কেশিয়াড়ির সর্বমঙ্গলা মন্দিরের প্রসাদ পান্তাভাত আর মাছভাজা এবছর পাবেন না দর্শনার্থীরা
দি নিউজ লায়ন ; পশ্চিমমেদিনীপুর জেলার কেশিয়াড়ির সর্বমঙ্গলা মন্দিরের পুজোয় চিরাচরিত প্রসাদ পান্তাভাত আর মাছভাজা এবছর আর পাবেন না দর্শনার্থীরা। করোনার কোপে এবার কোপ পড়েছে দেবীর প্ৰসাদেও। এখানে দেবী দুর্গা পূজিত হন বিজয়মঙ্গলা রূপে। প্রতিরাতে বিগ্রহের ভোগ হিসাবে থাকে পান্তাভাত আর মাছভাজা। নিয়ম মেনে তাই পুজোর চারদিন দুর্গাকে নিবেদন করা হয় এই প্রসাদ। যুগ যুগ ধরে সর্বমঙ্গলা মন্দিরের দুর্গাপুজোয় এই নিয়ম চলে আসছে। সেই প্রসাদ খেতে ভিড় করেন বহু মানুষ।
রাজা মানসিংহের আমলের আগে থেকেই কেশিয়াড়িতে রয়েছে দেবী সর্ব্বমঙ্গলার মন্দির।মূল মন্দিরের মোট তিনটি ভাগ রয়েছে। যার শেষ ভাগে অর্থাৎ বর্তমানে মন্দিরে ঢোকার মুখের অংশটি রাজা মানসিংহের আমলে তৈরি হয়েছে। সর্ব্বমঙ্গলা অত্যন্ত জাগ্রত দেবী। দুর্গাপুজো এই এলাকায় শুরু হয় সর্ব্বমঙ্গলা মন্দিরে পুজো দিয়ে। প্রাচীন রীতি মেনে আজও দেবী সর্ব্বমঙ্গলাকে প্রতি রাতে মাছ ভাজা সহ পান্তাভাত ভোগ দেওয়া হয়।
ট্রাস্ট্রি বোর্ডের সদস্য পুরোহিত অসিত মিশ্র জানান , দেবী নিরামিষাশী নন বলে অনেকেই মাছের ঝোল সহ ভোগ দেন। তবে মাছের রান্নায় পেঁয়াজ , রসুন ব্যবহার হয় না। দুর্গাষ্টমী ও বাসন্তী অষ্টমীতে নিরামিষ ভোগ হয়।রাতে দেবীকে ভোগ হিসেবে দেওয়া হয় পান্তাভাত আর মাছভাজা। '
তাঁর আক্ষেপ এবছর অনেক নিয়ম কানুন মেনে পুজো করতে হচ্ছে। প্রথামাফিক পুজোর দিন গুলিতে দেবীকে ভোগ নিবেদন করা হলেও সেই ভোগ দর্শনার্থীদের দেওয়া হবে না। অন্যান্য জেলা এবং ভিন রাজ্য থেকে যাঁরা আসতেন তাঁদের আসতে বারণ করা হয়েছে।
এখানে দুর্গা পুজো শুরু হয় পঞ্চমী থেকে। পঞ্চমীর দিন ঘট উত্তোলনের মধ্য দিয়ে সর্বমঙ্গলা রুপি ' বিজয়মঙ্গলাকে ' দেবী দুর্গা রূপে পূজাে করা শুরু হয়।ওই দিন পাঁঠাবলি হয়। পুজোর পঞ্চমী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রত্যহ চাল কুমড়োর বলি দেওয়া হয়। সন্ধিপুজোয় পাঁঠাবলি হয় ।বাইরের কেউ মানত করা পাঁঠা এনে বলি দিতে পারবেন না। একসঙ্গে ১৫ জন মন্দিরে থাকতে পারবেন | শয়ে শয়ে দর্শনার্থীদের ভিড় আর থাকবে না।
দুর্গাপুজোর সময় সর্ব্বমঙ্গলাকে দেবী দশভূজা রূপে পুজো করা হয়। তবে মহালয়া থেকে চতুর্থী পর্যন্ত মূল মন্দির বন্ধ রাখা হয়।মন্দিরে ভেতরের অংশ এবং দেবীকে নব রূপে সাজিয়ে তোলা হয়। তখন মন্দিরের সামনে সর্বমঙ্গলাকে দূর্গা রুপি বিজয়মঙ্গলাকে পুজো করা হয়।
তখন কেশিয়াড়ি ছিল জঙ্গলে ঘেরা। লোকশ্রুতি রয়েছে পালকিতে চেপে কোন এক মহিলা একটি কুল গাছের তলায় বিশ্রাম করেন। তারপর দেখেন বেহারা আর নেই। সেই মহিলাই আসলে দেবী সর্ব্বমঙ্গলা। আরও কথিত আছে যে, রাজা মানসিংহের মনস্কামনা পূর্ণ করেছিলেন এই দেবী। তাই দেবীর নিত্যপূজার জন্য তিনি অনেকটা জমি দিয়ে গিয়েছিলেন।
ময়ূরভঞ্জের এক রাজা, সিংভূমের রাজা, খড়্গপুর গ্রামীণ এলাকার খেলাড়ের জমিদার শতপথি পরিবার, বেলদার কূশমুড়ির জমিদার দেব পরিবার সর্ব্বমঙ্গলা মায়ের নামে শুধু জমি নয় গয়না এবং মন্দিরও দান করেছিলেন। সর্ব্বমঙ্গলা এতটাই সাধারনের দেবী অনেকেই দেবীকে কন্যাস্নেহে 'মঙ্গলাবুড়ি' বলেও সম্বোধন করেন। শুধু কেশিয়াড়ি, বেলদা , খড়্গপুর, নয়াগ্রাম নয় উড়িষ্যা থেকেও বহুমানুষ আসতেন পুজো দিতে। এবছর সেই ভিড় দেখবেন না ' মঙ্গলা বুড়ি।

Post a Comment