জঙ্গলমহলবাসীর মন বুঝতে গ্রামে গ্রামে পায়ে হেঁটে ঘুরল বাঁকুড়া জেলা প্রশাসন
দি নিউজ লায়ন ; দীর্ঘ আট মাস কেটে গেছে। করোনার কামড়ের প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে ভাইরাস আতঙ্ককে সাথে নিয়েই স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে শুরু করেছে প্রশাসনিক কাজকর্ম। কিন্তু ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র অনুজীব কোথাও যেন ছিন্ন করে দিয়েছে প্রশাসনের জনসংযোগের সূত্রটিকে। ফের মানুষের সাথে যোগসূত্র স্থাপনে তৎপর হয়েছে প্রশাসন। এই আট মাস ধরে কেমন আছে জঙ্গলমহলের মানুষ ? কতটা পৌঁছাল উন্নয়ন তা একেবারে গ্রাউন্ড জিরোতে নেমে খতিয়ে দেখতে আজ পায়ে পায়ে হেঁটে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের গ্রামে গ্রামে ঘুরে বেড়াল প্রশাসন।
খড়ের চালার মাটির দাওয়ায় বসে জেলা শাসক, অতিরিক্ত জেলা শাসক, জেলা পরিষদের সভাধিপতি, স্থানীয় বিধায়ক এমনকি স্থানীয় বিডিও। সামনে দাঁড়িয়ে গ্রামের মানুষ। একেক জন এগিয়ে আসছেন আর জেলা প্রশাসনের শির্ষ কর্তাদের কাছে পেয়ে প্রাণ খুলে বলছেন তাঁদের পাওয়া না পাওয়া, অভাব অভিযোগ, ক্ষোভ ও দুঃখের কথা। গ্রামের মানুষের সেই কথা শুনে সম্ভব হলে দাওয়ায় বসেই সমস্যা সমাধানের নিদান দিচ্ছেন প্রশাসনিক কর্তারা। সম্ভব না হলে হাতে থাকা নোটবুকে তা লিখে রাখছেন। সমস্যা সমাধানে করজোড়ে চেয়ে নিচ্ছেন নির্দিষ্ট সময়।
এভাবেই বাঁকুড়ার একককালের মাওবাদী প্রভাবিত জঙ্গলমহলের রানীবাঁধ ব্লকের রাউতড়া, চুরকু, কান্তাবাদ, সুলতান সহ একের পর এক গ্রামে চলল রবিবাসরীয় জনসংযোগ বৈঠক। তা হঠাৎ কেন এমন উদ্যোগ? প্রশাসনের দাবি আগে প্রতি সপ্তাহের নির্দিষ্ট একটি দিনে জেলা ও ব্লক প্রশাসনের দফতরে বসত সাধারনের অভিযোগ গ্রহণ ও তা সমাধানের বিশেষ শিবির। দীর্ঘ করোনা আবহে তা বন্ধ দীর্ঘদিন।
করোনার প্রভাবে মানুষও গৃহবন্দী। এই অবস্থায় সরকারি প্রকল্পগুলির সুযোগ সুবিধা আদৌ মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা? কোথায় থেকে যাচ্ছে খামতি তা খতিয়ে দেখতেই মানুষের দরজায় দরজায় ঘুরছে প্রশাসন। মানুষের মন বুঝতে আগামীদিনেও এভাবেই গ্রামে গ্রামে অভিযান চালানো হবে বলে জানিয়েছেন বাঁকুড়া জেলা প্রশাসনের শির্ষ কর্তারা। বাঁকুড়ার জেলা শাসক অরুণ প্রসাদ বলেন, আমরা এদিন গ্রামে গ্রামে ঘুরে ঘুরে মানুষের সাথে কথা বলেছি। সরকারি বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে মানুষের মধ্যে সচেতনতার অভাব আছে।
আমরা তা দূর করার পাশাপাশি কোন কোন ক্ষেত্রে সমস্যা রয়েছে তা খতিয়ে দেখেছি। আমাদের এই উদ্যোগ আগামীদিনেও জারি থাকবে। বাঁকুড়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্মু বলেন, গ্রামের রাস্তা ও যোগাযোগের মাধ্যম সংক্রান্ত বেশ কিছু সমস্যার কথা এদিন উঠে এসেছে। ইতিমধ্যেই পথশ্রী প্রকল্পে জেলায় দু'শোটিরও বেশি রাস্তা তৈরী হচ্ছে। গ্রামীন এই রাস্তাগুলিও সংস্কার করার চেষ্টা চলছে। অন্যান্য সমস্যাগুলিও যতদ্রুত সম্ভব সমাধানের চেষ্টা করা হবে।

Post a Comment