বিরসা মুন্ডার মূর্তি গড়বে আদিবাসীরা - The News Lion

বিরসা মুন্ডার মূর্তি গড়বে আদিবাসীরা




দি নিউজ লায়ন ;   বিজেপি নেতারা আদিবাসী সম্প্রদায়ের মহান নেতা বিরসা মুন্ডাকে চেনে না। তাই বাঁকুড়ার পুয়াবাগানে এক আদিবাসী শিকারীর প্রতীকী মূর্তিকে বিরসা মুন্ডা মনে করে শ্রদ্ধা জানিয়ে গেছেন অমিত শাহ। এতে অসম্মানিত হয়েছে আপামর আদিবাসী মানুষ। এই অভিযোগকে সামনে রেখে এবার বিজেপি নেতাদের আসল বিরসা মুন্ডার মূর্তি চেনাতে একই স্থলে বিরসা মুন্ডার বিশাল মূর্তি স্থাপনের উদ্যোগ নিল একাধিক আদিবাসী সামাজিক সংগঠন। আদিবাসী সংগঠনগুলির পাশে দাঁড়িয়ে তাঁদের সবধরনের সহযোগিতার আস্বাস দিল রাজ্যের শাসক দল তৃনমূল।


গত ৫ নভেম্বর বাঁকুড়া সফরে যান দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। বাঁকুড়ায় পৌঁছেই তিনি সটান হাজির হন পুয়াবাগানে। সেখানে রাস্তার মাঝে থাকা একটি মূর্তিকে আদিবাসীদের মহান নেতা বিরসা মুন্ডার মূর্তি দাবি করে শ্রদ্ধা জানান তিনি। আর এই ঘটনা সামনে আসতেই সমালোচনায় সরব হন আদিবাসীদের একাধিক সামজিক সংগঠন সহ অন্যান্য রাজনৈতিক দল। তাঁরা দাবি করেন ওই মূর্তির সাথে বিরসা মুন্ডার চেহারার কোনো মিল নেই। ওই মূর্তি আসলে রাস্তা সৌন্দর্যায়নের জন্য বসানো এক আদিবাসী শিকারীর প্রতীকী মূর্তি। 


এই ঘটনায় রীতিমত অস্বস্তিতে পড়ে যায় গেরুয়া শিবির। ক্ষোভ তৈরি হয় আদিবাসীদের মধ্যেও। নিজেদের ভূল শুধরানোর বদলে বিজেপি শিবির ওই শিকারী মূর্তিকেই বিরসা মুন্ডার মূর্তি হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার চেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ। রবিবার বিরসা মুন্ডার জন্মদিনেও বিজেপি সাংসদ সুভাষ সরকার ওই মূর্তিকে বিরসা মুন্ডার মূর্তি দাবি করে শ্রদ্ধা জানান। বিজেপির এই নেতাদের  বিরসা মুন্ডার আসল চেহারা চেনাতে এবার পথে নামল আদিবাসীদের একাধিক সামজিক সংগঠন। 


আদিবাসীদের একাধিক সংগঠনের কর্মীরা সম্মিলিত ভাবে সিদ্ধান্ত নেয় পুয়াবাগান এলাকাতেই বসানো হবে বিরসা মুন্ডার প্রকৃত মূর্তি। আদিবাসী সংগঠনগুলির এই উদ্যোগকে স্বাগত জানায় রাজ্যের শাসক দল তৃনমূল। সোমবার তৃনমূলের জেলা নেতৃত্বকে সঙ্গে নিয়ে পুয়াবাগান এলাকায় গিয়ে মূর্তি বসানোর স্থান নির্বাচন করেন আদিবাসী সংগঠনগুলির নেতৃত্ব। বিতর্কিত মূর্তির অদূরেই একটি স্থান নির্বাচন করে সেখানে নারকেল ফাটিয়ে মূর্তি স্থাপনের সূচনা করেন রাজ্যের পঞ্চায়েত দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা। 


অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বাঁকুড়া জেলা পরিষদের আদিবাসী সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু , রানীবাঁধের আদিবাসী বিধায়ক জ্যোৎস্না মান্ডি সহ একাধিক আদিবাসী নেতা। আদিবাসী ভূমিজ সমাজের নেতা ধনঞ্জয় সর্দার বলেন, যে মূর্তিটিকে বিরসা মুন্ডার মূর্তি বলে বোঝানোর হচ্ছে তা কোনোভাবেই বিরসা মুন্ডার মূর্তি না। এই এলাকায় বিরসা মুন্ডার প্রকৃত মূর্তি স্থাপন করা হলে আদিবাসীদের মহান নেতার প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে। পঞ্চায়েত দফতরের রাষ্ট্রমন্ত্রী তথা তৃনমূলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা বলেন, আদিবাসী শিকারীর প্রতীকী মূর্তিকে বিরসা মুন্ডার মূর্তি বলে সম্মান জানিয়েছেন বিজেপি নেতারা। 


এতে আমাদের ভগবান বিরসা তথা আদিবাসি মানুষরা অসম্মানিত হয়েছেন। আদিবাসীরা এই এলাকায় বিরসা মুন্ডার প্রকৃত মূর্তি স্থাপন করলে পরিযায়ী বিজেপি নেতারা অন্তত আগামীদিনে বিরসা মুন্ডাকে চিনতে পারবেন। আদিবাসীদের এই উদ্যোগে আমাদের পূর্ণ সমর্থন রয়েছে। 

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.