বালুরঘাটে ইন্টারভিউতে জাল মার্কশিট সহ ধৃত ৪ - The News Lion

বালুরঘাটে ইন্টারভিউতে জাল মার্কশিট সহ ধৃত ৪




দি নিউজ লায়ন ;   জাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে বালুরঘাট প্রধান ডাকঘরে গ্রামীণ ডাক সেবক পদে চাকরির ইন্টারভিউ দিতে এসে ধরা পড়ল চারজন। ধৃত চারজনের মধ্যে ৩ জন পুরুষ ও একজন মহিলা। ধৃতদের বাড়ি কোচবিহার ও রায়গঞ্জের বিন্দোল এলাকায়। বৃহস্পতিবার ধৃত চারজনকে বালুরঘাট জেলা আদালতে তোলে পুলিশ। এদিকে এনিয়ে বালুরঘাট হেড পোস্ট অফিসের পক্ষ থেকে বালুরঘাট থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। পুরো ঘটনা খতিয়ে দেখছে বালুরঘাট থানার পুলিশ। 


জানা গিয়েছে, উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুর জেলার গ্রামীণ ডাক সেবক পদের ২৩ জন প্রার্থীর জন্য অনলাইনে আবেদন শুরু হয়েছিল। সেই আবেদনের সময় দশম শ্রেণিতে পাওয়া সর্বোচ্চ নম্বরের ভিত্তিতে ইন্টারভিউ ডাকা হয়। সেই ২৩ জনের মধ্যে এক মহিলাসহ চারজন উত্তর দিনাজপুরের বিন্দোল এবং কোচবিহার থেকে বুধবার ইন্টারভিউ দিতে আসেন। 


তাদের মধ্যে একজন ন্যাশনাল ইন্সটিটিউট অফ ওপেন স্কুলিং বোর্ডের দশম শ্রেণির মার্কশিট এবং আরও তিনজন উত্তরপ্রদেশের মাধ্যমিক শিক্ষা পরিষদের মার্কশিট আধিকারিকদের সামনে পেশ করেন। কিন্তু ইন্টারভিউ দেওয়ার সময় দেখা যায়, ওই চারজন সব প্রশ্নেরই উত্তর ভুল দিচ্ছে মার্কশিটে প্রাপ্ত নম্বরের সঙ্গে তাদের উত্তর দেওয়ার ধরনের কোনো সামঞ্জস্য নেই। 


প্রত্যেকটা বিষয়েই ৯৮ এবং ৯৯ শতাংশ নম্বর অথচ সেই বিষয়ে প্রশ্ন করলে কোন উত্তর দিতে পারছে না তারা। এরপরই ওই চারজনের রোল নম্বর সংশ্লিষ্ট বোর্ডের সঙ্গে অনলাইনে ভেরিফিকেশন করে দেখা যায়, ওই চারজন জাল মার্কশিট পেশ করেছেন। এদিকে বিষয়টি বুঝতে পেরেই ডাক বিভাগের অফিসেই ওই চারজনকে আটকে রেখে খবর দেওয়া হল পুলিশে। 


পরে চার পরীক্ষার্থীর বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করে ডাক কর্তৃপক্ষ। এরপর বালুরঘাট থানার পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। ধৃতদের মধ্যে শ্রীকুমার সরকার, চন্দন কুমার বর্মণ এবং দোলন সরকারের বাড়ি কোচবিহারে। বাকি মত্তুজা আলমের বাড়ি রায়গঞ্জের বিন্দোল এলাকায়। আজ ধৃতদের বালুরঘাট জেলা আদালতে পেশ করে পুলিশ।


 পুলিশের পক্ষ থেকে ধৃতদের চারদিনের জন্য নিজেদের হেফাজতে নেওয়ার জন্য আদাল চারদিনের রিমান্ড চেয়ে কোর্টে আবেদন জানিয়েছে। এদিকে মার্কশিটের জাল চক্র রাজ্যের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে রয়েছে। কীভাবে চক্রের পান্ডারা কাজ করছে তার তদন্ত শুরু করছে পুলিশ। এবিষয়ে বালুরঘাট ডিএসপি হেডকোয়ার্টার ধীমান মিত্র বলেন, বুধবার চারজন ভিন জেলার বাসিন্দা গ্রামীন ডাক সেবক পদের জাল মার্কশিট দিয়ে চাকরীর আবেদন করেছে।


 ইন্টারভিউ দিতে এসে ধরা পড়ে যায়। এবিষয়ে ডাক বিভাগের সুপারিন্টেন্ডেন্ট আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা তাদের গ্রেপ্তার করেছি। আজ আদালতের চারদিনের পুলিশি রিমান্ডের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তারা কিভাবে ওই জাল কর্মের সাথে লিপ্ত হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.