অথবা কলম বেছে নিতে হবে।
জমি তৈরি
জমির আগাছা পরিষ্কার করতে হবে। সমতল ভূমিতে আড়াআড়ি চাষ ও মই দিয়ে এবং পাহাড়ী অঞ্চলে কোদালের সাহায্যে জমি তৈরি করতে হবে। জমির তৈরি পর উভয় দিকে ৪-৫ মিটার দূরত্বে ৬০ সেন্টিমিটার (২ফুট) আকারে গর্ত তৈরি করতে হবে। গর্তের মাটি তুলে পাশে রেখে দিতে হবে। বর্ষার আগে গর্ত মাটি দিয়ে ভর্তি করে রাখতে হবে। কমলা চাষের জমি পাহাড়ী হলে সেখানে ৩০-৫০ মিটার দূরত্বে ২-৪টি বড় গাছ রাখা যেতে পারে।
চারা রোপণ
জমির প্রকার ভেদে সমতল জমিতে বর্গাকার বা আয়তাকার এবং পাহাড়ী জমিতে কন্টুর পদ্ধতিতে কমলার চারা/কলম রোপণ করতে হবে।
রোপণ সময়
বর্ষার শুরুতে অর্থাৎ বৈশাখ ( মে-জুন) মাস কমলার চারা লাগানোর উপযুক্ত সময়। তবে সেচেরে ব্যবস্থা থাকলে যেকোন সময় কমলার চারা লাগানো যেতে পারে।
মাদা তৈরি
চারা রোপণের ১৫-২০ দিন আগে উভয় দিকে ৪-৫ মিটার দূরত্বে ৭৫ সেন্টিমিটার (২.৫ফুট) আকারে গর্ত তৈরি করতে হবে। প্রতি গর্তে ১৫ কেজি পচা গোবর, ৩-৫ কেজি ছাই, ২৫০ গ্রাম টিএসপি, ২৫০ গ্রাম এমওপি ও ২৫০ গ্রাম চুন গর্তের উপরের মাটির সাথে ভালোভাবে মিশিয়ে গর্ত ভরাট করতে হবে। গর্ত ভরাট করার ১০-১৫ দিন পর চারা রোপণ করতে হবে।
চারা রোপণ
সুস্থ ও সবল ১.০-১.৫ বছর বয়সের চারা/কলম সংগ্রহ করে গর্তের মাঝখানে এমনভাবে রোপণ করতে হবে যেন গর্তের বলটি ভেঙ্গে না যায়। চারা রোপণের পর হালকাভাবে সেচ দিতে হবে।
সার ব্যবস্থাপনা
গাছের বয়স অনুযায়ী নিম্নলিখিতভাবে সার দিতে হবে। এসব সারের অর্ধেক ফল সংগ্রহের পর অর্থাৎ ফেব্রুয়ারি মাসে এবং বাকি অর্ধেক সার ফল মার্বেল আকার ধারণ করার পর অর্থাৎ অক্টোবর মাসে প্রয়োগ করতে হবে।
সেচ ও আগাছা ব্যবস্থাপনা
চারা গাছের গোড়ায় মাঝে মাঝে জল সেচ দিতে হবে। বর্ষাকালে গাছের গোড়ায় যাতে জল না জমে সেজন্য জল নিকাশের ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া কমলা গাছের আগাছা দমন করতে হবে।

Post a Comment