পূর্বপুরুষদের তৈরি করা ঠাকুরদালানেই ঘোষাল বাড়ির পুজো হয় - The News Lion

পূর্বপুরুষদের তৈরি করা ঠাকুরদালানেই ঘোষাল বাড়ির পুজো হয়



দি নিউজ লায়ন ;  পূজার নৈবিদ্যে থোড় মোচা ও কলা দেওয়া হয়। শেরশাহের আমলেই সিদ্ধেশ্বরী কালী পুজো শুরু হয়। সাল ১৫৪০। তারপর ওই একই পরিবারে ১৬৫৫ সালে দুর্গা পুজো শুরু হয়। পূর্বপুরুষদের তৈরি করা ঠাকুরদালানেই ঘোষাল বাড়ির পুজো হয়।জন্মাষ্টমী তিথিতে কাঠামোয় মাটি দিয়ে মূর্তি গড়ার কাজ শুরু হয়। প্রতিপদ থেকে শুরু হয় পুজো। ঘোষাল পরিবারে প্রতিপদে অন্নভোগ তৈরি থেকে শুরু করে দশমীর দধিকর্মা পর্যন্ত সব কাজই হয় গঙ্গা জলে। 


এমনই ইতিহাস পূর্ব বর্ধমানের কোলসড়া গ্রামের ঘোষাল বাড়িতে। জানা যায়, দিগম্বর ঘোষাল ছিলেন সম্রাট শেরশাহের বিশ্বস্ত কর্মচারী। সম্রাট শেরশাহ জি টি রোড তৈরির কাজ দেখার দায়িত্ব দিয়েছিলেন দিগম্বর ঘোষালকে। তখন এই গ্রামের ওপর দিয়ে প্রবাহিত ছিল কংসা নদী। একদিন জি টি রোড সংস্কারের কাজ দেখতে বেরিয়ে কংসা নদীতে নৌকো ভাসিয়ে জামালপুরের কোলসড়া গ্রামে আসেন দিগম্বর ঘোষাল। জায়গাটি তাঁর বিশেষ পছন্দ হয়। সেখানে রাত্রি বাস করেন দিগম্বর বাবু। সেই রাতেই সেখানে সিদ্ধেশ্বরী কালী প্রতিষ্ঠা করে পুজো করার স্বপ্নাদেশ পান দিগম্বর বাবু।


সেই স্বপ্নাদেশের কথা তিনি শেরশাহকে জানান। ১৫৪০ খ্রিস্টাব্দের সিদ্ধেশ্বরী মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়। দিগম্বর বাবু ছিলেন ঘোষাল বংশের এগারোতম পূর্বপুরুষ। তখন থেকেই তাঁদের কোলসড়া গ্রামে বসবাস শুরু।ঘোষাল বংশের সপ্তম পূর্বপুরুষ ঈশ্বরচন্দ্র ঘোষাল একদিন কলাবাগানের মধ্যে এক কিশোরীকে দেখতে পান।কাছে যেতেই সেই কিশোরী অদৃশ্য হয়ে যায়।এরপরে দেবী দুর্গার স্বপ্নাদেশ পান ইশ্বরচন্দ্র ঘোষাল। জানতে পারেন, মা দুর্গা কিশোরীর রূপে দেখা দিয়েছিলেন কলাবাগানে।সেই স্বপ্ন দেখে তিনি মূর্তি তৈরি করিয়ে দুর্গাপূজার সূচনা করেন।


 বর্তমান সদস্য সমীর ঘোষাল জানান, প্রাচীন রীতি মেনে নিষ্ঠার সঙ্গে এখানে পুজো হয়ে আসছে। কাজের প্রয়োজনে পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকলেও পুজোর দিন গুলিতে তারা বাড়ি ফেরেন পরিবারের সদস্যরা সকলে মিলে একসঙ্গে খাওয়া-দাওয়া হয়। তবে করোনা পরিস্থিতিতে এবার আত্মীয় পরিজনরা কতজন আসবেন তা নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে রীতি মেনে পুজো হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.