দশমীতে শোকের ছায়া মুর্শিদাবাদে, নৌকাডুবিতে মৃত ৫ - The News Lion

দশমীতে শোকের ছায়া মুর্শিদাবাদে, নৌকাডুবিতে মৃত ৫




দি নিউজ লায়ন ; দশমীতে দেবী দুর্গার বাইচ খেলার মধ্যে দিয়ে বিসর্জনের সময় আচমকা অসাবধানতা জনিত কারণে মাঝ নদীতে নৌকাডুবি হয়ে প্রাণ গেল এক এক করে ৫ যুবকের। মর্মান্তিক এই ঘটনায় সোমবার রাতে শোকের ছায়া নেমে আসে মুর্শিদাবাদের বেলডাঙা পৌরসভা এলাকায়। মৃতদের নাম সুখেন্দু দে (২১), পিকন পাল (২৩),অরিন্দম ব্যানার্জি (২০) সোমনাথ ব্যানার্জি (২২) ও নিপন হাজরা(৩৬)। 


শুরুতে তিনজনের মৃতদেহ পাওয়া গেলেও পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় ডুবুরিরা এসে নদীতে তল্লাশি চালিয়ে বাকি দুই জনের মৃতদেহ উদ্ধার করে। করো না পরিস্থিতির মধ্যে এমন ঘটনা রীতিমতো এলাকাজুড়ে এখন কেবল হা হুতাশ করছেন মৃতের পরিজনরা। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘ বছরের রীতি মেনে বেলডাঙ্গা হাট ঐতিহ্যবাহী হাজরাবাড়ী এলাকার দেবী দুর্গার বিসর্জন সম্পন্ন হয় স্থানীয় ডুমনি নদীতে।


 সেইমতো সোমবার সরকারি সকল নির্দেশিকা মেনে এলাকার যুবকেরা ডুমনি নদীর ধারে প্রতিমা নিয়ে উপস্থিত হয়। প্রতিমা বিসর্জন করার জন্য দুটি নৌকায় করে বেবির কাঠামো সপ্ত দড়িতে বেঁধে মাঝ নদীতে নিয়ে আনা হয়। সেখান বেশ কিছুক্ষণ বাইচ খেলার পরই। নিয়ম মেনে আস্তে আস্তে দুটি নৌকা একে অপরের থেকে সরে যেতে শুরু করে। যার ফলে প্রতিমা আপনাআপনি জলের মধ্যে ডুবে যেতে পারে। 


কিন্তু সেই পরিকল্পনায় খানিকটা খামতি থেকে যায় এবার। যার ফলে দুটি নৌকা কয়েক ফুট একে অপরের থেকে দূরে সরে যেতেই আচমকা একটি নৌকা বেসামাল হয়ে পাল্টি খায় নদীতে। মুহুর্তের মধ্যে পুরনো নৌকাটি জলে ডুবে যায়। সব মিলিয়ে কুড়ি পঁচিশ জন সেই নৌকায় থাকলেও, অধিকাংশ হতে পারে চলে আসে। কিন্তু বেশ কয়েকজন নৌকা ও প্রতিমা তলায় চাপা পড়ে গিয়ে কাঠামোর মধ্যে আটকে যায়। 


শত চেষ্টা করেও তারা কাঠামোর থেকে নিজেদের মুক্ত করতে না পেরে জলে সম্পূর্ণভাবে ডুবে যায়। এমন দৃশ্য চোখের সামনে দেখে হতবাক হয়ে যায় প্রত্যক্ষদর্শীরা। সকলেই নদীর পাড়ে এই কাণ্ড দেখার পরই তড়িঘড়ি স্থানীয় বেলডাঙা থানার পুলিশ ও পৌরসভা কে পুরো বিষয়টি খুলে জানায়। কালবিলম্ব না করে সেখান থেকে দ্রুত পৌর কর্মীরা স্থানীয় বেলডাঙা থানার বিশাল পুলিশবাহিনী ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছায়। 


পাশাপাশি স্থানীয় মানুষজন উদ্ধারকার্য জন্য নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু শত চেষ্টা করেও ওই পাঁচ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। প্রথমে তিন যুবক সুখেন্দু, অরিন্দম ও সোমনাথের মৃতদেহ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। তারপরে তানা তল্লাশি অভিযান চালানোর পরে বাকি দুইজনের  মৃতদেহ মেলে ডুমনি নদী থেকে। পুরো ঘটনায় শোক প্রস্তাব গোটা বেলডাঙ্গা বাঁশি।


 বেলডাঙা পৌরসভা প্রশাসনিক বডির সদস্য আবু সুফিয়ান ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেন, আমাদের বেলডাঙা পৌরসভা এলাকায় এমন ঘটনা অতীতে কোনদিন ঘটেনি। আমরা সকলেই চরম ভাবে শোকাহত। ভাবতেই পারছি না এমন দিনে এই কাণ্ড ঘটতে পারে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.