স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে উঠতে দেওয়ার দাবিতে হাওড়া ব্যান্ডেল শাখায় অবরোধ নিত্যযাত্রীদের
দি নিউজ লায়ন ; স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে উঠতে দেওয়ার দাবিতে দফায় দফায় রেল অবরোধ হাওড়া-ব্যান্ডেল শাখার বিভিন্ন স্টেশনে। সোমবার সকাল নটা নাগাদ প্রথম অবরোধ শুরু হয় হুগলির বৈদ্যবাটি স্টেশনে। রেল যাত্রীরা স্টেশন লাগোয়া টিকিট কাউন্টার খোলার দাবিতে প্রথমে বিক্ষোভ শুরু করে। রেলের তরফে টিকিট কাউন্টার খোলা হবে না বলে জানানো হলে তারা স্টেশনে এসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে রেল যাত্রীরা। দাবি জানাতে থাকে তারা টিকিট কেটে লোকাল ট্রেনে উঠতে চান। এই সময়ে একটি স্টাফ স্পেশাল ট্রেন স্টেশনে ঢুকলে পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ হয়ে ওঠে।
শতাধিক রেলযাত্রী ট্রেনে ওঠার চেষ্টা করলে তাদের বাধা দেয় রেল পুলিশ এবং আরপিএফ। কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নয় বৈদ্যবাটি স্টেশন চত্বর। রেল যাত্রীরা এরপর রেললাইনে বসে অবরোধ শুরু করে। বন্ধ হয়ে যায় ট্রেন চলাচল। উত্তেজনার আঁচ ছড়ায় পাশের স্টেশন শেওড়াফুলিতে। এখানেও নিত্যযাত্রীরা স্টাফ স্পেশাল ট্রেন আটকে দিয়ে অবরোধ শুরু করে। ঘটনাস্থলে পৌঁছোয় বিশাল পুলিশবাহিনী।
রেল পুলিশের বিশেষ বাহিনী মোতায়েন করা হয় শেওড়াফুলি, বৈদ্যবাটি, শ্রীরামপুর স্টেশনে। ক্ষুব্ধ রেল যাত্রীরা বৈদ্যবাটি এবং শেওড়াফুলি স্টেশন থেকে একটু দূরে রেলগেটে লাগোয়া জিটি রোড অবরোধ করলে সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হয়। বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। দুই স্টেশনে যখন রেল অবরোধ চলছে তখনই ফের অবরোধ শুরু হয় রিষড়া স্টেশনে। এখানে রেল যাত্রীরা অভিযোগ করতে থাকেন রেল পুলিশ স্পেশাল ট্রেনে উঠতে গেলে তাদের মারধর করেছে। মহিলাদের হেনস্থা করা হয়েছে। অভিযুক্ত রেল পুলিশ কর্মীদের শাস্তির দাবিতে অবরোধ শুরু করেন রেল যাত্রীরা।
তিনটি স্টেশনে অবরোধের জেরে কার্যত স্তব্ধ হয়ে যায় হাওড়া ব্যান্ডেল এবং হাওড়া বর্ধমান মেন শাখার ট্রেন চলাচল। রেল এবং পুলিশের আশ্বাসে দুপুরের পর পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়। রেলের তরফে জানানো হয়েছে কয়েকটি স্টাফ স্পেশাল ট্রেনে নিত্যযাত্রীদের বালি স্টেশন অব্দি যাওয়ার অনুমতি দেয়া হয়েছে। তবে হাওড়া পর্যন্ত কোনো অবস্থাতেই নিত্যযাত্রীদের যাওয়ার অনুমতি দেয়া হবে না।

Post a Comment