চলুন ঘুরে আসি ‘বধ্যভূমি’ থেকে
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক বুদ্ধিজীবী হত্যা এক ন্যাক্কারজনক ঘটনা। মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে বাংলাদেশের বিজয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে হানাদার বাহিনী এ দেশকে মেধাশূন্য করতে শ্রেষ্ঠ সন্তানদের হত্যা করে। হত্যার স্থানটি রায়েরবাজার ‘বধ্যভূমি’ নামে পরিচিত। এছাড়াও মুক্তিযুদ্ধের সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে আরও অনেকে নিহত হন।
শহীদ বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মুনীর চৌধুরী (ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের অধ্যাপক, সাহিত্যিক ও নাট্যকার), শহীদুল্লাহ কায়সার (সাংবাদিক), আলতাফ মাহমুদ (গীতিকার ও সুরকার), সেলিনা পারভীন (সাংবাদিক), মোফাজ্জল হায়দার চৌধুরী (সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক), আনোয়ার পাশা (সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব), ডা. আলীম চৌধুরী (চিকিৎসক), গোবিন্দ চন্দ্র দেব (ঢাকা বিশ্বিবিদ্যালয়ের অধ্যাপক ও দার্শনিক),
ড. হাবিবুর রহমান (গণিতের অধ্যাপক, রাশিয়া), মীর আব্দুল কলিম (মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক, রাবি), ধীরেন্দ্রনাথ দত্তসহ (রাজনীতিবিদ) আরও অনেকে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বরের মধ্যে দেশের বিভিন্ন অংশে যেসব বুদ্ধিজীবী নিহত হয়েছেন তাদের স্মরণে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে একটি স্মৃতিসৌধ তৈরি করা হয়েছে।
স্থপতি ফরিদ উদ্দিন আহমেদ ও স্থপতি মো. জামী-আল-সাফী স্মৃতিসৌধটির নকশা করেন। এটি মোহাম্মদপুর থানায় অবস্থিত। আপনি যদি জায়গাটি ঘুরে দেখেন তবে তৎকালীন শাসকদের বর্বরতা এবং সেই সব প্রয়াত বুদ্ধিজীবীদের অপ্রতিরোধ্য সাহস অনুভব করতে পারবেন যারা নিজের জীবনের চেয়ে তাদের মাতৃভূমিকে বেশি ভালোবাসতেন।

Post a Comment