ডিসেম্বরই শুরুতেই উত্তরবঙ্গে পরিযায়ী পাখি সুমারি - The News Lion

ডিসেম্বরই শুরুতেই উত্তরবঙ্গে পরিযায়ী পাখি সুমারি




দি নিউজ লায়ন ;   শীতের মরশুমেই উত্তরের চেনা ঠিকানায় পাড়ি দেয় ভিনদেশীরা! তাই এবারে ডিসেম্বরই শুরুতেই উত্তরবঙ্গে পরিযায়ী পাখি সুমারি।১৫ই ডিসেম্বর থেকে উত্তরবঙ্গের পরিযায়ী পাখিদের আস্তানাগুলিতে পাখি সুমারিতে নামছে পক্ষী ও প্রকৃতি প্রেমীদের সহযোগিতা নিয়ে বনবিভাগ। শুক্রবার মহানন্দ অভয়ারণ্য উন্মুক্ত জন্য তারা হল হিমালয়ের পাদদেশের বিশেষ প্রজাতির দার্জিলিং পদ্মজা নাইডু পার্কে থাকা ৫ জোড়া রেড জঙ্গল ফাউল ও ৫টি কালিজ। 


শীতের শুরুতেই উত্তরবঙ্গের বক্সা জঙ্গল, জলদাপাড়া,গরুমারা বনাঞ্চল, সহ ভোরের আলো পর্যটন হাবের পাশে তিস্তা ব্যারেজ,মহানন্দা ব্যারেজ ও  উত্তরের বিস্তীর্ণ এলাকা পরিযায়ী পাখিদের স্থায়ী আস্তানা হয়ে ওঠে। নভেম্বরের শেষ নাগাদই প্রতি বছর চেনা ঠিকানায় ফেরে দূর দূরান্তের পরিযায়ী পাখিদের দল। আর তাদের টানেই উত্তরে পর্যটকদের ঢল নামে। তবে পর্যটকদের মনে অগাধ কৌতূহল থাকে দেশ-বিদেশ থেকে থেকে উড়ে আসা এই পাখিদের বিষয়ে জানার। 


কোন প্রজাতির পাখি বেশি এসেছে, তার সংখ্যাই বা কত,কোন পাখি কোন দেশে বেশি দেখা যায়, আবার নতুন কোনও বিরল প্রজাতির পাখি আস্তানা করেছে কিনা সে বিষয়ে কৌতূহল থাকে  প্রত্যেকেরই। এবারে সেই প্রশ্নের উত্তর দিতে উদ্যোগী হয়েছে বনবিভাগ।প্রধান মুখ্য বনপ্রাণ বনপাল বিনদ কুমার যাদব জানান গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে ডিসেম্বর থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত পরিযায়ী পাখিদের সুমারি করা হবে।


 কোন বনাঞ্চলে নির্দিষ্ট ভৌগলিক অবস্থানে কোন প্রজাতির পাখিরা আস্তানা গাড়ছে তা দেখা হবে সমীক্ষায়। শুধুমাত্র বনবিভাগ নয় প্রকৃতিপ্রেমী ও পক্ষী প্রেমীদের সঙ্গে নিয়ে তাদের সহযোগিতার মধ্য দিয়েই বিভিন্ন বনাঞ্চল গুলিতে যেখানে পরিযায়ী পাখিদের আস্থানা সেই সমস্ত এলাকায় পাখি সুমারি চালানো হবে।


 শুধু তাই নয় বক্সার বনাঞ্চলের আদলে এবারে পাখিদের বিষয়ে পর্যটকদের অবগত করতে মহানন্দ অভয়ারণ্যে প্রথম পাখি ফেস্টিভ্যাল করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন মহানন্দা অভয়ারণ্য লাৎপাঞ্চারে এই বার্ড ফেস্টিভ্যাল করা হবে।জানাযারির ৬-৯তারিখ বক্সার জঙ্গলে প্রতিবছরই এই ধরনের বাইট ফেস্টিভাল আয়োজিত হয়। সেই সময়ে এবারে মহানন্দ অভয়ারণ্য পালন করবে বার্ড ফেস্টিভ্যাল।


এতে পর্যটক ও পড়ুয়ারা কোনটি পরিযায়ী পাখি, কোন পাখি উত্তরের বনাঞ্চলে বিরলতম, কোন এলাকায় কি প্রজাতির পাখি রয়েছে সে সমস্ত বিষয়ে জানা যাবে। ১৯৯৭-৯৮এ শেষ মহানন্দা অভয়ারণ্য সহ উত্তেরর বনাঞ্চল ভিত্তিক প্রজাতিগত ভাবে পাখিদের ডকুমেন্টটেশন হয়। তারপর আর তা হয়নি।এখন গোটা দেশে ১২০০পাখিদের প্রজাতি রয়েছে। এরমধ্যে পশ্চিমবঙ্গে রয়েছে ৮৫০ আর যারমধ্যে শুধুমাত্র উত্তরবঙ্গে রয়েছে ৬০০ এর অধিক।


 উত্তরের বনাঞ্চল জীববৈচিত্র্য গত ভাবে উল্লেখযোগ্যতার কারনেই এই বিপুল প্রজাতির পাখি এখানে রয়েছে। এবারে পরিযায়ী পাখি সুমারীর মধ্য দিয়ে পাখিদের ডকুমেন্টেশনের দিকেও নজর দিচ্ছে বনবিভাগ। অন্যদিকে এদিন মহানন্দ অভয়ারণ্য পর্যটকদের জন্য চালু করা হলো এক ঘন্টার মহানন্দা বাস সাফারি। পর্যটকদের জন্য এই সাফারি বাসে রয়েছে২৮ টি যাত্রী আসন। 


তবে কোভিড পরিচিতির জন্য আপাদত ১৪জন করে সাফারি করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সকাল ছয়টা থেকে পাঁচটি শিফটে সাফারির সুযোগ পাবেন পর্যটকেরা। এদিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন প্রধান মুখ্য বনপাল বনপ্রাণ বিনোদ যাদব, মুখ্য বনপাল বনপ্রাণ রাজেন্দ্র জাখর, দার্জিলিং পদ্মজা নাইডু জুলজিক্যাল পার্ক এর ডিরেক্টর ধর্ম দেও রাই।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.