মালদায় গানপয়েন্টে ছিনতাইয়ের কিনারা, গ্রেফতার ১ স্কুলপড়ুয়া সহ চার দুষ্কৃতী
দি নিউজ লায়ন ; প্রকাশ্য রাস্তায় ব্যবসায়ীর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে সর্বস্ব ছিনতাইয়ের ঘটনায় এক স্কুলপড়ুয়া সহ চার দুষ্কৃতীকে গ্রেফতার করলো পুরাতন মালদা থানার পুলিশ। বুধবার গভীর রাতে সাহাপুর এলাকার একটি বাগান থেকে ওই চার দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। ধৃতদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে ব্যবসায়ীর খোয়া যাওয়া একটি মোবাইল। তবে লুট হওয়া টাকা, সোনার আংটি, গলার চেন এখনও উদ্ধার করতে পারে নি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ধৃতদের পাঁচদিনের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়েছে পুরাতন মালদা থানার পুলিশ। পাশাপাশি গোটা ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট থানার পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতদের নাম সাগর মণ্ডল, সুমন মণ্ডল, শুভঙ্কর মণ্ডল এবং দীপঙ্কর মণ্ডল এদের প্রত্যেকের বয়স ১৯ থেকে ২০ বছর। অভিযুক্ত সাগর মণ্ডল মালদা শহরের একটি হাই স্কুলের নবম শ্রেণীতে পাঠরত।
গত ৩১ অক্টোবর রাতে স্কুটি চালিয়ে মুচিয়া এলাকায় ফিরছিলেন জনৈক ব্যবসায়ী শুভঙ্কর ঘোষ। সেই সময় সাহাপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের কাদেরপুর এলাকার রাজ্য সড়কে ওই ব্যবসায়ীর স্কুটি দাঁড় করিয়েই মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে অভিযুক্তরা ছিনতাই করে বলে অভিযোগ। ওই ব্যবসায়ীর কাছ থেকে লুট করা হয় কয়েক হাজার টাকা, সোনার আংটি, গলার চেন, মোবাইল। এরপরই ওই ব্যবসায়ীকে মারধর দিয়ে দুষ্কৃতীরা এলাকা থেকে পালিয়ে যায়।
এই ঘটনার পর বুধবার পুরাতন মালদা থানায় আক্রান্ত ব্যবসায়ী লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্তে নেমে পুলিশ এই চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই ধরনের চুরি ও ছিনতাইয়ের ঘটনায় অল্প বয়সীদের একাংশ জড়িয়ে পড়ছে। এরা মাদকের নেশায় আসক্ত। নেশার টাকা জোগাড় করতে গিয়েই এই ধরনের অপরাধমূলক কাজকর্ম করছে।
ধৃতদের মধ্যে একজন নবম শ্রেণীর পাঠরত রয়েছে। আর তাতেই উদ্বেগ ছড়িয়েছে পুলিশের মধ্যে। পুরাতন মালদা থানার পুলিশ জানিয়েছে, ছিনতাইয়ের ঘটনার সময় দুষ্কৃতীদের হাতে আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে আক্রান্ত ব্যবসায়ী অভিযোগে জানিয়েছেন। সেই বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করা হয়েছে। এত অল্প বয়সে এইসব ছেলেরা কোথা থেকে এই ধরনের অস্ত্রশস্ত্র জোগাড় করছে সেটিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। আক্রান্ত ওই ব্যবসায়ীর শুভঙ্কর ঘোষ পুলিশের এই কাজকে অবশ্য সাধুবাদ জানিয়েছেন।
ওই ব্যবসায়ী বলেন, এই ছিনতাইয়ের ঘটনার পর আমি নিজেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। দুই দিন ধরে বাড়ি থেকে বেরোনোর সাহস করতে পারি নি। ৩১ অক্টোবর রাতে ছিনতাইয়ের ঘটনার পর অবশেষে বুধবার ৪ নভেম্বর পুরাতন মালদা থানায় গিয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এরপর পুলিশ তদন্ত করে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে। খোয়া যাওয়া মোবাইলটি পেয়েছি। বাকি জিনিসগুলোর উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুরাতন মালদা থানার পুলিশ।

Post a Comment