আপনারাকি জানেন ষাট-সত্তরের দশকে কলকাতা-লন্ডন বাস চলত
টালা থেকে টালিগঞ্জ এখন দূর বহু দূর মনে হচ্ছে। কিন্তু যদি বলা হয় এই কলকাতা থেকেই বাস ছাড়ত যার গন্তব্য ছিল সুদূর লন্ডন। না, কোনও মজা নয়, কোনও রাজনৈতিক মিম নয় একদম সত্যি ঘটনা।
সম্প্রতি কলকাতা থেকে লন্ডনগামী একটি বাসের ছবি ভাইরাল হয়েছে সামাজিক মাধ্যমে। যা দেখে নেট পাড়ায় ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে হইচই। নেট জনতার এক অংশ যেমন বলছে এই তথ্য সত্য ঠিক তেমনই আরেক দল বলছে ছবিটি নকল। বর্তমান যুগ সামাজিক মাধ্যমের যুগ। স্মার্ট ফোনে ধারন যে কোনো ছবি বা ভিডিও সারা বিশ্বের সাথে ভাগ করে নেন নেট পাড়ার বাসিন্দারা। আর সেই ভাইরাল ছবি বা ভিডিও এর জেরেই রাতারাতি তারকা বা খলনায়ক বনে যায় যে কেউ। এই মুহুর্তে সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রে কলকাতা লন্ডনগামী বাসের ছবি। টুইটারে শেয়ার করা এই বাসের ছবিটি সত্যি বলে জানতে পারা গিয়েছে৷
কলকাতা থেকে লন্ডন বাসে যাতায়াতের সুবিধা ছিল। একসময় যেমন এপাড়া ওপাড়া দিয়ে চলত মার্টিন ট্রেন তেমনই ১৯৬০-৬৯ সাল পর্যন্ত পৃথিবীর দীর্ঘতম রুটের ডবল ডেকার বাস ‘আলবার্ট’ ভারত এবং গ্রেট ব্রিটেন এর মধ্যে যোগাযোগ স্থাপন করতো। এই বাসটি গ্রেট ব্রিটেন থেকে ভারতে ১৫ বার এমন কি লন্ডন থেকে সিডনি ৪ বার যাতায়াত করেছিল।
লন্ডন থেকে কলকাতা যাতায়াতের নূন্যতম ভাড়া ছিল ৮৫ পাউন্ড আনুমানিক ভারতীয় মুদ্রাতে প্রায় ৮০০০ টাকা, তবে জানা যাচ্ছে, বাসটি প্রথমে লন্ডন থেকে জার্মানি, আস্ট্রিয়া বা প্যারিস হয়ে তারপর বেলগ্রেড, ইস্তানবুল, তুরস্ক, ইরানের তেহরান, আফগানিস্তানের হেরাত, কাবুল, পাকিস্তানের লাহোর হয়ে অমৃতসর থেকে দিল্লি হয়ে আসতো কলকাতায়। প্রায় ২১ বছর সার্ভিসের পর একটি দুর্ঘটনায় বাসটি যাত্রীদের ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পরে। এরপরে এন্ডি স্টুয়ার্ট নামে এক ব্যক্তি নিজের ব্যবহারের জন্য বাসটি কিনে নেন এবং পাড়ি দেন আরও ১৬,০০০ কিলোমিটার।
সূত্রের খবর ‘ আলবার্ট’ এর প্রথম যাত্রা শুরু হয় সিডনির জেনারেল পোস্ট অফিস থেকে, মঙ্গলবার, ৮ ই অক্টোবর, ১৯৬৮ সালে। বাসটি ১৩২ দিন পর সোমবার, ১৭ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৯ লন্ডনে পৌঁছায়। এই আন্ত রাষ্ট্রীয় বাসে যাত্রীদের সুবিধার্থে ছিল বিলাসবহুল আয়োজন। যাত্রীদের জন্য ছিল ভোজনশালা, লাইব্রেরী। প্রতি যাত্রীদের জন্য আলাদা শীততাপনিয়ন্ত্রিত কেবিনের ব্যবস্থাও ছিল এই আলবার্টে মজুত। দীর্ঘ যাত্রাপথে বাসটিকে কমপক্ষে ১৫০টি দেশের বর্ডার পার করে যেতে হতো।
Post a Comment