তিন বছর পর স্বমহিমায় মুকুল রায়
মুকুল রায় প্রভাব বিস্তারে এখন উপরে-নিচে সর্বত্রই তৃণমূল-ত্যাগীদের দাপাদাপি। ক্ষমতা পাওয়ার পর মুকুল রায় বঙ্গ বিজেপিতে দিলীপের ঘোষের আধিপত্যে ভাগ বসিয়ে দিয়েছেন। বঙ্গ বিজেপির পদাধিকারীদের বেশিরভাগই মুকুলপন্থী বর্তমানে।
বিজেপির রাজ্য কমিটিতে এতদিন দিলীপ ঘোষ ও রাহুল সিনহার অনুগামীদের প্রাধান্য থাকলেও, এবার মুকুল রায় ডালপালা বিস্তার করেছেন। তাঁর অনুগামীরাই বিভিন্ন শাখা সংগঠনের মাথায় বসেছেন। দিলীপ ঘোষের কমিটির সহ সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সম্পাদক পদেও রয়েছেন মুকুল অনুগামী বা তৃণমূল কংগ্রেস থেকে আসা নেতা-নেত্রীরা।
সর্বভারতীয় সহ সভাপতি হওয়ায় দিলীপ ঘোষের কাছে আর কোনও কাজে তাঁকে জবাবদিহি করতে হবে না। তার মধ্যে আবার মাথার উপর রয়েছে কেন্দ্রীয় বিজেপির হাত। আর রাজ্যে আগেই দিলীপের টিমে তিনি ঢুকিয়ে দিয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ঠ ও অনুগামী বলে পরিচিত সব্যসাচী দত্ত, সৌমিত্র খাঁ, ভারতী ঘোষ, অর্জুন সিং, দুলাল বর, খগেন মুর্মু, মাফউজা খাতুনদের। রাজ্য কমিটির বিভিন্ন পদে তাঁরা রয়েছেন। মুকুল রায় ২০১৯ লোকসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলে ভাঙন ধরিয়ে বিজেপিতে এনেছিলেন ওইসব নেতাদের। তাঁরা প্রায় সবাই ঢুকে গিয়েছেন বিজেপির মেন স্ট্রিমে। ফলে এঁদের উপস্থিতি মুকুল রায়কে অনেকটাই অ্যাডভান্টেজ দেবে বাংলায়। তাই এখন মুকুলের অনুগামীদের নিয়ে চলতে বাধ্য হবেন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
বিজেপিতে তৃণমূলত্যাগী ও কংগ্রেস-সিপিএম ত্যাগীরা মর্যাদা পেয়েছেন এবং গুরুদায়িত্ব পেয়েছেন। ফলে মুকুল সাজিয়ে ফেলেছেন তাঁর টিম। বিজেপির সমস্ত শাখা কমিটির মাথাতেই মুকুল-ঘনিষ্ঠরা বসে পড়েছেন। ফলে মুকুল রায় বিজেপিতে গিয়ে তিন বছরেই শাখা-প্রশাখা বিস্তার করে ফেলেছেন। এবার নিজেকে বিজেপিতে উচ্চস্থানে প্রতিষ্ঠিত করার পাশাপাশি অনুপমকেও এনে দিয়েছেন সম্মানজনক পদ। ফলে সমস্ত মুকুল-অনুগামীরাই বিজেপিতে সেটেলড।

Post a Comment