ইলিশের আকাল কালোবাজারির অভিযোগ মাছ ব্যবসায়ীদের - The News Lion

ইলিশের আকাল কালোবাজারির অভিযোগ মাছ ব্যবসায়ীদের



দি নিউজ লায়ন ;  ঢালাও ইলিশ ঢুকেছে বাংলায়। কিন্তু তারপরেও মালদায় সহ গৌড়বঙ্গের আরো দুই জেলা উত্তর ও দক্ষিণ দিনাজপুরে ইলিশের আকাল দেখা দিয়েছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, ইলিশ নিয়ে রীতিমতো কালোবাজারি করছেন একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা। 


যার ফলে এখনও এক কেজির ওজনের ইলিশ মাছের দাম দুই হাজারের নিচে নামছে না। বাজারে ইলিশ আছে ঠিকই , কিন্তু তার দাম এত কেন, কিছুই বুঝতে পারছেন না ক্রেতারা। রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে ঘোষণা করা হয়েছে বাংলাদেশ , দীঘা থেকে বিপুল পরিমাণে ইলিশ আমদানি করা হয়েছে। তাহলে সেইসব ইলিশ গেল কোথায় ! তাহলে কি এগুলি স্টক করে কালোবাজারি চেষ্টা করছে একশ্রেণীর অসাধু ব্যবসায়ীরা, এরকম অভিযোগ এখন বিভিন্ন মহলে উঠতে শুরু করেছে।


উত্তরবঙ্গের সর্ববৃহৎ মাছের আরত হিসাবে পরিচিত মালদার শহরের নেতাজি পুরোমার্কেট। এখানে অন্তত কয়েকশো মৎস্য ব্যবসায়ী এবং আরতদার রয়েছেন। যারা উত্তরবঙ্গ সহ আসাম সিকিম বিহার ঝাড়খন্ডে  মাছ রপ্তানি করেন। প্রতিদিনই কয়েকশো কুইন্টাল শুধু অন্ধের মাছ এই বাজার থেকে ভীন জেলা ও রাজ্যে রপ্তানি হয়। আর ইলিশের চাহিদা বরাবরই রয়েছে। 


মালদা থেকে শিলিগুড়ি, কোচবিহার, জলপাইগুড়ির মতোন জেলাগুলিতেও ইংলিশ রপ্তানি হয়ে থাকে। কিন্তু এবার ইলিশের উৎপাদন কম হওয়ায় তার চাহিদা মেটাতে রীতিমতো কালঘাম ছুটে একাংশ মাছ ব্যবসায়ীদের। নেতাজি পুরো মার্কেট এলাকার মাছের এক আরতদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ইলিশের আমদানি ব্যাপক হয়েছে, এটা তো আমরা শুনেছিলাম। কিন্তু পর্যাপ্ত পরিমাণে ইলিশ আমাদের কাছে এখনো আসে নি। তাই দাম বেশি। এক কিলো ওজনের প্লিজ ১৮০০ থেকে ২০০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে। ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ ৭০০ থেকে ৯০০ টাকা কিলো দরে বিক্রি হচ্ছে।


 গতবছরও ইলিশের এত এত দাম ছিল না ।কিন্তু এবছর ব্যাপক দাম বেড়েছে। পর্যাপ্ত পরিমান ইলিশ আমাদের হাতে এখনো এসে পৌঁছায় নি। তাই ক্রেতাদের চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। তাহলে ইলিশ নিয়ে কি কোথাও স্টক করে রাখা হচ্ছে, সেটা বুঝা যাচ্ছে না। এদিন সকালে ইলিশ মাছ কিনতে এসেছিলেন মালদা শহরের কৃষ্ণকালিতলা এলাকার এক শিক্ষক সুবীর সেন। তিনি বলেন, শুনেছিলাম ঢালাও ইলিশের আমদানি হয়েছে এরাজ্যে। কিন্তু কোথায় ইলিশ। কিছু উড়িষ্যার ইলিশ বাংলার বলে চালানো হচ্ছে। 


আবার কিছু বাংলার ইলিশ আছে তার দাম আকাশছোঁয়া। তাই খোকা ইলিশ কিনতে বাধ্য হয়েছি। আমাদের ধারণা ইলিশ নিয়ে কালোবাজারি করা হচ্ছে। প্রশাসনকে এব্যাপারে অবশ্যই গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত। মালদা মার্চের চেম্বার অব কমার্সের সম্পাদক জয়ন্ত কুন্ডু বলেন,  মালদা থেকে বিভিন্ন জেলা ও রাজ্য বিপুল পরিমাণ মাছের রপ্তানি হয়। ইলিশ মাছের চাহিদা বরাবরই রয়েছে। এক্ষেত্রে মালদায় এবারে পর্যাপ্ত ইলিশ তুলনামূলকভাবে নামে নি। যার জন্য দাম অনেকটাই বেড়েছে। আশা করছি দু-একদিনের মধ্যে ঢালাও ইলিশ বাজারে নামবে।


মালদার সদর মহকুমা শাসক সুরেশ চন্দ্র রানো জানিয়েছেন, ইলিশ মাছ বলে কথা নয়, যে কোন প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী নিয়ে কালোবাজারির অভিযোগ এলেই সেসব এলাকায় অভিযান চালিয়ে উপযুক্ত পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.