হাথরস গণধর্ষনকান্ডে এবার খোদ জেলা শাসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলো
দি নিউজ লায়ন ; উত্তরপ্রদেশের হাথরস গণধর্ষনকান্ডে এবার খোদ জেলা শাসকের বিরুদ্ধে নির্যাতিতার পরিবারকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠলো। ইতিমধ্যে সেই ভিডিও ভাইরাল হয়ে গিয়েছে। হাথরসের জেলাশাসকের বিরুদ্ধে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ তুলে সেই ভিডিও ট্যুইট করেছেন কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালা। যে ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে সেখানে হাথরসের দলিত ওই নির্যাতিতা পরিবারের সদস্যদের উদ্দেশ্যে জেলাশাসক প্রবীন লস্করকে বলতে শোনা গিয়েছে, ইতিমধ্যে অর্ধেক সংবাদমাধ্যম ফিরে গিয়েছে। বাকিরা কালকের মধ্যে চলে যাবে।
একমাত্র আমরাই আপনাদের সঙ্গে থাকবো। তাই আপনারাই ঠিক করুন আপনারা বারবার বয়ান বদলাবেন না বদলাবেন না। এমনটা হতে থাকলে ভবিষ্যতে হয়তো এমন হতে পারে আমরাই বদলে গেলাম। জেলা শাসকের এই ভিডিওটি শেয়ার করে কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালা প্রশ্ন তুলেছেন, এটা কি হুমকি নয়? যদিও জেলাশাসক প্রবীন লস্কর তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, অভিযুক্তদের যাতে ফাঁসির সাজা হয় সেটা নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। নির্যাতিতার পরিবারের ভয় দূর করতেই তাদের তিনি আস্বস্ত করার চেষ্টা করছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে নির্যাতিতার পরিবারের অভিযোগ, হাথরস জেলা প্রশাসনের তরফে তাদের হুঁশিয়ারি দিয়ে প্রশ্ন করা হচ্ছে, কেন তারা বারবার বয়ান বদল করছেন? পাশাপাশি সরকারি আধিকারীকদের বিরুদ্ধে তাদের চাপ সৃষ্টি করার অভিযোগও তুলেছেন নির্যাতিতার বাবা। তাঁরা ঘটনার সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। অন্যদিকে কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ট্যুইটারে একটি ভিডিও শেয়ার করেছেন, সেখানে নির্যাতিতার বাবা অভিযোগ করেছেন, তাদেরকে থানায় নিয়ে গিয়ে একটি বয়ানে সই করিয়ে নিয়েছে পুলিশ এবং জেলা প্রশাসন। যাতে তারা সন্তুষ্ট নয়। মেয়ের উপর নৃশংস নির্যাতনের ঘটনায় নির্যাতিতার বাবা সুপ্রিম কোর্টের কোনও বিচারপতির নজরদারিতে সিবিআই তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তাঁর অভিযোগ, তাদেরকে বাড়িতে আটকে রাখা হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না।উল্লেখ্য, গত ১৪ সেপ্টেম্বর উত্তরপ্রদেশের হাথরসে নিজের মায়ের সঙ্গে মাঠে কাজ করার সময় ওই তরুণীর উপর হামলা চালায় চার অভিযুক্ত। গণধর্ষনের সময় নৃশংস অত্যাচারে তার শরীরের একাধিক জায়গা ক্ষতবিইক্ষত হয়ে যায়। পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে পড়েন ওই নির্যাতিতা। তার জিভের একাংশ ছিঁড়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগ। এরপর দিল্লির সফদরজং হাসপাতালে মৃত্যু হয় ওই নির্যাতিতার। এরপর দিন ওই নির্যাতিতার দেহ তার পরিবারের হাতে না দিয়ে তড়িঘড়ি সতকার করে দেয় পুলিশ।
ঘটনায় ওই গ্রামের চার উচ্চবর্নের অভিযুক্ত যুবকদের গ্রেফতার করে পুলিশ। তবে নির্যাতিতার ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তাকে গণধর্ষন করা হয়নি বলে জানানো হয়। সেখানে বলা হয়েছে, ওই দলিত মেয়ের মৃত্যুর কারন কার্ডিয়াক অ্যারেষ্ট। তবে তার দেশে ঘাড়, শিরদাড়া, পা, কোমর সহ একাধিক স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। যদিও নির্যাতিতার পরিবার ধর্ষন না হওয়ার কথা মানতে নারাজ। এদিকে এই ঘটনায় উত্তরপ্রদেশের এডিজি দাবি করেছেন, নির্যাতিতাকে ধর্ষন করা হয়নি।

Post a Comment