দুর্গাকে দেবী হিসাবে নয়, দেখা হয় বাড়ির বধূ হিসাবে - The News Lion

দুর্গাকে দেবী হিসাবে নয়, দেখা হয় বাড়ির বধূ হিসাবে




দি নিউজ লায়ন ;   দুর্গাকে দেবী হিসাবে নয়, দেখা হয় বাড়ির বধূ হিসাবে। পাঁচশো বছর পার হওয়া এই দুর্গা ঠাকুরের দশ হাত থাকলেও দুটি ছাড়া বাকি গুলি রাখা হয় চোখের আড়ালে। এটাই মূল বিশেষত্ব পূর্বস্থলীর পাটুলির বামুনপাড়ার ভট্টাচার্য পাড়ার পুজোর। ভট্টাচার্যদের বাড়িতে পুজো শুরু হলেও বর্তমানে  শরিকরা মিলে প্রতি বছরই পুজো হয়। 


পরিবার সূত্রে ও কথিত আছে, ভাগীরথীর তীরে প্রাসাদ বানিয়ে বসবাস শুরু করে ছিলেন এই পরিবারের সদস্যরা। এক সময় এক পুত্রের বিয়ে দেওয়া হয়। দিব্যি সংসার চলছিল। পরিবারের রীতি অনুযায়ী পরিবারের পুরুষদের সামনে মাথায় ঘোমটা দিয়ে রাখতেন বাড়ির বধূরা। এক দিন বড়ির এক বউ হাতে খাবার সামগ্রী নিয়ে কাজ করতে করতে চলে আসেন এক ভাসুরের সামনে। সেই সময় ঘোমটা দিতে ভুলে যান ওই বউ। 


ভাসুরের চোখে চোখ পড়তেই ঘটে অলৌকিক কান্ড। বউমার হাতের পিছন থেকে বেরিয়ে আসে কত গুলি হাত। সেই হাত দিয়ে ঘোমটা টানে বউ। ভাসুর স্বচক্ষে সেই দৃশ্য দেখার সঙ্গে সঙ্গেই মৃত্যু হয় ওই গৃহবধূর। গোটা বিষয়টি নিয়ে হইচই পড়ে যায় দূরদূরান্তে। তারপরেই একদিন ওই ভাসুরের স্বপনে আসেন দেবী দুর্গা। স্বপ্নে বলেন, আমিই তোদের বাড়িতেই বউ হয়ে ছিলাম। তারপর থেকেই ওই বাড়িতেই শুরু হয় পুজোর প্রচলন। 


তাই দুটি ছাড়া অন্য আটটি হাত প্রায় ঢাকাই রাখা হয়। পরিবারের সদস্যদের মতে, স্বয়ং দেবী দুর্গাই এই পরিবারের গৃহবধূ হিসাবে এসে ছিলেন। বর্তমানে সমগ্র পাটুলিবাসীর কাছে এই পুজো খুবই ঐতিহ্য বহন করে আসছে।


বর্তমানে ওই পরিবারের বংশধর সুজিত ওরফে বাবলা ভট্টাচার্য জানান, “শরিকরা মিলে প্রতিবছরই দুর্গা পুজো হয়। ভট্টাচার্য, বন্দোপাধ্যায় ও চট্টোপাধ্যায় এই তিন শরিক মিলে প্রতিবছর পুজো হয়। নিজেরাই এই পুজো করি। বাইরে থেকে কোনও ব্রাহ্মণ আনা হয় না। মায়ের প্রতিমার সঙ্গে সিংহের পরিবর্তে থাকে ক্যাঁকড়। এটি দেখতে না ঘোড়া, না সিংহ।  দুটি  হাতের মধ্যে একটিতে থাকে ত্রিশূল ও অন্যটিতে থাকে সাপ। 


পুজো শুরু হয় বোধনের দিন থেকেই। মোট ৬ দিন পুজো হয়।“ আত্মীয় নিত্যানন্দ চট্টোপাধ্যায় জানান, “পুজোয় তিন দিনে সাতটি বলি হয়। পুজোর সময় আয়োজনও করা হয় নানা পদের ভোগ। থাকে নানা ভাজা ও মাছ। পুজোর শেষে আগে নৌকার করে ভাগীরথীতে প্রতিমা ভাসানোর রীতিও ছিল। তবে এখন নিরাপত্তার জন্য আর নৌকা করে ভাসান হয় না।“

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.