বাংলাদেশে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর প্রথম রায় প্রকাশ
ঢাকা প্রতিনিধি, বাংলাদেশ ; পুলিশ হেফাজতে নির্যাতনে জনি নামের বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালকের মৃত্যুর অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ঢাকার পল্লবী থানার সাবেক এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে আদালত। রায়ে এসআই জাহিদ,এসআই রাশেদুল ইসলাম,এসআই কামরুজ্জামান মিন্টুর যাবজ্জীবন কারদন্ড ও প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে বাদী পক্ষকে দিতে বলা হয়েছে।
মামলার অন্য দুই আসামিকে সাত বছর করে কারাদণ্ডের পাশাপাশি ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে তিন মাসের কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। আজ বুধবার বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর দায়রা বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ এই রায় ঘোষণা করেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম পুলিশ হেফাজতে মৃত্যু মামলার রায়।গত ২৪ আগস্ট ঢাকা মহানগর দায়রা বিচারক কে এম ইমরুল কায়েশ আসামিপক্ষের যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে রায়ের এই তারিখ ঠিক করেন।
ঐদিন আসামিদের পক্ষে কয়েকজন আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়নি মর্মে খালাস চান তারা। এর আগেও কয়েকটি ধার্য তারিখে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেন।
এর আগে গত ১৯ ফেব্রুয়ারি বাদীপক্ষের আইনজীবীরা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড চান।পাশাপাশি তারা দুই লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করেন।এরপর করোনাভাইরাসের কারণে মামলাটির কার্যক্রম স্থগিত ছিল।
মামলায় এসআই জাহিদুর রহমান জাহিদ ও পুলিশের সোর্স সুমন কারাগারে ছিলেন।একই থানার এসআই রাশেদুল ইসলাম জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দিচ্ছেন।
এছাড়াও এই মামলার আসামি এসআই কামরুজ্জামান মিন্টু এবং পুলিশের সোর্স রাসেল জামিনে গিয়ে পলাতক রয়েছেন। আদালতে হাজির না হওয়ায় আদালত তাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন।
২০১৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজধানীর মিরপুরের ইরানী ক্যাম্প এলাকায় একটি গায়ে হলুদের অনুষ্ঠানে পুলিশের এক সোর্সের সঙ্গে কথা কাটাকাটি হয় বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চালক জনির। সেই রাতেই পল্লবী থানার সাবেক এসআই জাহিদসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য জনিকে থানা হেফাজতে নিয়ে নির্যাতন করে হত্যা করে বলে অভিযোগ করেন স্বজনরা।
পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন করে গাড়িচালক ইশতিয়াক হোসেন জনিকে হত্যার অভিযোগে ২০১৪ সালের ৭ আগস্ট নিহতের ভাই ইমতিয়াজ হোসেন রকি আদালতে মামলা দায়ের করেন।
আদালত মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দেন। ২০১৫ সালের ১৭ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ঢাকা মহানগর বিচারক মারুফ হোসেন বিচার বিভাগীয় তদন্ত শেষে পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করেন।২০১৬ সালের ১৭ এপ্রিল এই মামলায় এসআই জাহিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত।

Post a Comment